এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।
সংস্কৃত

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 50 টি।

বিশেষ্য অকার; বাংলা বর্ণমালার প্রথম বর্ণ, আলিকালির প্রথম বর্ণ ও বাংলা স্বরবর্ণের প্রথম বর্ণ। ‘অকার হকার বর্ণে আকার সংযুক্ত।‘ রামপ্রসাদ, ১৭৮০। দেখুন অকার। ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত হলে অন্যান্যস্বর রূপান্তরপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু অকারের চিহ্ন থাকে না (ক্ + অ = ক)। উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ, তাই কণ্ঠ্যবর্ণ। বাংলায় উচ্চারণ প্রধানত ৪ প্রকার — লঘু স্পৃষ্ট (অর্থ, অদ্বৈত ইত্যাদির অ)। স্পষ্ট (অতল, অজ, অন্যায় ইত্যাদির অ)। লঘু বা অর্দ্ধব্যক্ত ওকারের মত (কলিকা, রজনী, ললিত ইত্যাদির ক্, জ্, ল্ সংযুক্ত অ = অ, ক, জ, ল)। পূর্ণব্যক্ত ওকারবৎ (অতিশয়, অনুরোধ ইত্যাদির অ বা মন, যদু ইত্যাদির ম্, য্ সংযুক্ত অ = ‘ওতিশয়’, ‘ওনুরোধ’, ‘মোন’ এবং ‘যোদু’)।
ব্রজবুলি এবং হিন্দীতে ঈষৎ স্পৃষ্ট বা লঘু আকারের ন্যায় উচ্চারিত, তাই ‘অতি’ অনেকটা ‘আতি’র মত। প্রাচীন বাংলায় ‘অতি’ স্থলে ‘আতি’র প্রয়োগও দৃষ্ট হয়। আধুনিক শুদ্ধ উচ্চারণ ‘ওতি’। ‘অজ’র ‘অ’ উচ্চারণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণগুলির অকারান্ত উচ্চারণ় বাঙ্গালা ভাষারই বিশেষত্ব। সাধারণত অ পরে অকার বা আকারযুক্ত ব্যঞ্জন থাকলে অকারের উচ্চারণ বজায় থাকে (অজ, অজা); ি, ী, ু, ূ, যুক্তব্যঞ্জন থকলে ওকারবৎ (অতি, অতীত, অরুণ) এবং পরে ো থাকলে অ (অতো, অহো)। সংস্কৃত অভিধানে ‘অ’র হ্রস্ব, দীর্ঘ, প্লুত, অননুনাসিক, উদাত্ত, অনুদাত্ত, স্বরিত ইত্যাদি ১৮ প্রকার উচ্চারণ ও স্বরভেদ উল্লেখিত হয়েছে।
সাধারণত নিষেধবাচক এই অর্থে অ অন্য শব্দের সংযোগ ব্যতীত প্রযুক্ত হয় না। অ নঞার্থক এই অব্যয়ের রূপান্তর স্বরূপ। নঞ্ (ন্ + অ + ঞ্)-এর ‘অ’ অন্য শব্দের পূর্বে তৎপুরুষ সমাস হিসেবে যুক্ত হয়ে অভাব, অল্পতা, অপ্রশস্ততা, অন্যত্ব, সাদৃশ্য ও বিরোধ এই ৬ প্রকার অর্থ প্রকাশ করে। অভাবার্থে — “অচক্ষু সর্ব্বত্র চান,” — অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। “অগতির গতি”- ব্রহ্মসঙ্গীত। অবস্তু (no-thing); অনঙ্গ [অ (অন্) + অঙ্গ (অ স্বরবর্ণের পূর্ব্বে থাকিলে ‘অ’ স্থানে ‘অন্’ হয়)] অল্পতা অর্থে — অবোধ (অল্পবুদ্ধি); অনায়াস (অল্প আয়াস); অনুদরী (অল্পোদরী, কৃশোদরী বা মন্দোদরী) কন্যা। অপ্রশস্ততা অর্থে — (অপ্রশস্ত, অবৈধ, অশুভ, অপরিণত, অযথা, অযোগ্য ইত্যাদি বোধক) অকালবোধন; অক্ষত্রিয় আচরণ; অলক্ষণ; অসময় ইত্যদি। অন্যত্ব অর্থে — অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ ভিন্ন অন্যজাতি)। “কহিলেন — অ-ব্রাহ্মণ নহ তুমি, তাত! তুমি দ্বিজোত্তম, তুমি সত্যকুলজাত!” