বাংলা

সংজ্ঞা

প্রয়োগ

পুংলিঙ্গ

  1. যে রক্ষা করে; বিষ্ণু। “সেবাতামক্ষয়ো ধীরাঃ (ধীর+অঃ) সঃ (অ.কো)। অকারো বিষ্ণুরুদ্দিষ্টঃ (দ্রষ্টব্য ‘ওম’)।
  2. ব্রহ্মা
  3. শিব
  4. বায়ু
  5. বৈশ্বানর
  6. ব্রহ্ম। “অঃকার কেবল ব্রহ্ম একাক্ষরকোষে। অঃ কি কর, অঃ-স্বরূপা রাখ মোরে তোষে।। ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর

বুৎপত্তি

  • সংস্কৃত √অব্+অ (ড) -ক

ধ্বন্যাত্মক, অব্যয়

  • সম্বোধন নির্দেশক।

প্রয়োগ

ব্য [ন(নঞ্) > অ, অন, (তৎপুরুষ-সমাসে, ব্যঞ্জনাদি উত্তরপদ পরে ‘নঞ্’ এর ‘ন’-স্থানে ‘অ’, স্বরাদি উত্তরপদ পরে ‘ন’-স্থানে ‘অন্’); দ্র ‘অন্’ ‘ন’; cf. Gr. a, an; L. in; Ger., Gothic-un; E. in, un] ১ সাদৃশ্য। “অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ-সদৃশ — ক্ষত্রিয়াদি)। সমসব্রাহ্মণে দানম্ মনু ৭.৮৫। ২ অভাব, অকর্ম্মক ইত্যাদি। অবানরা অরামা করিব ধরাতল কৃ ২৬৮। ৩ অন্যত্ব, ভেদ, পৃথগ্‌ভাব। “অপট (পটভিন্ন—ঘটাদি), অকুপ্য  ইত্যাদি। অতৈজসানি পাত্রাণি মনু ৬.৫৩ । ৪ অল্পতা, ঈষদৰ্থ, তুচ্ছতা। “অজলা (অল্পজলা) নদী; অকেশী কন্যা; অবস্তু  ইত্যাদি। ৫ অপ্রাশস্তা, অবৈধতা। “অপশু (অপ্রশস্ত পশু), অকার্য্য, অকাল, অসময় ইত্যাদি। ৬ বিরোধ, প্রতিকুলতা। “অসুর (সুরবিরোধী), অলক্ষ্মী, অজ্ঞান ইত্যাদি। “তাৎসাদৃশ্যম-ভাবশ্চ তদন্যত্বং তদল্পতা। অপ্রাশস্ত্যং বিরোধশ্চ নঞর্থাঃ ষ্‌ট প্রকীর্ত্তিতাঃ।। ৭ আক্রোশ, অধিক্ষেপ। “আজীবনি ইত্যাদি। পা ৩.৩.১১২। ৮ (বাঙ্‌লায়) নিষেধবাচক নহে, অর্থাৎ অনর্থক। “অবৃথা (অর্থাৎ বৃথা), অব্রেথা, অমন্দ, অলোপ, ‘অশঙ্কেত’ (সঙ্কেত—শ্রী.কী)। শিরোমণি মহাশয়কে আমি কি অতুচ্ছ কত্তে পারি? লী ৩৭। কেন, কলু অমন্দ জাত্‌টা কি? অ.গ্র ১২৪। আমাকে অচাষা পেয়েছ কিনা (মালদহ)। একথা যদি অব্রেথা হয়, তা হ’লে দশ ঘা জুতো খাব। [বাস্তবিক বিপরীত অর্থে (অর্থাৎ বৃথা মন্দ ইত্যাদি অর্থে) ঐ সকল শব্দ প্রয়োগ করিয়া, অশিক্ষিতে সেই অর্থ ঠিক রাখিয়া বাক্য শেষ করিতে পারে না, ফলে বিপরীতার্থকই হইয়া যায়। বোধ হয়, ইহা ঐরূপ ‘অ’-কারের মূল।]

ব্য ১ অনুকম্পা। “পা ১.১.১৪। ২ অধিক্ষেপ, নিন্দা। “পা ৬.৩.৭৪, বার্ত্তিক (সি)। ৩ সম্বোধন। “অ অনন্ত (A.)। অমোর সোণার সুত চৈ.ম ৩৮। অ মোর রসনা ভ গ্র ৩৮৬। ৪ [সং অহো] (বাঙ্‌লায়) বিষাদ, শোক। “অ প্রাণধারণ না জাএ সুন্দরি রাধে শ্রী কী ৩২৩।

