web analytics
এযাবৎ 804 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলা বর্ণ

প্রকাশিত ভুক্তি 804 টি।

এ পাতায় আছে 3 টি।

বিশেষ্য অকার; বাংলা বর্ণমালার প্রথম বর্ণ, আলিকালির প্রথম বর্ণ ও বাংলা স্বরবর্ণের প্রথম বর্ণ। ‘অকার হকার বর্ণে আকার সংযুক্ত।‘ রামপ্রসাদ, ১৭৮০। দেখুন অকার। ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত হলে অন্যান্যস্বর রূপান্তরপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু অকারের চিহ্ন থাকে না (ক্ + অ = ক)। উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ, তাই কণ্ঠ্যবর্ণ। বাংলায় উচ্চারণ প্রধানত ৪ প্রকার — লঘু স্পৃষ্ট (অর্থ, অদ্বৈত ইত্যাদির অ)। স্পষ্ট (অতল, অজ, অন্যায় ইত্যাদির অ)। লঘু বা অর্দ্ধব্যক্ত ওকারের মত (কলিকা, রজনী, ললিত ইত্যাদির ক্, জ্, ল্ সংযুক্ত অ = অ, ক, জ, ল)। পূর্ণব্যক্ত ওকারবৎ (অতিশয়, অনুরোধ ইত্যাদির অ বা মন, যদু ইত্যাদির ম্, য্ সংযুক্ত অ = ‘ওতিশয়’, ‘ওনুরোধ’, ‘মোন’ এবং ‘যোদু’)।
ব্রজবুলি এবং হিন্দীতে ঈষৎ স্পৃষ্ট বা লঘু আকারের ন্যায় উচ্চারিত, তাই ‘অতি’ অনেকটা ‘আতি’র মত। প্রাচীন বাংলায় ‘অতি’ স্থলে ‘আতি’র প্রয়োগও দৃষ্ট হয়। আধুনিক শুদ্ধ উচ্চারণ ‘ওতি’। ‘অজ’র ‘অ’ উচ্চারণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণগুলির অকারান্ত উচ্চারণ় বাঙ্গালা ভাষারই বিশেষত্ব। সাধারণত অ পরে অকার বা আকারযুক্ত ব্যঞ্জন থাকলে অকারের উচ্চারণ বজায় থাকে (অজ, অজা); ি, ী, ু, ূ, যুক্তব্যঞ্জন থকলে ওকারবৎ (অতি, অতীত, অরুণ) এবং পরে ো থাকলে অ (অতো, অহো)। সংস্কৃত অভিধানে ‘অ’র হ্রস্ব, দীর্ঘ, প্লুত, অননুনাসিক, উদাত্ত, অনুদাত্ত, স্বরিত ইত্যাদি ১৮ প্রকার উচ্চারণ ও স্বরভেদ উল্লেখিত হয়েছে।
সাধারণত নিষেধবাচক এই অর্থে অ অন্য শব্দের সংযোগ ব্যতীত প্রযুক্ত হয় না। অ নঞার্থক এই অব্যয়ের রূপান্তর স্বরূপ। নঞ্ (ন্ + অ + ঞ্)-এর ‘অ’ অন্য শব্দের পূর্বে তৎপুরুষ সমাস হিসেবে যুক্ত হয়ে অভাব, অল্পতা, অপ্রশস্ততা, অন্যত্ব, সাদৃশ্য ও বিরোধ এই ৬ প্রকার অর্থ প্রকাশ করে। অভাবার্থে — “অচক্ষু সর্ব্বত্র চান,” — অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। “অগতির গতি”- ব্রহ্মসঙ্গীত। অবস্তু (no-thing); অনঙ্গ [অ (অন্) + অঙ্গ (অ স্বরবর্ণের পূর্ব্বে থাকিলে ‘অ’ স্থানে ‘অন্’ হয়)] অল্পতা অর্থে — অবোধ (অল্পবুদ্ধি); অনায়াস (অল্প আয়াস); অনুদরী (অল্পোদরী, কৃশোদরী বা মন্দোদরী) কন্যা। অপ্রশস্ততা অর্থে — (অপ্রশস্ত, অবৈধ, অশুভ, অপরিণত, অযথা, অযোগ্য ইত্যাদি বোধক) অকালবোধন; অক্ষত্রিয় আচরণ; অলক্ষণ; অসময় ইত্যদি। অন্যত্ব অর্থে — অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ ভিন্ন অন্যজাতি)। “কহিলেন — অ-ব্রাহ্মণ নহ তুমি, তাত! তুমি দ্বিজোত্তম, তুমি সত্যকুলজাত!” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অঘট (ঘট ভিন্ন অন্য পদার্থ)। সাদৃশ্য অর্থে — অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ-সদৃশ; ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য)। এই অর্থে বিরল। বিরোধ অর্থে — অসুর (সুরবিরোধী); অহিন্দু আচরণ (হিন্দু-বিরোধী আচরণ); অশাস্ত্রীয় (শাস্ত্র-বিরোধী ইত্যাদি)।
[বাংলার এই নঞ্‌অর্থক উপসর্গ = ইংরেজি নঞ্‌অর্থক উপপদ (prefix) a, ib, im, in, no, non, ir, un ইত্যাদির তুল্য। ইংরেজি un, on = আইরিশ — o (অ) = সুই়ডিশ – o = ডেনিশ – u. সংস্কৃতমূলক ভারতীয়, সিংহলী, ব্রহ্ম ইত্যাদি যাবতীয় ভাষার আদ্যক্ষরের উচ্চারণ বাংলা ‘অ’ এবং লঘু আকারযুক্ত হিন্দি ‘অ’র তুল্য। ফিনিক্, হিব্রু, তুর্কী, আরবী, ফার্সী ইত্যাদি সেমেটিক ভাষাগুলির আদ্যক্ষরের উচ্চারণ ‘আলিফ্’ এবং য়ুরোপীয় বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘এ’; গ্রীক ‘অ্যাল্ফা’] – বাঙ্গালা ভাষার অভিধান দেখুন।
সন্ধির নিয়মে একার বা ওকারান্ত পদের পরবর্তী অ লুপ্ত হলে মাত্রাহীন হকার ‘ঽ’ রূপ ধারণ করে। একে লুপ্ত অকার বলা হয়। ‘সোহহম্’ (সঃ = সো + অহম্ এর অ = ‘হ’)। প্রণব (ওঁ = অ + উ + ম) এর প্রথম বর্ণ। তন্ত্রে অকারের সৃষ্টি, অমৃত, ললাট, কণ্ঠ ইত্যাদি ১৭ প্রকার অর্থ আছে, কিন্তু বাংলায় সে সকল অর্থে প্রয়োগ নাই। অ প্রাচীন বাংলায় এ, ও, য়, এবং হ স্থলে বসতো। এখন স্থলে ‘অখন’- “অখনে দেখিয়া আইস পুরী আপনার”- মুকুন্দরাম, জগবিজয়। রাখিও স্থলে ‘রাখিঅ’- “না কহিয় কার ঠাই রাখিঅ অন্তরে,” — চম্পক-কলিকা। নয়ন স্থলে ‘নঅন’, নায়ক স্থলে ‘নাঅক’ ইত্যাদি। প্রাকৃতে ‘য়’ স্থলে ‘অ’ ব্যাকরণ-সঙ্গত। প্রাচীন বাংলায় কথার মাত্রাস্বরূপ — কিঅ, কেঅ, তুঅ, লঅ ইত্যাদি। বৌদ্ধ বা অতি প্রাচীন বাংলায় গ স্থলে-‘গঅণ’ (গগণ) – চর্যাপদ ৮।২।১৪।৩ ইত্যাদি। চ স্থলে “অনিমিষ লোঅণ (লোচন)।” দোহা। জ স্থলে-‘গঅবর’ (গজবর), ‘গঅন্দ, গএন্দ’ (গজেন্দ্র) – চর্যাপদ ৮।২।১৪ ইত্যাদি। ‘তেঅ’ (তেজ) – বৌদ্ধগান দোহা। ‘নিঅমন’ (নিজমন) – চর্যাপদ। ত, ত্ত স্থলে-‘পণ্ডিঅ’ (পণ্ডিত), ‘অদভূঅ’, ‘অমিঅ’, ‘অমিআহ’ (অদ্ভুত, অমৃত, অমিতাভ); ‘অনুঅর’, ‘বোহি-চিঅ’ (অনুত্তর, বোধিচিত্ত) – বৌদ্ধগান দোহা। র স্থলে – ‘কঠিন পূহবিঅ’ (পৃথিবীর) – বৌদ্ধগান দোহা
অব্যয় অনুকম্পা; সম্বোধন; খেদ ইত্যাদি অর্থে (প্রাচীন বাংলা)। ‘অ প্রাণ সুণিআঁ কি বুলিহে বলভদ্র ভাই।’ “অ প্রাণ ধারণ না জাএ সুন্দরি রাধে।” – বড়ুচণ্ডীদাস, ১৪৫০। বিশেষ্য বিষ্ণু। – মেদিনীকোষ ব্রহ্ম। “অকার কেবল ব্রহ্ম একাক্ষর কোষে।” – অমরকোষ টীকা
[প্রাচীন বাংলা। অই সংক্ষেপে ও প্রাদেশিক উচ্চারণে। তুলনামূলক — তে (তে কারণ); তুলনামূলক ই] বিশেষণ স, অই, ঐ, এই, সেই। ‘সরিষার রূপ হয়য়া দুবায় লুকাইল। অ কারণে খেতু কান্দিবার লাগিল।’ — মাণিকরাম গাঙ্গুলীর ধর্ম্মমঙ্গল। ১৭৮১।