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অঘট (ঘট ভিন্ন অন্য পদার্থ)। সাদৃশ্য অর্থে — অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ-সদৃশ; ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য)। এই অর্থে বিরল। বিরোধ অর্থে — অসুর (সুরবিরোধী); অহিন্দু আচরণ (হিন্দু-বিরোধী আচরণ); অশাস্ত্রীয় (শাস্ত্র-বিরোধী ইত্যাদি)।
[বাংলার এই নঞ্‌অর্থক উপসর্গ = ইংরেজি নঞ্‌অর্থক উপপদ (prefix) a, ib, im, in, no, non, ir, un ইত্যাদির তুল্য। ইংরেজি un, on = আইরিশ — o (অ) = সুই়ডিশ – o = ডেনিশ – u. সংস্কৃতমূলক ভারতীয়, সিংহলী, ব্রহ্ম ইত্যাদি যাবতীয় ভাষার আদ্যক্ষরের উচ্চারণ বাংলা ‘অ’ এবং লঘু আকারযুক্ত হিন্দি ‘অ’র তুল্য। ফিনিক্, হিব্রু, তুর্কী, আরবী, ফার্সী ইত্যাদি সেমেটিক ভাষাগুলির আদ্যক্ষরের উচ্চারণ ‘আলিফ্’ এবং য়ুরোপীয় বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘এ’; গ্রীক ‘অ্যাল্ফা’] – বাঙ্গালা ভাষার অভিধান দেখুন।
সন্ধির নিয়মে একার বা ওকারান্ত পদের পরবর্তী অ লুপ্ত হলে মাত্রাহীন হকার ‘ঽ’ রূপ ধারণ করে। একে লুপ্ত অকার বলা হয়। ‘সোহহম্’ (সঃ = সো + অহম্ এর অ = ‘হ’)। প্রণব (ওঁ = অ + উ + ম) এর প্রথম বর্ণ। তন্ত্রে অকারের সৃষ্টি, অমৃত, ললাট, কণ্ঠ ইত্যাদি ১৭ প্রকার অর্থ আছে, কিন্তু বাংলায় সে সকল অর্থে প্রয়োগ নাই। অ প্রাচীন বাংলায় এ, ও, য়, এবং হ স্থলে বসতো। এখন স্থলে ‘অখন’- “অখনে দেখিয়া আইস পুরী আপনার”- মুকুন্দরাম, জগবিজয়। রাখিও স্থলে ‘রাখিঅ’- “না কহিয় কার ঠাই রাখিঅ অন্তরে,” — চম্পক-কলিকা। নয়ন স্থলে ‘নঅন’, নায়ক স্থলে ‘নাঅক’ ইত্যাদি। প্রাকৃতে ‘য়’ স্থলে ‘অ’ ব্যাকরণ-সঙ্গত। প্রাচীন বাংলায় কথার মাত্রাস্বরূপ — কিঅ, কেঅ, তুঅ, লঅ ইত্যাদি। বৌদ্ধ বা অতি প্রাচীন বাংলায় গ স্থলে-‘গঅণ’ (গগণ) – চর্যাপদ ৮।২।১৪।৩ ইত্যাদি। চ স্থলে “অনিমিষ লোঅণ (লোচন)।” দোহা। জ স্থলে-‘গঅবর’ (গজবর), ‘গঅন্দ, গএন্দ’ (গজেন্দ্র) – চর্যাপদ ৮।২।১৪ ইত্যাদি। ‘তেঅ’ (তেজ) – বৌদ্ধগান দোহা। ‘নিঅমন’ (নিজমন) – চর্যাপদ। ত, ত্ত স্থলে-‘পণ্ডিঅ’ (পণ্ডিত), ‘অদভূঅ’, ‘অমিঅ’, ‘অমিআহ’ (অদ্ভুত, অমৃত, অমিতাভ); ‘অনুঅর’, ‘বোহি-চিঅ’ (অনুত্তর, বোধিচিত্ত) – বৌদ্ধগান দোহা। র স্থলে – ‘কঠিন পূহবিঅ’ (পৃথিবীর) – বৌদ্ধগান দোহা
