সংজ্ঞা

  • বাংলা ভাষার তেত্রিশতম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং কণ্ঠনালীয় হ ধ্বনির বর্ণরূপ।

ক্রিয়া

  • ‘হওয়া’-র মধ্যম পুরুষের রূপ, অসম্ভ্রমে (দুর হ);
  • (অপ্রচলিত) শব্দের মাত্রাস্বরুপ (সেহ, বলহ, করহ)।

হ-য-ব-র-ল

হ-য-ব-র-ল

বিশেষণ

  • বিপর্যস্ত, বিশৃঙ্খল (জিনিসপত্র সব হ-য-ব-র-ল হয়ে আছে)।

বিশেষ্য

  • বিশৃঙ্খলা, গোঁজামিল।

হওয়া

হওয়া

ক্রিয়া

  1. বর্তমান বা বিদ্যমান থাকা;
  2. ঘটা (যুদ্ধ হওয়া, বিপদ হওয়া);
  3. জন্মানো, প্রকাশ পাওয়া, উত্পন্ন হওয়া (ছেলে হওয়া, মেঘ হওয়া, ধান হওয়া);
  4. প্রচুর আয় হওয়া (ব্যবসায় টাকা হওয়া);
  5. বাড়া, অধিক হওয়া (বেলা হওয়া, বয়স হওয়া);
  6. সমাপ্ত হওয়া (এ কাজ দুঘণ্টায় হয়);
  7. অবস্থান্তর হওয়া (রক্ত জল হওয়া, দেউলিয়া হওয়া, স্বাধীন হওয়া);
  8. উপস্থিত হওয়া (যাবার সময় হওয়া);
  9. ঘটা বা উদয় হওয়া (অসুখ হওয়া, ভোর হওয়া, ভয় হওয়া);
  10. আয়ু ফুরানো (আমার হয়ে এসেছে);
  11. মেলা, জোটা (চাকরি হওয়া, সুখ হওয়া);
  12. কুলানো (এতেই হবে);
  13. পড়া, পতিত হওয়া (শিলাবৃষ্টি হওয়া);
  14. সম্বন্ধযুক্ত থাকা (সে আমার কুটুম্ব হয়);
  15. নিজস্ব বা আপন হওয়া, অধিকারে আসা (সে কি আর আমার হবে? জমিটা কি আমার হবে?)
  16. উপযুক্ত বা মাপসই হওয়া (এ জুতে তোমার পায়ে হবে না);
  17. সম্ভাবনা হওয়া (তা হবে)।

বিশেষ্য

  • উক্ত সব অর্থে।

বিশেষণ

  • হয়েছে বা প্রায় হয়েছে এমন (হওয়া চাকরি)।

বুৎপত্তি

  • সংস্কৃত √ ভূ বা √ অস্।

হক

হক

বিশেষণ

  • যথার্থ, ন্যায্য, প্রকৃত (হক কথা)।

বিশেষ্য

  1. আল্লাহ, আল্লাহর নাম (হক নাম)।
  2. ন্যায্য অধিকার বা স্বত্ব (হকের টাকা, হক বুঝে নেওয়া);
  3. ন্যায্য কথা (হক বলা)।

বুৎপত্তি

  • আরবী হক্ক্।

হকচকা

হকচকা

ক্রিয়া

  • হকচকানো।

বুৎপত্তি

  • তুলনামূলক হিন্দি হকবকানা (ঘাবড়ে যাওয়া)]।

হকচকানো

হকচকানো

বিশেষ্য, ক্রিয়া

  • বিস্ময়ে অভিভূত হওয়া, হতভম্ব হওয়া।

হকার

হকার

বিশেষ্য

  • হ বর্ণ।

বুৎপত্তি

  • হ + কার স্বার্থে।

হকার

বিশেষ্য

  1. ফেরিওয়ালা;
  2. যে হেঁকে হেঁকে পণ্য বিক্রি করে।

বুৎপত্তি

  • ইংরেজি hawker.

হকি

হকি

বিশেষ্য

  • পায়ের বদলে কাঠের বাঁকানো লাঠি এবং ছোটো ও শক্তি গোলক নিয়ে ফুটবলজাতীয় খেলাবিশেষ।

বুৎপত্তি

  • ইংরেজি hockey.

