এযাবৎ প্রকাশিত ১৫০টি ভুক্তি হতে আপনার প্রয়োজনীয় শব্দটি খুঁজে নিন; প্রতিনিয়ত নতুন শব্দ ভুক্তি করার লক্ষ্যে আমাদের কর্মীগণ নিরলস কাজ করছেন।

শব্দ খুঁজুন...
সব দেখুন

বৈশিষ্ট্যসমূহ

  1. ১.বাংলা ও বঙ্গীয় ভাষা সমূহের সর্ববৃহৎ অভিধান।
  2. ২.যথাসম্ভব সকল ভুক্তির উৎস ভাষার নির্দেশ।
  3. ৩.শব্দসমূহের উৎস নির্দেশ করে তৎসম, অর্ধতৎসম, তদ্ভব, দেশী, বিদেশী ও মিশ্র শ্রেণীতে বিভাজন।
  4. ৪.প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শব্দসমূহের প্রথম লেখ্য প্রয়োগ ও অর্থের বিবর্তন নির্দেশ।
  5. ৫.প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে প্রবাদ, প্রবচন, ব্যক্তিনাম, স্থাননাম, গ্রন্থনাম, পৌরাণিক, কৌরাণিক ইত্যাদি প্রকরণ নির্দেশ।
  6. ৬.ব্যুৎপত্তি নির্দেশ— এক্ষেত্র জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাশ ও হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও অন্যান্য সূত্রকেও বিবেচনা করা হয়েছে।
  7. ৭.প্রায় প্রতিটি শব্দের বাংলা উচ্চারণ অনুসারে রোমান বানান (Romanization), সংস্কৃত শব্দের আন্তর্জাতিক মানের লিপ্যন্তর (IAST Transliteration) এবং বাংলা উচ্চারণের আন্তর্জাতিক ধ্বনিলিপি (IPA–International Phonetic Alphabet) যুক্ত করা হয়েছে।
  8. ৮.বানানের ক্ষেত্রে প্রমিত, চলিত, প্রাচীন, মধ্য বাংলা, অপ্রচলিত, আঞ্চলিক, কথ্য ও বর্জিত নির্দেশ।
  9. ৯.সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রয়োগ বাক্যের সংযোজন— সম্ভাব্য ক্ষেত্রে গ্রন্থ ও পত্র-পত্রিকা, লেখক ও প্রয়োগের সাল উল্লেখ করা হয়েছে।
  10. ১০.আত্তীকৃত আধুনিক শব্দসমূহ ও তাদের বিবর্তিত অর্থ সংযোজন করা হয়েছে।
  11. ১১.অচল-প্রচল বিবেচনা না করে সাহিত্যে ব্যবহৃত সকল শব্দকে শব্দকোষে স্থান দেওয়া হয়েছে, যাতে পুরোনো সাহিত্যের পাঠকদের ও সাহিত্যের শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধা হয়।
  12. ১২.অল্প প্রচল হলেও ধর্ম সম্পর্কিত প্রচুর আরবি, পালি, ফারসি ও সংস্কৃত শব্দকে ভুক্তি করা হয়েছে।
  13. ১৩.আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রকৌশল সংক্রান্ত অধিক সংখ্যক পারিভাষিক শব্দ সংযোজন করা হয়েছে এবং বাংলা পরিভাষাও যুক্ত করা হয়েছে।
  14. ১৪.অধিক সংখ্যক দাপ্তরিক পারিভাষিক শব্দকে ভুক্তি করা হয়েছে।
মোট ভুক্তি১৫০টি
অ১৪০টি
আ১টি
ই১টি
প৪টি
ব৩টি
স১টি
প্রমিত১১৯টি
চলিত৪টি
প্রাচীন বাংলা৭টি
মধ্য বাংলা৩টি
আঞ্চলিক৬টি
কথ্য২টি
অপ্রচলিত৮টি
বর্জিত১টি
আরবি২টি
ইংরেজি১টি
তৎসম২টি
ফারসি৪টি
বাংলা১০টি
ব্রজবুলি৪টি
সংস্কৃত১১১টি
তৎসম৯২টি
তদ্ভব১৫টি
দেশী১৩টি
বিদেশী৬টি
মিশ্র৬টি
পৌরাণিক৩টি
আলঙ্করিক৪টি
গণিত৩টি
জ্যোতিষ১টি
বিজ্ঞান২টি
ব্যাকরণ১টি
ভূগোল১টি
শরীরবিদ্যা২টি