[বিজ্ঞান] বিশেষ্য, অক্সিজেন বা অম্লজানের সাঙ্কেতিক চিহ্ন।
বাংলা বিভক্তিবিশেষ। ‘সুণ মায় যশোদাঅ তোহ্মারে বুঝাওঁ। ‘বড়ুচণ্ডীদাস, ১৪৫০।
(ইঁঅঁ) বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণমালার দশম, চবর্গের পঞ্চম, অনুনাসিক বর্ণ। উচ্চারণস্থান তালু। অন্য বর্ণের সাথে যুক্ত হলে এর উচ্চারণ তালু ও নাসিকা সাহায্যে অনেকটা “ঙ্যঁ” মত হয়। কিন্তু চ বর্গের অন্য চারবর্ণের সাথে যুক্ত হলে ন্-বৎ হয়, যথা— ‘অঞ্চল, সঞ্চয়’ ইত্যাদি।
চলিত বাংলায় স্বতন্ত্র ব্যবহার নাই। কিন্তু প্রাচীন বাংলায় অনুনাসিক উচ্চারণ বা চন্দ্রবিন্দুস্থলে ভূরি ব্যবহার ছিল। ‘রাধাঞে’ (= রাধাএঁ = রাধায় = রাধাকে), কাহ্নাঞি, পাইঞাঁ’ ইত্যাদি। ‘নিশ্চয় জানিও মুঞি ভখিমু গরলে’, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস; ‘পূর্ব্বে সুচিত্রা নাম ইঞির হব খ্যাতি’ (ইঞির = ইঁহার), সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা ১৩১৮ শকাব্দ। ‘তেঞি কিয়ে তেজবি কান’, গোবিন্দ দাস; আধুনিক বাংলা ‘আ, য়া, ইয়’ স্থলে প্রাচীন বাংলায় ‘ঞ’। ‘অমিঞা আগোরল’ গোবিন্দ দাস; এত বলি এক গ্রাস অন্ন হাতে লঞা; উঝালি ফেলিল আগে যেন ক্রুদ্ধ হঞা’ চৈতন্য চরিত; ‘দিঞাছিল’, উদ্ধবানন্দের রাধিকা মঙ্গল; একাক্ষর-কোষধৃত অর্থে প্রাচীন বাংলা পদ্যে ও গদ্যে এর স্বতন্ত্র কিন্তু বিরল ব্যবহার দৃষ্ট হয়।
বিশেষ্য অনুনাসিক বাদ্য বা কণ্ঠধ্বনি; তানপূরা আদি তত যন্ত্রের ঝঙ্কার। ইঞ্জিন আদির লৌহচক্রের ঘূর্ণন বা ঘর্ষণ শব্দ; ঘর্ঘর ধ্বনি; ঞকার গায়ন। শুক্রাচার্য্য। [সংস্কৃত অহম্ আমি আইঁ এঁ ঞ] এই আমি; এজনা। ‘ঞকার কারিণী, ঞ চরণে তোমার।’ বাসবদত্তা6 [সংস্কৃত] ক্রূর। ষণ্ড। স্বধর্মচ্যুত যোগী। 9 [তন্ত্রে] পরম কুণ্ডলী।
ব্যঞ্জনবর্ণমালার একাদশ ও ট বর্গের প্রথম, অল্পপ্রাণ, অঘোষ বর্ণ। উচ্চারণ স্থান মূর্দ্ধা, তাই এটি মূর্দ্ধণ্য বর্ণ। ট ও টবর্গীয় বর্ণগুলি কাঠিন্যব্যঞ্জক। দৃঢ়, শুষ্ক, কঠোর অর্থে অন্যান্য বর্ণসহ ট যোগ হয়। যেমন: টক্, খট্, টন্, ফট্, কাট, ইট, কটাহ ইত্যাদি। [টক্ + অ (কর্তৃবাচ্য)] বিশেষ্য শব্দ; টঙ্কার। উচ্চারণ সাদৃশ্যযুক্ত গ্রাম্য চলতি কথার মাত্রাস্বরূপ পদের সহচর শব্দের আদ্যক্ষর। বাংলায় এর ভূরি ব্যবহার। যেমন ‘দেখা টেকা; ভুলান টুলান (টেঁকচাঁদ ঠাকুর); ভাত টাত; বই টই ইত্যাদি।
[হিন্দিতে এইরূপ ‘উ’ এবং ‘ও’ বর্ণের প্রয়োগাধিক্য। যেমন: দেখা ওখা; ভুল উল; ভাত ওত; বহি ওহি ইত্যাদি। তুলনামূলক পশ্চিমবঙ্গে এইরূপ স, শ। যেমন: অবুরে সবুরে; বোঝা সোঝা; অত শত; বুদ্ধি শুদ্ধি; বুঝি সুঝি; ইত্যাদি। পূর্ববঙ্গে প্রাদেশিক ব্যবহারে ট = ড। খাটে = খাডে, কেটা = কেডা; ছুটিল = ছুডিল; কাটি = কাডি ইত্যাদি]।
Scroll Up