হকিকত

হকিকত

বানাবভেদ

  • হাকিকত

বিশেষ্য

  • সঠিক বিবরণ, বয়ান, বাস্তব, অবস্থা।

হজ

হজ

বিশেষ্য

বিশেষ তিথিতে মক্কাতীর্থদর্শন ও অন্যান্য ধর্মানুষ্ঠান-পালন।

সংজ্ঞা

ইসলামের বিধানানুসারে হজ্জ একটি আবশ্যকীয় বা ফরজ উপাসনা বা ইবাদত। এটি ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। হজ্জ শব্দের আভিধানিক অর্থ “ইচ্ছা” বা “সংকল্প” করা। আচার ও আদব-কায়দার বিবেচনায় হজ্জ হলো বৎসরের নির্দ্দিষ্ট দিনে নির্দ্দিষ্ট পোশাকে কয়েকটি স্থানে অবস্থান বা ওকুফ, ক্বাবা শরীফের তাওয়াফ, পশু কোরবানী, মিনায় অবস্থিত শয়তান বা মূর্তির প্রতিকী স্তম্ভে পরপর তিনদিন কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড় দ্বয়ের মধ্যে সায়ী করা। নির্দিষ্ট নিয়মে হাঁটা ও দৌড়ানোকে সায়ী বলা হয়।

বুৎপত্তি

আরবী হজ্জ্। حج

ইতিহাস

হজ্জ বা হাজ্জ্ব ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাৎ মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা। এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্ব সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক। আরবি জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ্বের জন্য নির্ধরিত সময়। হজ্জ পালনের জন্য বর্তমান সৌদী আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুযদালফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বাৎসরিক তীর্থযাত্রা।

আবু হোরায়রা বর্ণিত এক হাদিসে ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য হজ্জ করে এবং অশ্লীল ও গোনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে হজ্জ থেকে এমতাবস্খায় ফিরে আসে যেন আজই মায়ের গর্ভ থেকে বের হয়েছে। অর্থাৎ জন্মের পর শিশু যেমন নিষ্পাপ থাকে, সেও তদ্রূপই হয়ে যায়।”  আরেকটি হাদিসে তিনি বলেছেনঃ “শয়তান আরাফার দিন হতে অধিক লজ্জিত ও অপদস্থ আর কোনো দিন হয় না, কেননা ওই দিন আল্লাহতায়ালা স্বীয় বান্দার প্রতি অগণিত রহমত বর্ষণ করেন ও অসংখ্য কবিরা গুনাহ ক্ষমা করে দেন।” তিনি আরো বলেছেনঃ “একটি বিশুদ্ধ ও মকবুল হজ্জ সমগ্র পৃথিবী ও পৃথিবীর যাবতীয় বস্তুর চেয়ে উত্তম। বেহেস্ত ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু তার প্রতিদান হতে পারে না।”

মক্কায় অবস্থিত বায়তুল্লাহ বা কাবাঘরে তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণ করার নিয়ম প্রথম মানব ও ইসলামের প্রথম নবী আদম আলাইহিস সালাম থেকে নূহ আলাইহিস সালাম পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু নূহ আলাইহিস সালামের সময়ের প্লাবণে একই ঘর ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। পরে ইব্রাহিম আলাহিস সালাম ও তাঁর পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম আল্লাহর নির্দেশনায় পুনরায় কাবাঘর নির্মাণ করার পর কুরবানী ও হজ্জ ফরয বা আবশ্যকীয় ইবাদত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। হিজরি সনের দ্বাদশ মাস হলো জিলহজ্জ।

হজ্জ-এর বিভিন্ন আচার-কায়দা ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইব্রাহীম স্রষ্টার নির্দেশে তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরাকে নির্জন মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন। সেখানে, ক্বাবা শরীফের অদূরে, বিবি হাজেরা নবজাত শিশু ইসমাইলকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাউকে না পেয়ে তিনি পানির খোঁজে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই হজ্জের সময় মুসলিমদের জন্য সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে সায়ীর নিয়ম রয়েছে।

হজ্জে গমনের জন্য মুসলমানদের কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য।

ইসলামী সূত্রানুযায়ী আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও নারীদের জন্য তৃতীয় একটি শর্তের উল্লেখ করা হয়, সেটি হলো হজ্জে যাওয়ার জন্য নারীকে স্বীয় স্বামী বা যার সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ের অনুমতি নেই, অর্থাৎ কখনো ওই ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে বৈধ হবে না, যেমন পিতা, ভ্রাতা, পুত্র প্রমুখ কয়েকজন নির্দিষ্ট আত্মীয় পুরুষকে সঙ্গে নিতে হয়। একে মাহরাম বলা হয়। যাদের মাহরাম নেই তাদের হজ্জে যাওয়ার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। মাহরাম ব্যতীত হজের জন্য নারীদের সাউদী আরবের ভিসা প্রদান করা হয় না। ইসলামে মাহরাম ব্যতীত হজ্জ করা হলে বা মাহরাম আছে এমন মহিলার সঙ্গে হজ্বের সফর সঠিক হিসেবে ধরা না। এক্ষত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি মাহরাম ব্যতীত হজ্ব করতে যায় তাহলে হজ্ব হয়ে যাবে, কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফরের জন্য গুনাহগার বা পাপী হবে।

