পরিচয়

  • – বাংলা বর্ণমালার ছাব্বিশতম বর্ণ, পঞ্চদশ ব্যঞ্জনবর্ণ, ট বর্গের পঞ্চম বর্ণ;
  • – শব্দের আদ্যক্ষররূপে এর ব্যবহার নেই;
  • – শব্দের ভিতরেও এর ব্যবহার কেবল যুক্তাক্ষরের মধ্যেই দেখা যায়—কণ্টক, ভাণ্ডার।

ব্যবহার

  • – নাসিক্যযুক্ত ব্যঞ্জনের ক্ষেত্রে ট-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে ণ যুক্ত হবে৷ যেমন: কণ্টক, কণ্ঠ, লুণ্ঠন, পাষণ্ড ইত্যাদি৷

ণত্ব-বিধান

ণত্ব-বিধান

বিশেষ্য

(ব্যাকরণ) কোন কোন অবস্হায় ন-এর পরিবর্তে ণ ব্যবহৃত হয় তার নিয়ম।

সংজ্ঞা

বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধণ্য-ণ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। সেজন্য বাংলা (দেশি), তদ্ভব, বিদেশি, বানানে মূর্ধণ্য বর্ণ (ণ) লেখার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু বাংলায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধণ্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার আছে। তা বাংলায় অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণত্ব বিধান।

প্রয়োগ বিধি

১ ঋ, র, ষ বর্ণের পরে দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: ঋণ, বর্ণ, বিষ্ণু, বরণ, ঘৃণা।

২ যদি ঋ, র, ষ বর্ণের পরে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, ষ, ব, হ,য় অথবা অনুস্বার ( ঃ ) থাকে, তার পরবর্তী দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়ে যায়। যেমন: কৃপণ, নির্বাণ, গ্রহণ।

৩ ট-বর্গের পূর্বের দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: বণ্টন, লুণ্ঠন, খণ্ড।

৪ প্র, পরা, পরি, নির্‌- উপসর্গের এবং ‘অন্তর’ শব্দের পরে নদ্‌, নম্‌, নশ্‌, নহ্‌, নী, নুদ্‌, অন্‌, হন্‌- কয়েকটি ধাতুর দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ নয়। যেমন: প্রণাম, পরিণাম, প্রণাশ, পরিণতি, নির্ণয় ইত্যাদি।

৫ প্র, পরা প্রভৃতির পর ‘নি’ উপসর্গের দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: প্রণিপাত, প্রণিধান ইত্যাদি।

৬ কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য-ণ হয়। যেমন: চাণিক্য, মাণিক্য, কণা, গৌণ, নিপুণ, বাণিজ্য,লবণ প্রভৃতি।

প্রয়োগ নিষেধ

১ ত-বর্গযুক্ত দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: বৃন্ত, বৃন্দ, গ্রন্থ।

২ বাংলা ক্রিয়াপদের অন্তঃস্থিত দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: ধরেন , মারেন, করেন, যাবেন, খাবেন, হবেন, নিবেন, দিবেন।

৩ বিদেশী শব্দের দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: কোরআন, জার্মান, জবান, নিশান, ফরমান, রিপন।

৪ পূর্বপদে ঋ, র, ষ থাকলে পরপদে দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: মৃগনাভি, দুর্নাম, ত্রিনেত্র, মৃন্ময়।

৫ পদের শেষের দন্ত্য-ন মূর্ধন্য-ণ হয় না। যেমন: কর্মন্‌, ব্রাহ্মন্‌।

প্রয়োজনীয়তা

বাংলা ভাষার যে সব শব্দ সংস্কৃত ভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে সে সব শব্দে সংস্কৃত ভাষার বানানরীতি অবিকৃত রাখা হয়েছে। সংস্কৃত ভাষার বানান ও উচ্চারণ রীতি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। সংস্কৃত ভাষার পণ্ডিতেরা কোনো শব্দের উচ্চারণকে অনায়াস করার জন্য একটি শব্দে পরপর দুইটি ধ্বনিকে কাছাকাছি উচ্চারণস্থলের রাখার চেষ্টা করেছেন। মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন-এর উচ্চারণ আপাতশ্রবণে কাছাকাছি মনে হলেও মূর্ধন্য-ণ উচ্চারণ করতে হয় মূর্ধা থেকে আর দন্ত্য-ন উচ্চারণ করতে হয় দন্ত্য থেকে। তাই, যে সব ধ্বনি উচ্চারণ করতে জিহবার অগ্রভাগ দাঁতকে স্পর্শ করে অর্থাৎ ‘ত’-বর্গীয় ধ্বনিগুলো (যেমন ত, থ, দ, ধ) উচ্চারণ করার সময় কাছাকাছি আরেকটি ধ্বনি মূর্ধা থেকে উচ্চারণ না করে দন্ত্য থেকে উচ্চারণ করা সহজসাধ্য।

সেকারণে সাধারণভাবে ‘ত’-বর্গীয় ধ্বনির সাথে যুক্ত ধ্বনি দন্ত্য-ন হয়। একই নিয়ম অনুসারে, যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করতে জিহবার অগ্রভাগ মূর্ধাকে স্পর্শ করে অর্থাৎ ‘ট’-বর্গীয় ধ্বনিগুলো (যেমন ট, ঠ, ড, ঢ)-র সাথে যুক্ত ধ্বনি মূর্ধন্য-ণ হয়। ঋ, র, ষ উচ্চারণ করতে হয় মূর্ধা থেকে আর তাই এই ধ্বনিগুলোর সাথে যুক্ত ধ্বনি হয় মূর্ধন্য-ণ। এখানে উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ্য যে, “বণ্টন, লুণ্ঠন”-এই শব্দগুলোর প্রথম মূর্ধন্য-ণ টি ‘ট’-বর্গীয় ধ্বনির সাথে যুক্ত হয়ে উচ্চারিত হচ্ছে, তাই এখানে ণত্ব বিধান ব্যবহৃত হবে, কিন্তু পরের দন্ত্য-ন এর আগে বিরতি থাকায় মূর্ধন্য-ণ হচ্ছে না। ষত্ব বিধান-এর জন্যও একই রকম নিয়ম প্রযোজ্য।

ণত্ব-বিধি

ণত্ব-বিধি

বিশেষ্য

(ব্যাকরণ) কোন কোন অবস্হায় ন-এর পরিবর্তে ণ ব্যবহৃত হয় তার নিয়ম।

ণিচ্

ণিচ্

বিশেষ্য

(ব্যাকরণ) সংস্কৃত প্রত্যয়বিশেষ: কর্তা নিজে ক্রিয়া সম্পন্ন না করে অপরকে দিয়ে সাধিত করলে এই প্রত্যয় হয়, যেমন √ দৃশ্ (দেখা) + ণিচ্ = দর্শি (দেখানো)।

ণিজন্ত

ণিজন্ত

বিশেষণ

ণিচ্ প্রত্যয়যুক্ত।

বুৎপত্তি

সংস্কৃত ণিচ + অন্ত।

ণিজন্ত ধাতু

ণিজন্ত ধাতু

বিশেষ্য

যে ধাতুর উত্তর ণিচ্ প্রত্যয় হয়েছে, প্রেরণার্থক ধাতু।