অব্যয় অনুকম্পা; সম্বোধন; খেদ ইত্যাদি অর্থে (প্রাচীন বাংলা)। ‘অ প্রাণ সুণিআঁ কি বুলিহে বলভদ্র ভাই।’ “অ প্রাণ ধারণ না জাএ সুন্দরি রাধে।” – বড়ুচণ্ডীদাস, ১৪৫০। বিশেষ্য বিষ্ণু। – মেদিনীকোষ ব্রহ্ম। “অকার কেবল ব্রহ্ম একাক্ষর কোষে।” – অমরকোষ টীকা
[প্রাচীন বাংলা। অই সংক্ষেপে ও প্রাদেশিক উচ্চারণে। তুলনামূলক — তে (তে কারণ); তুলনামূলক ই] বিশেষণ স, অই, ঐ, এই, সেই। ‘সরিষার রূপ হয়য়া দুবায় লুকাইল। অ কারণে খেতু কান্দিবার লাগিল।’ — মাণিকরাম গাঙ্গুলীর ধর্ম্মমঙ্গল। ১৭৮১।
[বিজ্ঞান] বিশেষ্য, অক্সিজেন বা অম্লজানের সাঙ্কেতিক চিহ্ন।
বাংলা বিভক্তিবিশেষ। ‘সুণ মায় যশোদাঅ তোহ্মারে বুঝাওঁ। ‘বড়ুচণ্ডীদাস, ১৪৫০।
অই [সংস্কৃত, অদস্ প্রথমা, বহুবচন — অমী = প্রাকৃত, অঈ; বৌদ্ধ বাংলায় অই (চর্যাপদ ২৬।২) = আধুনিক বাংলায় অই (পদ্যে ও সঙ্গীতে) = ঐ (গদ্যে এবং ছন্দার্থে পদ্যে)] সর্বনাম সে। ‘জখনে জন্মিল অই বাপের ভবনে।‘ মালাধর বসু, ১৫০০। সেই। ‘অই নিমিত্তে সদাই কলি মোর কর্মের ফল।‘ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০। বিশেষণ ওই। ‘অই ঠাকুরের কেশ শোভে নানা ফুলে।‘ বৃন্দাবন দাস, ১৫৮০। উচ্চারণ সাদৃশ্যের জন্য ‘অই’ স্থলে পদ্যে ‘ওই’ সংক্ষেপে ‘ও’ এবং ‘ঐ’ [ঐ, ও, ওই দ্রষ্টব্য] ব্রজবুলি, প্রাচীন-বৈষ্ণবসাহিত্য, ‘অই’ স্থলেও ‘ও’ এবং ‘উহ’। “উহ রসময়ী ইহ রসিক-শিরোমণি,” – জ্ঞান দাস। “ও নব জলধর অঙ্গ। ইহথির বিজুরী তরঙ্গ।”- গোবিন্দ দাসঅব্যয় পুরোভাগে; ইন্দ্রিয় গোচরে; সম্মুখে। “অই যে জগৎ জাগে, স্বদেশ অনুরাগে।” — আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ওখানে; যথায় বিরাজ করিতেছে ঠিক সেই স্থানে। “অই শশী অই খানে, এই স্থানে দুইজনে,” — হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অদূরে। দূরে। অনন্য; নির্দিষ্ট। উক্ত; উল্লিখিত। স্মরণ সূচক। দোষ বা ভয় প্রর্দশন সূচক।
অইক্ষর [সংস্কৃত অক্ষর] বিশেষ্য, বর্ণ; হরফ। ‘রাধা নাম অইক্ষর লেখএ নিজ অঙ্গে।‘ মালাধর বসু, ১৫০০
অইপন [সংস্কৃত আলিম্পন] বিশেষ্য আলপনা। ‘পঁউঅ নাল অইপন ভল ভেল।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অইল [প্রাদেশিক] বিশেষ্য, অম্লকূচির গাছ; ইহার কষ লাগাইয়া চামড়া নরম, পরিস্কার ও রং করা (Tan) হয়।
