এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।
১৮৬৪

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 19 টি।

অঋণী [সংস্কৃত অঋণিন্। অ (না, নহে) + ঋণিন্ (ঋণ- গ্রস্ত)] বিশেষণ, যে কারও কিছু ধার করেনি; যার উপস্থিত ঋণ নেই; ঋণমুক্ত; যে ঋণ পরিশোধ করেছে। ঋণী নয় এমন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; তিনিও মনুষ্য জাতির নিকট অঋণী হইতে পারেন না।‘ বঙ্গদর্শন, ১৮৭২। দেবঋণ, ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ নামক ঋণত্রয় হইতে যাগ, যজ্ঞ, দান ও সন্তানোৎপাদনদ্বারা মুক্ত।
অকর্মা, অকর্ম্মা [সংস্কৃত অকর্মান্ প্রথমা, একবচন। ন = অ + কর্মান্। গ্রাম্য অকম্মা] বিশেষণ যে কোন কর্মা সম্পন্ন করতে পারে না; কোন কর্মের নয়; যে কোন কাজেই লাগে না; নিষ্কর্মা৷ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘বলিলেন, মূর্খ, অকর্মা৷’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৭৮। অলস; জড়প্রকৃতি। কর্মাবিমুখ। ‘তোমারি তুলনা তুমি চাঁদ অকর্ম্মার ধাড়ি।’ — দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
অকর্মা, অকর্ম্মা [সংস্কৃত অ (অপকৃষ্ট) + কর্ম + আ (কর্তৃত্বার্থে) অপকর্মাকারী; নিন্দনীয় কর্মাকারী; কুক্রিয়াকারী।] বিশেষ্য ভীরু স্বভাবের লোক৷ ‘এ দেশীয় ভাষায়, “ভালো মানুষ” শব্দের অর্থ ভীরু-স্বভাবের লোক — অকর্ম্মা।’ বঙ্গদর্শন পত্রিকা, ১৮৭২৷
অকাল্পনিক [সংস্কৃত ন = অ-কল্পনা + ইক] বিশেষণ অকল্পিত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪। কল্পনাসম্ভূত নহে; প্রকৃত; বাস্তবিক। ‘সে যে অকাল্পনিক, সে যে সত্য।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩০। বিশেষ্য, অকাল্পনিকতা।
অকিঞ্চনতা (-ন-) [সংস্কৃত অকিঞ্চন + তা (ভাববাচ্যে)] ১ বিশেষ্য দীনতা; দরিদ্রতা। বিদ্যা, ১৮৬৪; ‘ও অনায়াসে অকিঞ্চনতার স্যাকরা গাড়িতে ওর চন্দ্রমাস্টারের জুড়ি হতে পারত।‘ রবীন্দ্র, ১৯১৫। কিছুমাত্র সঙ্গতি না থাকা; নিঃস্বতা; দারিদ্র্য; দৈন্য; দারিদ্র্যের লক্ষণ। ‘যৎসামান্য ভাব ও ছিন্নবস্ত্র অকিঞ্চনতা যেন কেবল একটা মস্ত বেয়াদবি।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৮৪। তুচ্ছতা। ‘বিষয়হীনের অকিঞ্চনতা তাঁদের কাছে ফস করে ধরা পড়ে গেল।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯২৯।
অকীর্তিকর, অকীর্ত্তিকর বিশেষণ অযশস্বর; অখ্যাতিকর; নিন্দাজনক; নিন্দাকর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।
অকৃতাপরাধ [সংস্কৃত ন = অ + কৃত = অকৃতঅপরাধ (যৎকর্তৃক) – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষ্য করা হয়নি এমন অপরাধ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘ওথেলো অকৃতাপরাধে তাঁহার কুলটা বলিয়া অপমানের একশেষ করিয়াছিলেন।‘ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৮৭। বিশেষণ নিরপরাধ। নির্দ্দোষ। ক্রিয়াবিশেষণ বিনা অপরাধে; অপরাধ ব্যতিরেকে। স্ত্রীলিঙ্গ অকৃতাপরাধী।
