অগস্ত্যযাত্রা

অগস্ত্যযাত্রা, আগস্ত্যযাত্রা

বিশেষ্য

  • যে যাত্রায় বিদেশযাত্রী আর ফিরে আসে না;
  • নিষিদ্ধ যাত্রা;
  • মাসের প্রথম দিনের যাত্রা;
  • শেষ যাত্রা, চিরপ্রস্থান।

পুরাণ

‘অগস্ত্য বা আগস্ত্য’ বেদের একজন ঋষির নাম। তিনি ‘সূর্য’ ও ‘বরুণ’-এর সন্তান এবং বিন্ধ্যপর্বতের গুরু ছিলেন।

একবার বিন্ধ্যপর্বতের এক অদ্ভুত ইচ্ছা হল। সূর্য তো উদয়াস্তকালে সুমেরু পর্বতকে প্রদক্ষিণ করে। বিন্ধ্যপর্বতের ইচ্ছা হল, সূর্য তাকেও এভাবে প্রতিদিন প্রদক্ষিণ করবে। তখন বিন্ধ্যপর্বত সূর্যকে গিয়ে সে কথা বলল।

কিন্তু সূর্য বেঁকে বসল। তার সোজা কথা- বিশ্বনিয়ন্তা তাকে যে পথে চলতে আদেশ দিয়েছেন, সূর্য সে পথেই পরিভ্রমণ করবে। অন্য পথে সে যাবেই না।

শুনে তো বিন্ধ্যপর্বত ভীষণ রেগে গেল। রেগে গিয়ে নিজের শরীর এমনভাবে ফোলাতে-ফাঁপাতে শুরু করল, সূর্যের পথই বন্ধ হয়ে গেল।

এবার তো ভীষণ বিপদ হয়ে গেল। সূর্য তো সূর্য, দেবতারাও ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। সবাই মিলে গিয়ে ধরল বিন্ধ্যপর্বতের গুরু অগস্ত্য মুনিকে। সব শুনে অগস্ত্য মুনি বললেন, “ঠিক আছে, ব্যাপারটা আমি দেখছি।”

অগস্ত্য মুনি সোজা বিন্ধ্যপর্বতের কাছে চলে গেলেন। গুরুকে দেখেই বিন্ধ্যপর্বত একেবারে মাথা নিচু করে প্রণাম করল। অগস্ত্য মুনি তখন বললেন, “আমি দক্ষিণাপথে যাত্রা করছি। আমি যতক্ষণ না ফিরে আসছি, তুমি এভাবেই থাক।”

এই বলে অগস্ত্য মুনি দক্ষিণাপথে সেই যে যাত্রা করলেন, আর ফিরলেন না। সেখান থেকেই ‘অগস্ত্য যাত্রা’ অর্থ হয়ে গেল আর ফিরে না আসা। পরে সেটাই হয়ে গেল মারা যাওয়া।

আরও কিছু সম্পর্কিত শব্দ