সর্ব্ব [সং অসৌ > প্রা অহ > বা অ. হি যহ; দ্র ‘এ ; অপ্র] এই, এ। “অ-কারণে (এই কারণে) ব.প ৫৭; অক ছাড়িয়া (এ স্থান ছাড়িয়া) ৮১; কহত অখন ৬১৪।

ক্রি.ক্তি [সং তে>প্রা এ> বা (য়ে>য়) অ; অপ্র] ১ বর্ত্তমান কালে প্রথম পুরুষের ক্রিয়ার বিভক্তি। “ডমরুলি বাজঅ (অর্থাৎ বাজয়ে) চ ৪৮; জাঅ, জুঝঅ, বুঝঅ ৫১। রাজা কঅ : না লঅ তোমার মন কৃ.অ ১; সব নষ্ট হঅ ৫; লজ্জা হঅ : মনে লঅ ৮; জাঅ প্রজাগণ ১৩, ধাঅ ১৮

অসমিয়া

  1. বৰ্ণমালাৰ দি খব।
  2. অভাৰ, বিপৰীত, বেয়া, নীহ দি অৰ্থে নঞ্ তত্পুৰুষ-সমাসষ ন-ব ঠাইত ব্যঞ্জনাদি শব্দৰ গত ‘অ’ ক স্ববাদি শব্দষ গত ‘অন্’ হয়। যেনে,-ম + মিল = অমিল, সেইদৰে অসমান, অকৰ্স্ম, অৰম্ভ। অনক্ষৰ, অনজ্ঞ ইত্যাদি। The first letter of the Assamese alphabet. Placed before a word, it signifies negation, want, etc., and is equivalent to un-, in-, dis-, etc.

অব্যয়

  1. সম্বোধনত ব্যবহাৰ কৰা হয়, হেৰ, হেৰা, হেৰ; যেনে-অ হৰি, a vocative interjection,
  2. চৰিত ভাব প্ৰকাশ কৰাত ব্যবহাৰ কৰা হয়; যেনে-অ, তই দেখোন সৰ্ব্বনাশ কৰিলি! an interjection expressing surprise, etc.

অ-এছলামী

অ-এছলামী, অনৈসলামী, অনৈসলামি

বানান

  • – অ+এ+ছ+ল+আ+ম+ঈ।
  • – অ+ন+ঐ+স+ল+আ+ম+ই।

বিশেষণ

  • ইসলাম বিরোধী। ইসলামী নয় এমন; ইসলামী ভাব বা কর্মপদ্ধতির পরিপন্থী।

প্রয়োগ

  • ‘অ-এছলামী কার্য্য।’ মোয়াজ্জিন. ১৯৩৩।

উৎস

  • বাংলা অ + আরবী ইসলামী৷

অ-কার

অকার, অ-কার

বিশেষ্য

  • ‘ বর্ণ বা ধ্বনি।

বুৎপত্তি

  • বাংলা, +কার (স্বার্থে)।

সংজ্ঞা

বাংলা বর্ণমালার আদ্যবর্ণ; আলিকালির আদ্য অক্ষর; আদ্য স্বর। ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত হলে অন্যান্য স্বর রূপান্তর প্রাপ্ত হয়, কিন্তু অকারের চিহ্ন থাকে না (ক্ + অ = ক)। উচ্চারণ স্হান কণ্ঠ, তাই কণ্ঠ্যবর্ণ।

পাণিনির মতে অকার দুই প্রকার। সংবৃত ও বিবৃত।

সংবৃত অ-কারের উচ্চারণে গলনালীর সঙ্কোচ এবং বিবৃত অ-কারের উচ্চারণে গলনালীর বিবার অর্থাৎ প্রসারণ করতে হয়। অ-কার উচ্চারণে সংবৃত কিন্তু সন্ধিপ্রভৃতি প্রক্রিয়ায় বিবৃত (পাণিনি ১.১.৯)।

মাত্রাভেদে অকার তিন প্রকার। যথা:

  • একমাত্রাবিশিষ্ট বা হ্রস্ব অ-কার।
  • দ্বিমাত্র বা দীর্ঘ উচ্চারণে আ-কার
  • ত্রিমাত্র বা প্লুত উচ্চারণে প্লুত অ-কার হয়।