অকৃতিত্ব [সংস্কৃত অকৃতিন্ (অক্ষম) + ত্ব (ভাববাচ্যে)] বিশেষ্য অক্ষমতা; অযোগ্যতা; অপটুতা; কৃতিত্ব নেই এমন অবস্থা; অযোগ্যতা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘স্ত্রী এই উক্তিতে তাঁহার অকৃতিত্বের প্রতি লক্ষ্য করিলেন।‘ প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, ১৮৯৭।
অকোপন [সংস্কৃত] বিশেষণ সহসা ক্রুদ্ধ হয় না এমন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।
অক্ত [আরবী ওয়াক্‌ত] বিশেষ্য বেলা; সময়। ‘ইচ্ছাগতে পঞ্চ অক্ত নামাজ তরফে।‘ সৈয়দ আলাওল, ১৬৮০।
অক্ত [সংস্কৃত অন্‌জ্‌ (মাথা) + ত (কর্মবাচ্যে); অক্ত অন্য বিশেষ্য পদের শেষে বসে পদটিকে বিশেষণে পরিণত করলেও এর স্বতন্ত্র ব্যবহার হয় না।] বিশেষণ লিপ্ত; মিশ্রিত। ‘তৈলাক্ত; রুধিরাক্ত; ঘর্মাক্ত ইত্যাদি। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।
অক্রোধন [সংস্কৃত ন = অ-ক্রোধন] বিশেষণ সহসা, ক্রোধের কারণ থাকলেও যার ক্রোধের উদ্রেক হয় না; যে সহজে ক্রোধ সংবরণ করে; অকোপন; ক্রুদ্ধস্বভাব নয় এমন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪। বিশেষ্য কুরুবংশীয় রাজা অযুতায়ুসের পুত্র।
অক্লান্ত [সংস্কৃত ন = অ (নাই)-ক্লান্ত (ক্লান্তি যার) – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ ক্লান্ত নয় এমন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘তোমারে প্রণমি আমি হে ভীষণ, সুস্নিগ্ধ শ্যামল, অক্লান্ত অম্লান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৯। অপার। ‘তোমা-মাঝে অনন্তের অক্লান্ত বিস্ময়।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯২৫। বিরতিহীন। ‘দেহমাংসের অক্লান্ত লোলুপতা দিয়ে কল্পস্বর্গ রচনা করে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩২। অসীম। ‘অক্লান্ত বিস্ময়।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩৭; ‘সর্বত্র অক্লান্ত শ্রমে। স্বপ্নের মৃণালে মুখ তার।‘ শামসুর রাহমান, ১৯৫৯। নিরলস। ‘তাই নিয়ে গবেষণা চলে অক্লান্ত।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩৮। ক্লান্তিরহিত; যে পরিশ্রম করে শ্রান্তি বা ক্লান্তি বোধ করে না; অশ্রান্ত। স্ত্রীলিঙ্গ অক্লান্তা। বিশেষ্যঅক্লান্তি।
অক্ষবাট [সংস্কৃত অক্ষ (যুদ্ধ) বাট (স্থান) – ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস] বিশেষ্য মল্লভূমি, কুস্তির আখড়া gymnasium. দ্যূতক্রীড়া স্থান; পাশা খেলার আড্ডা; পাশা খেলার ছক; dice board. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।