অইল [সংস্কৃত বলীক, “বলীক নীধ্রে পটল-প্রান্তে,” — অমরকোষ] বিশেষ্য, চালের ছাঁইচ। অইলতলা — বিশেষ্য, ছাঁচ-তলা; ওল-তলা (দ্রষ্টব্য)।
অইল [অ = হ-প্রাদেশিক সিলেট, বাংলাদেশ] ক্রিয়া, হইল।
অইস [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ; এমন। ‘রাউতু ভণই কট ভুসুকু ভণই কট সঅলা অইস সহাব।‘ চর্যাপদ ১২০০। ‘অইস সহাব’ — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি।
অইসন [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ। ‘অইস সহাব’ — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি
অইসেঁ বানানভেদ অইসে, অইসো [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ। “অইস সহাব” — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি
অইসো বানানভেদ অইসে, অইসেঁ [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ। “অইস সহাব” — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি
অউপকারী [সংস্কৃত ন=অ + উপকারী] বিশেষণ, উপকার করে না এমন; অনুপকারী। ‘তোমা প্রতি উপকারী কিবা অউপকারী।‘ সৈয়দ সুলতান, ১৬৫০।
অঋণী [সংস্কৃত অঋণিন্। অ (না, নহে) + ঋণিন্ (ঋণ- গ্রস্ত)] বিশেষণ, যে কারও কিছু ধার করেনি; যার উপস্থিত ঋণ নেই; ঋণমুক্ত; যে ঋণ পরিশোধ করেছে। ঋণী নয় এমন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; তিনিও মনুষ্য জাতির নিকট অঋণী হইতে পারেন না।‘ বঙ্গদর্শন, ১৮৭২। দেবঋণ, ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ নামক ঋণত্রয় হইতে যাগ, যজ্ঞ, দান ও সন্তানোৎপাদনদ্বারা মুক্ত।
অক [প্রাচীন বাংলা। তুলনামূলক ‘অকু’] বিশেষ্য এই স্থান। ‘অক ছাড়িয়া রাজা নিজায় গমন।’ — ধর্ম্মমঙ্গল, মাণিক গাঙ্গুলী
অক [সংস্কৃত অগ, অঘ, ইংরেজি ache] বিশেষ্য রোগ; পাপ; অশান্তি; ক্লেশ [বাংলায় প্রয়োগ অভাব বা বিরল প্রয়োগ] ক্রিয়া [অক্ বক্র গমনে] বক্রভাবে গতি করা বা বৃদ্ধি পাওয়া। আঁকাবাঁকা (দ্রষ্টব্য)।
অক [তুর্কী অক-বাবা। “a fabulous bird of the vulture kind which lives 1000 years.” — Herbelot quoted by Brewer] বিশেষ্য ইসলামীয় পুরাণ ও গল্পের মহাকায় পক্ষী বিশেষ। তুলনামূলক – বক পাখী (আলাদিনের গল্প)।
অকচ [সংস্কৃত ন = অ (নাই)-কচ (কশ) যার — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ কেশরহিত; নেড়া; টেকো। [চুল নাই – মাথা নাই বলে] কেতুগ্রহ। স্ত্রীলিঙ্গ অকচা।
অকটু [সংস্কৃত ন = অ + কটু (নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস)] বিশেষণ কটুতা-রহিত; অতিক্ত; স্বাদু; মধুর। বিশেষ্য অকটুতা।