এইরূপ মাত্রাভেদ থাকলেও এই ত্রিবিধ অ-কার সবর্ণ। সংস্কৃতে এই অ-ত্রয়ের আবার দু’টি করে মোট ছয়টি বিভাগ রয়েছে। যথা:

  • হ্রস্ব সানুনাসিক
  • হ্রস্ব নিরনুনাসিক
  • দীর্ঘ সানুনাসিক
  • দীর্ঘ নিরনুনাসিক
  • প্লুত সানুনাসিক
  • প্লুত নিরনুনাসিক

 বাংলায়ও অ-ত্রয় কণ্ঠজাত, সুতরাং কণ্ঠ্য বর্ণ; কিন্তু সংস্কৃতের ন্যায় বাঙলায় আ-কার দীর্ঘ নহে; অ-কারের ন্যায় হ্রস্ব। সুতরাং কেবল আকৃতিতে বাংলায় অ-কার ও আ-কার, সানুনাসিক ও নিরনুনাসিক ভেদে চতুর্ব্বিধ। যথা:

  • লঘু বা স্পৃষ্ট। অর্থ, অদ্বৈত ইত্যাদির অ।
  • স্পষ্ট। অতল, অজ, অন্যায় ইত্যাদির অ।
  • লঘুতর বা অর্দ্ধব্যক্ত ওকারের মত। কলিকা, রজনী, ললিত ইত্যাদির ক্, জ্, ল্ সংযুক্ত অ = অ, ক, জ, ল);
  • পূর্ণব্যক্ত ওকারবৎ (অতিশয়, অনুরোধ ইত্যাদির অ বা মন, যদু ইত্যাদির ম্, য্ সংযুক্ত অ = ‘ওতিশয়’, ‘ওনুরোধ’, ‘মোন’ এবং ‘যোদু’)।

প্লুত অ-কার ও আ-কার ‘গান’ ‘আহ্বান’ প্রভৃতিতে উচ্চারিত হয় মাত্র, এদের ভিন্ন লিখিত আ-কার বাঙলায় নেই।

সংস্কৃতের অন্য স্বরও হ্রস্ব দীর্ঘ প্লুত উচ্চারিত হয়; কিন্তু বাঙলায় দীর্ঘ স্বর, হ্রস্ব স্বরের ন্যায় উচ্চারিত হয় বলে, বাঙলায় অ-ত্রয়ের ন্যায় অন্য হ্রস্ব দীর্ঘ স্বরেরও উচ্চারণগত কিঞ্চিৎ প্রভেদ আছে। হিন্দী, মরাঠী, ব্রজবুলি প্রভৃতি ভাষার অ-কার ঈষৎ স্পৃষ্ট বা লঘু আকারের ন্যায় উচ্চারিত, তাই ‘অতি’ অনেকটা ‘আতি’র মত। প্রাচীন বাংলায়-‘অতি’ স্হলে ‘আতি’র প্রয়োগও দৃষ্ট হয়। আধুনিক শুদ্ধ উচ্চারণ ‘ওতি’। ‘অজ’র ‘অ’ উচ্চারণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণগুলির অকারান্ত উচ্চারণ় বাংলা ভাষারই বিশেষত্ব। প্রাচীন বাঙলায় চর্য্যাপদে ‘আঙ্গন’ ‘আস্তে’ (অস্তে) ইত্যাদির ও শ্রীকৃষ্ণকীর্ত্তনে ‘আচেতন’ ‘আর্জ্জুন’ ‘আনেক’ প্রভৃতি শব্দের আ-কার ঐরূপ উচ্চারণমূলক। আধুনিক বাঙলায় ‘আগণা’ ‘আচযা’ ‘আতেলা’ ‘আলুণি’ প্রভৃতির আ-কার ঐরূপেই হয়েছে। সংস্কৃতের ‘শ্বাপদ’ ‘বিশ্বামিত্র’ প্রভৃতির এবং প্রাকৃতের ‘মাণংসী’ (মনস্বী) ‘পারোহ’ (প্ররোহ) ইত্যাদির আ-কার ঐরূপে দীর্ঘ। এছাড়া বাঙলায় অ-কারের ও-কারবৎ উচ্চারণ আছে; ‘অনুচর’ ‘অমনি’ ‘রসুই’ ‘লক্ষণ’ ইত্যাদি ইহার উদাহরণ।

