পরিচয়

  1. – বাংলা বর্ণমালার ঊনবিংশ ব্যঞ্জনবর্ণ এবং তবর্গের চতুর্থ বর্ণ।
  2. – মহাপ্রাণ দন্ত্য ঘোষধ্বনি ধ্-এর দ্যোতক বর্ণ।
  3. – উচ্চারণস্থান দন্ত বলে দন্ত্য বর্ণ।
  4. – সাধারণতঃ অকঠিন, অশুষ্ক, গুরুভার ও স্থূল বস্তুর সাথে এর সম্পর্ক (ধপ্, ধম্, ধস্, ধপাস্, ধমাস্, ধক্ ইত্যাদি)।

অব্যয়

  1. – আগুন জ্বলার শব্দ। প্রয়োগ— ধক্ ধক্; দগ্ ধগ্; ধু ধু।
  2. – (অত্যন্ত বেগ বশত বায়ুর সাথে সংঘর্ষণ শব্দের অনুকরণ) বেগ; দ্রুতগতি। প্রয়োগ— ধাঁ; ধাঁই; ধাওয়া। তুল-“ধকে ধাওল” (অর্থাৎ বেগে ধাবিত হইল)।

উৎস

  • – অনুকার, শব্দানুকার হতে বুৎপন্ন অনুকারাত্মক বা ধ্বন্যাত্মকশব্দ। সংস্কৃত ধ্মা।

বিশেষ্য

  1. – ধাতা; ব্রহ্মা।
  2. – ধর্ম।
  3. – কুবের।
  4. – (যা সমাজকে ধারণ করে) ধন।
  5. – (সঙ্গীতে) ধৈবত অর্থাৎ সপ্তস্বরের মধ্যে ষষ্ঠ স্বরের সঙ্কেত। যথা— স, ঋ, গ, ম, প, ধ, ন।
  6. – (সীমাবাচক) প্রয়োগ— অবধি; পরিধি।
  7. – আধারর্থক। প্রয়োগ— বারিধি।

বিশেষণ

  • – ধারক।

উৎস

  • – সংস্কৃত ধা (ধারণ করা) + ক্বিপ্ (কর্তৃবাচ্য)— যিনি ধারণ করেন।

ধইঞ্চা

ধইঞ্চা

বিশেষ্য

  • – ক্ষুপবিশেষ; জন্তিগাছ; ধঞ্চে; ধনচে; ইহার কাণ্ড জ্বালানি কাষ্ঠের কার্য্যে আসে; sesbania cannabina.

উৎস

  1. – সংস্কৃত, বৈজয়ন্তিকা।
  2. – হিন্দী জৈৎ।

ধওলা

ধওলা

বিশেষণ

  1. – ধবল; শ্বেতবর্ণ। প্রয়োগ— ‘ধওলা পাঁঠা লেন রশী সাইঙ্গ করিয়া।’ — মাণিকচন্দ্র রাজার গান।
  2. – শ্বেতবর্ণ ঘুড়ী।

উৎস

  • – প্রাচীন বাংলা।

ধক

ধক

বিশেষ্য

  1. – ধক্ এই শব্দ; উদরের শূন্যতা বা অপূর্ত্তি বোধক (তুলনামূলক ‘পেট ধকধক্ বা ঢক্ ঢক্ করা’)।
  2. – হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠার চাপা আওয়াজ।
  3. – হৃৎপিণ্ডে প্রবল স্পন্দনের শব্দ (বুকের ভিতর ধক করে উঠল)।

উৎস

  • – অনুকার, শব্দানুকার হতে উৎপন্ন ধন্যাত্মক শব্দ; দক্ অপেক্ষা গুরু ও ঢক্ অপেক্ষা লঘু এবং কোমল।

ধক

অব্যয়

  1. – অগ্নি জ্বলনের শব্দ ও জ্যোতি। প্রয়োগ— ধক্ ধক্।
  2. – হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠার চাপা আওয়াজ।

উৎস

  • – সংস্কৃত ধুক্ষ্, ধিক্ষ্ (সন্দীপনে)।

ধক

বিশেষ্য

  • – ভার; পরিমাপক বস্তু; বাটখারা।

উৎস

  1. – সংস্কৃত ধি (ভারবোধক) + ক (স্বার্থে)।
  2. – তুলনামূলক সংস্কৃত ধট (তুলাদণ্ড)।

ধকড়িয়া

ধকড়িয়া

বিশেষ্য

  1. – ধোকড়; ধোকড়া; ছেঁড়া কাঁথা; ধড়ায় পরিণত বস্ত্র; ছিন্ন বস্ত্র।
  2. – মোটা সূতার বড় থলিয়া; ঝোলা; বোরা।
  3. – মোটা কাপড়; coarse cloth. (সদাগর আচ্ছাদন না ছাড়ে ধোকড়ি।- কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম)।

উৎস

  1. – হিন্দী ধুকড়ী।
  2. – সংস্কৃত ধৌতকট (সূত্ররচিত ভাণ্ডম্। ধোকড়া ইতি খ্যাতঃ —শব্দকল্পদ্রুম) > হিন্দী ধোকড়া, গোধড়া। ক্ষুদ্রার্থে ধুকড়ী, গুধড়ী।