অকঠিন [সংস্কৃত ন = অ + কঠিন (নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস)] বিশেষণ কোমল; সুকুমার; মৃদু। বিশেষ্য অকঠিনতা, অকঠিনত্ব (-ন-)।
অকঠোর [সংস্কৃত ন = অ + কঠোর (নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস)] বিশেষণ অকঠিন; যে বস্তু শক্ত নয়। [বিষয়] দুরূহ নয়; সহজ; সরল; সুখবোধ্য; সহজ ও স্বাভাবকি। ‘বালকের মনে মৃত্যুর মূর্তি অত্যন্ত অকঠোর হইয়া আসে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৩। [বাক্য ইত্যদি] উগ্র বা রুক্ষ নয়; অকর্কশ। [হৃদয়, স্বভাব ইত্যাদি] সদয়; কোমল। বিশেষ্য অকঠোরতা, অকঠোরত্ব।
অকণ্টক [সংস্কৃত ন = অ-কণ্টক (কাঁটা) যাতে – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ কাঁটা নেই এমন; কণ্টকরহিত; কাঁটাশূন্য। ‘পথ অকণ্টক করা।’ ‘অকণ্টক হইল বিক্ষ অতি ষুমঙ্গল।‘ মালাধর বসু, ১৫০০। [শত্রু কণ্টক স্বরূপ ক্লেশকর বলে] শত্রু রহিত; নিষ্কণ্টক; নিরাপদ; নিরুপদ্রব; নির্বিঘ্ন। প্রয়োগ — ‘রাজ্য অকণ্টক করা।’ … ‘গ্রাম অকণ্টক হইয়াছে।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪। ক্রিয়া-বিশেষণ অকন্টকে — নির্বিঘ্নে; নিরাপদে; অবাধে। ‘পুনর্বার অকণ্টক রাজ্যপ্রাপ্ত হইয়াছে।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৩। ‘অকন্টকে রাজ্য ভোগ।’ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৩
অকণ্টকে [সংস্কৃত] ক্রিয়া-বিশেষণ নির্বিঘ্নে; নিরাপদে; অবাধে। ‘বহুকাল অকণ্টকে রাজ্যভোগ করিতে পারিবে।’ — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৪৭।
অকণ্ঠস্থ [সংস্কৃত ন = অ-কণ্ঠ + স্থা + অ (কর্তৃবাচ্যে)] বিশেষণ প্রকৃতপক্ষে যা কণ্ঠে ধারণ করা বা যা কণ্ঠাগত হয় নি। মুখস্থ করা নয়; অনভ্যস্ত।
অকথন [সংস্কৃত ন = অ (অনুচিত)-কথন (কথা)] বিশেষ্য, কুকথা; অন্যায়োক্তি; কথায় প্রকাশ করা যায় না এমন। বিশেষণ, কথনের অযোগ্য; অবক্তব্য। ‘অকথন বেয়াধি এ, কহা নাহি যায়।’ — চণ্ডীদাস, ১৫৫০।
অকথনীয় [সংস্কৃত ন = অ-কথনীয় (বলার উপযুক্ত, বক্তব্য)। কথনীয় দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, বলার অনুপযুক্ত; অনির্বচনীয়; যা বলা উচিত নয়; যা কথা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না; বর্ণনাতীত। — ‘বালকদিগের আপন২ ভাষা শিখিবার জন্য অকথনীয় উপকার হয়।‘ সমাচার দর্পন, ১৮৩৪। অকথ্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।। স্ত্রীলিঙ্গ, অকথনীয়া [ন = অ (কুৎসিত)-কথা] বিশেষ্য, কুকথা; কুৎসিত কথা; অশ্লীল কথা; যে কথা মুখে আনা যায় না বা বলতে লজ্জা হয়; অশিষ্ট বাক্য; অনুচিত কথা। বিশেষণ, অকথিতা।