সাধারণত অ এর পরে অকার বা আকারযুক্ত ব্যঞ্জন থাকলে অকারের উচ্চারণ বজায় থাকে (অজ, অজা); ি, ী, ু, ূ, যুক্ত ব্যঞ্জন থকিলে ওকারবৎ (অতি, অতীত, অরুণ) এবং পরে ো থাকিলে অ (অতো, অহো)।

সংস্কৃত অভিধানে ‘অ’র হ্রস্ব, দীর্ঘ, প্লুত, অননুনাসিক, উদাত্ত, অনুদাত্ত, স্বরিত ইত্যাদি ১৮ প্রকার উচ্চারণ ও স্বরভেদ রয়েছে।

অই

বাংলা

অই

অই-ওইএর বানানভেদ।

অব্যয়

  1. পুরোভাগে; ইন্দ্রিয় গোচরে; সম্মুখে।
  2. ওখানে; যথায় বিরাজ করিতেছে ঠিক সেই স্থানে (অই শশী অই খানে, এই স্থানে দুইজনে— জৈন সুরি হেমচন্দ্র)।
  3. অদূরে।
  4. দূরে।
  5. অনন্য; নির্দ্দিষ্ট।
  6. উক্ত; উল্লিখিত।
  7. স্মরণ সূচক।
  8. দোষ বা ভয় প্রর্দশন সূচক। উচ্চারণ সাদৃশ্য হেতু ‘অই’ স্হলে পদ্যে ‘ওই’ (সংক্ষেপে ‘ও’) এবং ‘ঐ’ [, , ওই]
  9. ব্রজবুলি, প্রাচীন বৈষ্ণব সাহিত্যে, ‘অই’ স্হলে ‘ও’ এবং ‘উহ’ শব্দের প্রয়োগ দৃষ্ট হয়। (উহ রসময়ী ইহ রসিক-শিরোমণি,—জ্ঞানদাস। ও নব জলধর অঙ্গ। ইহথির বিজুরী তরঙ্গ।—গোবিন্দদাস।)
  10. সে; সেই।

বিশেষণ

  • ওই

প্রয়োগ

  1. সর্বনাম সে। ‘জখনে জন্মিল অই বাপের ভবনে।’ মালাধর বসু। ১৫০০।
  2. সর্বনাম সেই। ‘অই নিমিত্তে সদাই কালি মোর কর্মের ফল।’ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। ১৬০০।
  3. বিশেষণ ওই। ‘অই ঠাকুরের কেশ শোভে নানা ফুলে।’ বৃন্দাবন দাস। ১৫৮০।

বুৎপত্তি

সংস্কৃত, অদস্ প্রথমা, বহুবচন – অমী = প্রাকৃত, অঈ; বাংলায় অই = আধুনিক বাংলা অই (পদ্যে ও সঙ্গীতে) = ঐ (গদ্যে এবং ছন্দার্থে পদ্যে)

অসমিয়া

অই (পু. অ.)

অব্যয়

  • হেৰা।

অঁই

অঁই

বিশেষ্য

  • ম’হে মতা মাত; গুবালে ম’হক মতা মাত; the natural sound uttered by a buffalo; an imitative word used by man when calling a buffalo.

অইক্ষর

অইক্ষর

বিশেষ্য

  • বর্ণ; হরফ।

প্রয়োগ

বুৎপত্তি

  • সংস্কৃত অক্ষর।

অইছন

অইছন

ক্রিয়া-বিশেষণ (ব্রজবুলি)

এইভাবে, সেইভাবে, সেইরূপে।

বিশেষণ

সেইরূপ, সেইরকম।

বুৎপত্তি

ব্রজবুলি পশ্চিমা হিন্দি বাংলা

অইছে

 অইছে

ক্রিয়া-বিশেষণ

  • ওইভাবে। ঐরূপে।

বুৎপত্তি

  • সংস্কৃত = ছ

অইন

অইন

বিশেষ্য

  • ছোট গাছ।
  •  মদ্য বিশেষ [শব্দার্থ প্রকাশিকা]।

বুৎপত্তি

প্রাদেশিক, তুলনামূলক ইংরেজি ওয়াইন।

অইপন

অইপন

বিশেষণ

  • এমন

বুৎপত্তি

সংস্কৃত, আলিম্পন

প্রয়োগ

  • ‘পঁউঅ নাল অইপন ভল ভেল।’ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।