ধকড়িয়া

বিশেষণ

  1. – বলিষ্ঠ; বলবান্।
  2. – মজবুত; দক্ষ; দড়; বিশারদ। প্রয়োগ — কথার ধোকড়।

উৎস

  • – হিন্দী ধোকড় (বলিষ্ঠ, কুস্তিবাজ) > শক্ত, টনকো, মজবুত।

ধকধক

ধকধক, ধক্-ধক্-ধক্

সংজ্ঞা

  1. – ‘দপ্ দপ্’ অপেক্ষা অধিক উজ্জ্বল এবং স্থূল শিখা জ্বলে উঠার শব্দ ও আগুনের শিখার তেজঃ বা জ্যোতি। প্রয়োগ— দপ্ দপ্ দপ্ দীপয়ে মণি ধক্ ধক্ ভালে অনল। তর্ তর্ তর্ চাঁদ মণ্ডল।’— অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
  2. – আলোক অর্থে— ধক্ ধক্ অপেক্ষা ক্ষীণ ধিক্ ধিক্, এবং স্তিমিতপ্রায় হলে ধিকি ধিকি।
  3. – শব্দ অর্থে— ধক্ ধক্ অপেক্ষা লঘু ধিকধিক্ এবং তদপেক্ষা লঘু ধুকধুক্।  হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন। palpitation (এই অর্থে ধড়্ ধড়্ শব্দের অধিক প্রয়োগ)। ধুকধুকি দেখুন। [ধিক্ষ্, ধুক্ষ্ (জীবনে) হিন্দি ধক্ ধকানা]
  4. – স্ফোটক অথবা ক্ষতস্থানের ভিতর জ্বলনের অনুভূতির প্রকারভেদ। [ধুক্ষ্ (সন্দীপনে)]
  5. –  অনুতাপ; শোক ইত্যাদি দুঃখানুভূতির প্রকারভেদ। প্রয়োগ— প্রাণের ভিতর ধক্ ধক্ করা।

অব্যয়

  1. – আগুন জ্বলে ওঠার এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধির অব্যক্ত আওয়াজ;
  2. – ভয় ইত্যাদির জন্য হৃত্পিণ্ডের ক্রমাগত প্রবল স্পন্দনের শব্দ।
  3. – আগুন জ্বলে উঠার শব্দ এবং আগুনের শিখার তেজঃ বা জ্যোতি।
  4. – স্ফোটক অথবা ক্ষতস্থানের ভিতর জ্বলনের অনুভূতির প্রকারভেদ। [ধুক্ষ্ (সন্দীপনে)]
  5. – অনুতাপ; শোক ইত্যাদি দুঃখানুভূতির প্রকারভেদ। প্রয়োগ— প্রাণের ভিতর ধক্ ধক্ করা।

প্রয়োগ

  1. – ‘ধক্ ধক্ ধক্ দহন সাজ বিমল চপল গঙ্গিয়া।’— অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
  2. – ‘লোল জিহী লক্ লক্ ভালে অগ্নি ধক্ ধক্ কড়মড় বিকট দশন।”— অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

ক্রিয়া

  • – ধকধকা। প্রয়োগ— ধক্ ধক্ করা।

বিশেষ্য

  • – ধকধকি।

বিশেষণ

  • – ধকধকিয়া, ধকধকে।

উৎস

  • – ধক্ (সন্দীপনে, জ্বলনে) + ধক্ (বারংবার এবং আধিক্য অর্থে পুনরুক্ত)। হিন্দী দহক্না (জ্বলনা)।

ধকধকান

ধকধকান

ক্রিয়া

  1. – ধকধক করা; ধক্ ধক করে জ্বলা।
  2. – ধকধক শব্দে স্পন্দিত হওয়া।

বিশেষ্য

  • – ধকধকানি।

বিশেষণ

  • – ধকধকানিয়া (গ্রাম্য ধকধকানে), ধকধককারী।

উৎস

  1. – ধকধক + আন (ক্রিয়া- বিভক্তি)।
  2. – হিন্দী ধধক্না, ধক্‌ধকানা।

ধকধকানি

ধকধকানি

বিশেষ্য

  • – প্রবল স্পন্দন।

ধকধ্বক

ধকধ্বক্

অব্যয়

  • – অগ্নি জ্বলার শব্দ ও জ্যোতির উত্তরোত্তর বৃদ্ধিবোধক।

প্রয়োগ

  • – ‘ধকধ্বক্ ধকধ্বক্ জ্বলে বহ্নি ভালে। ববম্বম্ ববম্বম্ মহাশব্দ গালে।’— অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
  • – ছন্দের অনুরোধে মদনমোহন তর্কালঙ্কার মহাশয় এই শব্দ ধক্কধক আকারে প্রয়োগ করেছেন। ‘ধক্বধক ফেরুমুখ-মধ্য শিখি-জ্বালিনী’—বাসবদত্তা।

উৎস

  • – ধক্ + ধ্বক (উত্তরোত্তর বেগাধিক্য অর্থে)।

ধকল

ধকল

বিশেষ্য

  1. – ধাক্কা;
  2. – কাজের চাপ, খাটুনি (রোগা শরীরে এত ধকল কি সইবে?);
  3. – ব্যবহারজনিত ক্ষয় (ঘড়িটা খুব ধকল সয়েছে);
  4. – উপদ্রব, উৎপাত (সংসারের ধকল), দৌরাত্ম্য। প্রয়োগ— ছেলেদের ধকল সহিতে পার ত থাক।
  5. – থেসে মেড়ে ব্যবহার; ধামসানি; ভার সহন ও টানাটানি। প্রয়োগ— অত ফিন্ ফিনে কাপড় ধকল সহিবে না।

উৎস

  • – হিন্দী ধকেল্, ঢকেল্। সংস্কৃত ধক্ক (নাশনম্) > ধাক্কা + ল (দানে); ধাক্কাল।