অকথনীয়া [সংস্কৃত ন = অ (কুৎসিত)-কথা] স্ত্রীলিঙ্গ, বিশেষ্য কুকথা; কুৎসিত কথা; অশ্লীল কথা; যে কথা মুখে আনা যায় না বা বলতে লজ্জা হয়; অশিষ্ট বাক্য; অনুচিত কথা। বিশেষণ অকথিতা।
অকথ্য কথন [সংস্কৃত ন = অ + কথ্য + কথন] বিশেষ্য বলা যায় না এমন কথা; অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ; গালি। ‘চৈতন্যের ভক্তবাৎসল্য অকথ্যকথন।‘ কৃষ্ণদাস কবিরাজ, ১৫৮০। বলার মতো নয় এমন কথা। ‘উচিত কহিতে লাজ অকথ্য কথন৷’ আলাওল, ১৬৫১।
অকথ্য কথা [সংস্কৃত ন = অ + কথ্য + কথা] বিশেষ্য, বলার মতো নয় এমন কথা; অকথ্যকথন। সমাচার দর্পণ, ১৮৩৮।
অকনিষ্ঠ [সংস্কৃত] বিশেষণ যার কনিষ্ঠ নাই। [অক (পাপ-বেদনিন্দাজনিত অধর্ম) নিষ্ঠ (রত)-আক্রোশোক্তি] বিশেষ্য, বুদ্ধদেব।
অকপটচিত্ত [সংস্কৃত ন = অ + কপট + চিত্ত] বিশেষণ সরলমনা৷ ‘পিতা আমার অতি নিরীহ অতি সরল, অতি অকপটচিত্ত৷’ দীনবন্ধু মিত্র, ১৮৬০।
অকপটচিত্তে [সংস্কৃত] ক্রিয়া-বিশেষণ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; স্পষ্ট কথায়। গোপন না করে; খুলে; অকপটে।
অকপটভাবে [সংস্কৃত] ক্রিয়া-বিশেষণ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; স্পষ্ট কথায়। গোপন না করে; খুলে; অকপটে।
অকপটে [সংস্কৃত ন = অ + কপট + বাংলা এ] ক্রিয়াবিশেষণ বিনা দ্বিধায়। ‘আচার্য্য বলে অকপটে করহ আহার৷’ কৃষ্ণদাস কবিরাজ, ১৫৮০; ‘অকপটে দিব পরিচয়৷’ মুকুন্দ দাস, ১৬০০। আন্তরিকভাবে। ‘তুমি হৃদয়ের দ্বার মুক্ত করে অকপটে বল, ইনি কে’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৭৩।
অকবি [সংস্কৃত ন = অ-কবি] বিশেষণ কবি নয় এমন ব্যক্তি; কবিত্ববিহীন; অপ্রসিদ্ধ; অকৃতী; কবিনামের অযোগ্য; রসজ্ঞান হীন। ‘আশে পাশে ঘোরে ঝিটা — নিতান্ত অকবি!’ — দ্বিজেন্দ্রলাল রায়; ‘কবি হোক, অকবি হোক, কারো সঙ্গে তরকার করার চেয়ে … একটা গান লেখা ভালো৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯১; ‘কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে।‘ কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২৬।
অকবিজনোচিত [সংস্কৃত] ক্রিয়াবিশেষণ রসবোধহীন। ‘একটা অকবিজনোচিত কথা স্বীকার করতে লজ্জা বোধ হত।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৪।