এডুলিচার শব্দকোষ

বিশুদ্ধ জ্ঞানের প্রসার ও শিক্ষার বিকাশে নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ‘এডুলিচারে’র অন্যতম বিশেষ উদ্যোগ ‘এডুলিচার শব্দকোষ’। এটি কোনো একক মৌলিক রচনা নয়; বরং অষ্টাদশ শতকের প্রারম্ভ থেকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের দীর্ঘ অভিযাত্রায় রচিত বিভিন্ন অভিধান এবং হালের বাংলা একাডেমি প্রকাশিত অভিধানসমূহের একটি সুশৃঙ্খল ও সমন্বিত সংকলন। বাংলা ভাষার শব্দসম্পদ, তার ঐতিহাসিক বিবর্তন, ব্যুৎপত্তি ও অর্থবৈচিত্র্যকে একই আধারে ধারণ করাই এই উদ্যোগের মূল অভিপ্রায়।

প্রণম্য পূর্বজদের সাধনার উত্তরাধিকার

বাংলা অভিধান-সাহিত্যের ইতিহাসে কয়েকটি কালজয়ী ও মৌলিক কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয়— ‘প্রকৃতিবাদ অভিধান’, ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ এবং হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনন্যসাধারণ ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’। বাংলা ভাষার শব্দসম্পদ সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণে এসব গ্রন্থের অবদান অতুলনীয়। বিশেষত ‘বঙ্গীয় শব্দকোষ’-এর পর বাংলা অভিধানচর্চায় তেমন কোনো পূর্ণাঙ্গ মৌলিক উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি বলেই মনে হয়; পরবর্তী অনেক সংকলনই পূর্বসূরিদের শ্রমসাধ্য কাজের পুনর্বিন্যাস ও পুনঃসংকলনে সীমাবদ্ধ থেকেছে।

‘এডুলিচার শব্দকোষ’ও সেই পূর্বসূরি-নির্ভর ধারার বাইরে নয়। তবে এর লক্ষ্য নিছক পুরোনো উপাদানের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং বিচ্ছিন্ন ও বহুল বিস্তৃত শব্দসম্পদকে যথাসম্ভব সুসংহত, সহজলভ্য ও ব্যবহারোপযোগী করে তোলা। পূর্বজদের জ্ঞানসাধনাকে ভিত্তি করে আধুনিক পাঠক, শিক্ষার্থী, লেখক ও গবেষকদের প্রয়োজনের সঙ্গে তার সংযোগ স্থাপন করাই এই প্রকল্পের প্রত্যাশা। অতীতের প্রজ্ঞা ও বর্তমানের প্রয়োজনের মধ্যে সেতুবন্ধ রচনা করে ‘এডুলিচার শব্দকোষ’ বাংলা ভাষা ও জ্ঞানচর্চায় অন্য সব সংকলনের তুলনায় অধিক কার্যকর ও উপকারী হয়ে উঠবে— এটাই আমাদের আন্তরিক আশা।

শব্দ হোক বিশুদ্ধজ্ঞানের হাতিয়ার

এই বৃহদভিধান বাংলা ও বঙ্গীয় ভাষাসমূহের বিস্তৃত শব্দভাণ্ডার, শব্দের উৎস, ব্যুৎপত্তি, অর্থবিবর্তন ও প্রয়োগের একটি সমৃদ্ধ সংকলন। এতে সংস্কৃত, বাংলা, আরবি, ফারসি, পালি, হিন্দি, ইংরেজি, ফরাসি ও অন্যান্য ভাষা থেকে আগত শব্দের পাশাপাশি প্রমিত, চলিত, কথ্য, আঞ্চলিক, প্রাচীন, মধ্যবাংলা, অপ্রচলিত ও বর্জিত শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শব্দের উৎসভাষা, শ্রেণিবিভাগ, উচ্চারণ, রোমান বানান, সংস্কৃত শব্দের IAST লিপ্যন্তর এবং বাংলা উচ্চারণের IPA নির্দেশের পাশাপাশি যথাসম্ভব প্রথম লিখিত প্রয়োগ, অর্থের বিবর্তন ও সাহিত্যিক উদাহরণও সংযোজিত হয়েছে।

ভাষা ও সাহিত্যের পাশাপাশি ধর্ম, দর্শন, ইতিহাস, পুরাণ, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন শাস্ত্রের পারিভাষিক শব্দ ও প্রয়োজনীয় পরিচয় এতে স্থান পেয়েছে। প্রবাদ-প্রবচন, ব্যক্তিনাম, স্থাননাম, গ্রন্থনাম, দেশি-বিদেশি নামের ব্যুৎপত্তি, মুদ্রা, পরিমাপ, সংক্ষেপ, মুদ্রণচিহ্ন ও বানানবিধিও এই অভিধানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। প্রাচীন ও আধুনিক— উভয় যুগের শব্দ ও জ্ঞান-ঐতিহ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে অভিধানটি বাংলা ভাষার ইতিহাস, বিবর্তন ও বহুমাত্রিক প্রকাশকে তুলে ধরতে চায়। এটি পাঠক, লেখক, শিক্ষার্থী, সম্পাদক ও গবেষকদের জন্য একটি বিস্তৃত ও ব্যবহারিক শব্দতথ্যভাণ্ডার।