অক্ষারলবণ [সংস্কৃত অক্ষার-লবণ] বিশেষ্য সৈন্ধব লবণ। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।
অক্ষুব্ধ [সংস্কৃত ন = অ-ক্ষুভ্ (চঞ্চল হওয়া) + ত (কর্তৃবাচ্য) = ক্ষুব্ধ-ই আগম (ক্ষুভিত)] বিশেষণ অক্ষুভিত; ক্ষোভশূন্য; ক্ষুব্ধ নয়; অব্যাকুল; অনাকুল; অনাকুলিত; ভয়ের কারণ বা বিপদ ঘটিলে যে ব্যাকুল হয় না। ‘সমস্ত কথা শ্রবণ করিয়া অক্ষুব্ধচিত্তে বলিলেন।’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘অক্ষুব্ধ মানস।’ নিস্তরঙ্গ । ‘অবকাশ এবং অক্ষুব্ধ শান্তির মধ্যে বীজ ধীরে ধীরে অঙ্কুরে … পরিণত হয়।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৫।
অক্ষুব্ধচিত্ত [সংস্কৃত ন=অ-ক্ষুভ্ (চঞ্চল হওয়া) + ত (কর্তৃবাচ্য) = ক্ষুব্ধ-ই আগম (ক্ষুভিত)-চিত্ত] বিশেষ্য ক্ষোভহীন হৃদয়। ‘সমস্ত কথা শ্রবণ করিয়া অক্ষুব্ধচিত্তে বলিলেন।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘একদিন স্থিরভাবে অক্ষুব্ধচিত্তে ভালোমন্দ-বিচারের সময় আসিবে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৮।
অক্ষুব্ধচিত্তে [সংস্কৃত ন=অ-ক্ষুভ্ (চঞ্চল হওয়া) + ত (কর্তৃবাচ্য) = ক্ষুব্ধ-ই আগম (ক্ষুভিত)-চিত্ত-এ] ক্রিয়াবিশেষণ ক্ষোভশূন্য হৃদয়ে। ‘সমস্ত কথা শ্রবণ করিয়া অক্ষুব্ধচিত্তে বলিলেন।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘একদিন স্থিরভাবে অক্ষুব্ধচিত্তে ভালোমন্দ-বিচারের সময় আসিবে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৮।
অক্ষোভ্য [সংস্কৃত ন = অ-ক্ষুভ্ (চঞ্চল হওয়া, কাতর হওয়া) + য (কর্মবাচ্যে)] বিশেষণ যা সহজে বিচলিত হয় না; নিস্তরঙ্গ। ‘অক্ষোভ্য জলধি।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪। ‘অক্ষোভ্য সাগরের ন্যায় অবিচলিত।’ মহাভারত, কালীপ্রসন্ন সিংহ
অখাদ্য [সংস্কৃত ন = অ (অপ্রশস্ত)-খাদ্য; নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস] বিশেষণ খাদ্যস্বরূপ গ্রহণের অযোগ্য; যা খাইবার মত নহে এরূপ; অভক্ষ্য; খাওয়ার উপযোগী নয় এমন দ্রব্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘অন্যের অখাদ্য, বা ভোজনাবশেষ যাহা কিছু থাকিত বউ তাহাই খাইবে।‘ এডুকেশন গেজেট, ১৮৭৩; ‘অঘোরপন্থীদিগের অখাদ্য কিছুই নাই।’ উপাসক সম্প্রদায় নিষিদ্ধভোজ্য; ধর্মবিরুদ্ধ খাদ্য; নিষিদ্ধ খাবার। ‘বরং যাহা অখাদ্য, যথা বরাহ।‘ মীর মশাররফ হোসেন, ১৮৮৯; ‘গো, গবয়, শরভ, হিন্দুর অখাদ্য, কিন্তু বন্যশূকর এবং গণ্ডার খাদ্য কি অখাদ্য এ বিষয়ে পণ্ডিতগণের মতভেদ আছে।’
অগঙ্গ [সংস্কৃত ন = অ (নাই) গঙ্গা যেখানে; বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ গঙ্গাহীন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪। গঙ্গাহীন দেশ। ‘অগঙ্গ প্রদেশ।’ যে প্রদেশ হতে গঙ্গা ৪ ক্রোশাধিক দূরে অবস্থিত।
Scroll Up