অকম্পন [সংস্কৃত ন = অ-কম্প (কাঁপা) + অন্ (ভাববাচ্যে)] বিশেষ্য কম্পনশূন্য; স্থির। রাবণের একজন সেনাধ্যক্ষ। ‘অকম্পন রণে ধীর, যথা ভূধর, পড়েছে সহ অতিকায় রথী।’ — মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত
অকম্পনীয় [সংস্কৃত] বিশেষণ কম্পনের অয্যোগ্য। কম্পন-অসাধ্য।
অকম্পিত [সংস্কৃত ন = অ-কম্পিত] বিশেষণ কাঁপে না এমন; কম্পনরহিত; অচঞ্চল; স্থির; ধীর। ‘অকম্পিত কলেবর, অকম্পিত কণ্ঠ, অকম্পিত চরণ’; ‘স্বচ্ছ সরোবরে অকম্পিত চন্দ্রকরচ্ছায়া।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯২। ভয়ে কাঁপেনি এমন। ‘অকস্পিত বক্ষ প্রসারিত৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩২। বিশেষ্য [যাঁদের বুদ্ধি চাঞ্চল্য নাই] বৌদ্ধসম্প্রদায়ের গণাধিপতি বিশেষ। [নাট্য শাস্ত্র, অঙ্গাভিনয়ে] উপদেশ, অনুসন্ধান ইত্যাদি স্থলে কম্পিত মস্তকের ধীর গতি। স্ত্রীলিঙ্গ অকম্পিতা।
অকম্প্য [সংস্কৃত] বিশেষণ কম্পনের অয্যোগ্য। কম্পন-অসাধ্য।
অকম্প্র [সংস্কৃত ন = অ-কম্প্র। কম্প + র] বিশেষণ অকম্পিত; স্থির; স্থিরভাবে জ্বলে এমন। ‘এ দায়িত্ব সেই শিল্পী এবং মনীষীরাই পালন করতে পারবেন যাদের আত্মদীপ অকম্প্র৷’ শিবনারায়ণ রায়, ১৯৫০; ‘অকম্প্র নেত্র’; ‘সমরে অকম্প্র’ (কম্প্র)।
অকম্মা, অকর্মা [সংস্কৃত ন = অ+কর্ম>] বিশেষ্য কুঁড়ে৷ ‘অকম্মা খালি তাড়ি গিলচে৷’ হাসান আজিজুল হক, ১৯৬০।
অকর [সংস্কৃত ন = অ-কর (হস্ত)-বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ যার কর নাই; হস্তশূন্য। ক্রিয়া-বিশেষণ করহীন হইয়া; কর ব্যতিরেকে।
অকর [সংস্কৃত] বিশেষণ শুল্কের অযোগ্য; রাজভাগরহিত; নিষ্কর; tax or rent-free. ‘অকর ভূমিকে সকর করত সহস্রকর সূর্য্যের ন্যায় কর শোষণ করিয়াছিলেন।‘ সংবাদ প্রভাকর, ১৮৫২।
অকরণ [সংস্কৃত ন = অ-করণ] বিশেষ্য না করা; অননুষ্ঠান; অক্রিয়া; নিবৃত্তি। অনুচিত কর্ম। নির্গুণ ব্রহ্ম; সর্বকর্ম রহিত পরমাত্মা। [সংস্কৃত করণ = ইন্দ্রিয়] বিশেষণ ইন্দ্রিয়াদি হীন; অবয়ব হীন; নিরাকার।
অকরণি [বাংলা অনুবাদ গ্রন্থে, অন্যত্র বিরল। ‘শাপে আক্রোশে অকরণিরিত্যা-দয়ঃ’ — অমরকোষ টীকা] বিশেষ্য ক্রোধে অধীর হয়ে কারও প্রতি অনিষ্ট-সূচক বাক্যপ্রয়োগ; অভিশাপ; আক্রোশ।
অকরণী (-র-) [গণিত পরিভাষা। ন = অ-করণী (যে রাশির মূল সূক্ষ্মরূপে বাহির করা যায় না)] বিশেষ্য যে রাশির মূল আকর্ষণ অর্থাৎ বের করলে বা ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে না। সাঙ্কেতিক চিহ্ন √; যথা— √4 = 2; √9 = 3 rational quantity.