হজ্জকালীন সার্বিক অবস্থাকে বলা হয় ইহরাম যার প্রধান চিহ্ন হলো দুই খণ্ড সেলাইবিহীন সাদা কাপড় পরিধান। ইহরাম-এর নির্দ্দিষ্ট স্থানকে বলা হয় মিকাত। হজ্বের সময় তালবিয়াহ নামক দোয়া পাঠ করা হয়। এটি নিম্নরূপ:

তালবিয়াহ হলো-‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা। ইন্নাল হামদা ওয়ান নেয়ামাতা লাকা ওয়াল মুলকা লা-শারীকা লাকা। এর অর্থ হলো, হে আল্লাহ, আমি হাজির আছি, আমি হাজির আছি। আপনার কোনো শরীক নেই, আমি হাজির আছি। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই এবং সমগ্র বিশ্বজাহান আপনার। আপনার কোনো শরীক নেই।

ক্বাবা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে শুরু করে একাদিক্রমে সাত বার ক্বাবা শরীফ প্রদক্ষিণ করাকে ইসলামে ‌‌‌তাওয়াফ বলা হয়ে থাকে। মুসলমানদের জন্য এটি হজ্জের একটি অপরিহার্য অঙ্গ।

হজ্জ সম্পাদনের রীতি-নীতি অভিন্ন হলেও মক্কা নগরীতে গমনের সময় এবং হজ্জ ও উমরাহ পালনের পরম্পরার ভিন্নতার জন্য হজ্জ তিন প্রকার হতে পারে। এগুলো হলো তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ।

হজে তামাত্তু হজের মাসসমূহে (শাওয়াল, জিলকদ, জিলহজ) উমরাহর নিয়তে ইহরাম করে, উমরাহ পালন করে, পরে হজের নিয়ত করে হজ্জ পালন করাকে ‘হজে তামাত্তু’ বলে।

হজ্জে কিরান হজ্জের মাসসমূহে একই সঙ্গে হজ্জ ও উমরাহ পালনের নিয়তে ইহরাম করে উমরাহ ও হজ্জ করাকে ‘হজ্জে কিরান’ বলে।

হজ্জে ইফরাদ শুধু হজ পালনের উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে হজ্জ সম্পাদনকে ‘হজ্জ ইফরাদ’ বলে।

হজম

হজম

বিশেষ্য

১ পরিপাক;

২ (ব্যঙ্গে) আত্মসাৎ করা (পরের টাকা হজম করা);

৩ বিনা প্রতিবাদে সহ্য করা (কিল খেয়ে কিল হজম করা)।

বুৎপত্তি

আরবী হজ্ম্।

হজরত

হজরত

বিশেষ্য

১ ইসলামের প্রবর্তক হজরত মোহাম্মদ; সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তি, আলেম,

২ মোগল বাদশাদের খেতাব;

৩ অতি সম্মানিত ব্যক্তি (হজরত মোহাম্মদ)।

বূৎপত্তি

আরবী, حضر থেকে ব্যাকরণ  হদরত, حضرت শব্দের উৎপত্তি। তুলনামূলক ফারসী হজরত। আরবী শব্দ হাদির থেকে হজরত শব্দের উৎপত্তি, কিন্তু আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী শব্দটি অশুদ্ধ। শুধুমাত্র দক্ষিণএশিয়ার মুসলমানেরা এই শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। শব্দটির মূল আরবী হলেও উচ্চারণ ফারসি। আরবী ও ফারসি বর্ণমালায় (ض) এই বর্ণটি একই হলেও আরবীতে এর নাম দোয়াদ আর ফারসীতে এর নাম জোয়াদ। তাই আরবী হাদির থেকে জাত শব্দ হদরত-এর উচ্চারণ ফারসিতে হজরত করা হয়। তেমনি হাদিরকে ফারসিতে হাজির উচ্চারণ করা হয়। ফারসি নিয়মে উর্দুতেও দোয়াদকে জোয়াদ উচ্চারণ করা হয়। এক্ষেত্রে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আরবীর চেয়ে ফারসি উচ্চারণের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।

হটা

হটা

ক্রিয়া

১ সরে যাওয়া, অপসৃত হওয়া; পশ্চাত্পদ হওয়া (হটে যাওয়া, পিছু হঠা);

২ নিরস্ত হওয়া; হেরে যাওয়া।

বিশেষ্য

উক্ত সমস্ত অর্থে।

বুৎপত্তি

সংস্কৃত √ হঠ্।