অকরণীয় [সংস্কৃত ন = অ + করণ] বিশেষণ করা উচিত নয় এমন; অকর্তব্য; অনুষ্ঠানের অযোগ্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘প্রভুর অকরণীয় সমুদায় কার্য্যে …।‘ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৭৯।
অকরুণ [সংস্কৃত ন = অ-(নাই) করুণা (দয়া) যার — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ করুণা-রহিত; নিষ্ঠুর; নির্দয়; নির্মম। ‘কিবা তুমি কর ভয় বন্ধু তোর নহে অকরুণ।’ — দ্বিজ চণ্ডীদাস, ১৬০০। অসংবেদনশীল। ‘আমার অকরুণ সমালোচক বলেছেন …।‘ প্রমথ চৌধুরী, ১৯২৮। স্ত্রীলিঙ্গ অকরুণা।
অকরুণা [সংস্কৃত] বিশেষ্য, স্ত্রীলিঙ্গ করুণাহীন যে। ‘অকরুণা! প্রাণ নিয়ে এ কি মিথ্যা অকরুণ খেলা।‘ কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২৩।
অকরোটী [সংস্কৃত ন = অ (অভাব বা অল্পতা)- করোটী (মাথার খুলি)] বিশেষ্য যে সকল জন্তুর মাথার খুলির সম্পূর্ণ বা আংশিক অভাব আছে (এই সকল জন্তু পঞ্জরী প্রাণীর নিম্নস্তরে অবস্থিত) Acrania.
অকর্কশ, অকর্ক্কশ [সংস্কৃত ন = অ-কর্কশ] বিশেষণ কার্কশ্যরহিত; কোমল; নরম; কর্কশ নয় এমন৷ ‘প্রসন্নভাবে অকর্কশ মৃদু বচনে করাই শ্রেয়ঃকল্প।‘ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৪। মসৃণ। স্ত্রীলিঙ্গ অকর্কশা।
অকর্ণ [সংস্কৃত ন = অ-নাই) কর্ণ যার — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ শ্রবণেন্দ্রিয়হীন। ‘অচক্ষু সর্বত্র চান, অকর্ণ শুনিতে পান, অপদ সর্বত্র গতাগতি।’ — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। যে কানে শোনে না; বধির; বদ্ধকালা।
অকর্ণ [সংস্কৃত অ (অভাবার্থে)-কর্ণ (সূতপুত্র রাধেয়) = অঙ্গরাজ মহাবীর কর্ণ] বিশেষণ কর্ণশূন্য (তুলনামূলক — ‘অরাম বা অরাবণ।’ — মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)।
অকর্ণ [সংস্কৃত ন = অ (নাই) কর্ণ (হাল) যার – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ হালশূন্য (নৌকা) [প্রয়োগের অভাব/বিরল প্রয়োগ]। [সর্পের কর্ণ নাই, চক্ষুই তার কর্ণের কার্য্য করে বলিয়া] সর্প [অপ্রচলিত]।
অকর্ণধার [সংস্কৃত ন-কর্ণধার] বিশেষণ নাবিকহীন; চালকহীন।
অকর্তন, অকর্ত্তন [সংস্কৃত] বিশেষ্য অচ্ছেদন। বিশেষণ ঈষৎ খর্ব।
অকর্তব্য, অকর্ত্তব্য [সংস্কৃত ন = অ-কর্তব্য। কৃ-করা + তব্য (ভাববাচ্যে)-করণ-যোগ্য] বিশেষণ করার অনুপযুক্ত; অকরণীয়; অননুষ্ঠেয়। অনুচিত। ‘তাহার রাজ্যে আমার কর্তৃত্ব করিয়া কার্য্য করা অকর্ত্তব্য৷’ রামরাম বসু, ১৮০১; ‘অকর্তব্য৷’
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪৷ অপারগ। ‘করিতে অকর্ত্তব্য।‘ উইলিয়ম কেরি, ১৮০২৷ বিশেষ্য অকর্তব্যতা; অনৌচিত্য। ‘কর্তব্যনীতির সঙ্গে ধর্মনীতির বিচ্ছেদসাধন করায় অকর্তব্য নাই।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩৭৷
Scroll Up