এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 50 টি।

অকর্ষিত [সংস্কৃত] বিশেষণ চাষ করা হয়নি এমন; অনাবাদি। ‘এক বিঘা জমিও দ্বীপের কোনোখানে অকর্ষিত নাই৷’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৩৬।
অকলঙ্ক [সংস্কৃত ন = অ (নাই) কলঙ্ক (দাগ, চিহ্ন, দোষ) যার – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ, নির্দোষ; নিষ্পাপ। ‘অকালঙ্ক গৌরচন্দ্র দিলা দরশন৷’ কৃষ্ণদাস কবিরাজ, ১৫৮০। বেদাগ; দাগশূন্য। ‘খঞ্জন গঞ্জন আঁখি অকলঙ্ক শশিমুখী৷’ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০। শুভ্র; কলঙ্কহীন; নির্মল। ‘খঞ্জন গঞ্জন আঁখি অকলঙ্ক শশিমুখী, শিরোরুহ অসিত চামর।’ — চণ্ডীকাব্য, কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০। স্ত্রীলিঙ্গ, অকলঙ্কা। বিশেষণ, অকলঙ্কিতা
অকলঙ্কী [সংস্কৃত অকলঙ্ক + ইন্ (অস্ত্যার্থে)] বিশেষণ কলঙ্কহীন; নির্দোষ; নির্মল। স্ত্রীলিঙ্গ অকলঙ্কিনী।
অকলুষ [সংস্কৃত] বিশেষ্য, নিষ্পাপ; নির্দ্দোষ। বিশেষণ, অকলুষিত। স্ত্রীলিঙ্গ, অকুলষিতা।
অকলুষা [সংস্কৃত] বিশেষণ, স্ত্রীলিঙ্গ, নির্দোষ ৷ ‘যেমন সে অকলুষা শিশিরনির্মল উষা।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৬।
অকল্ক [সংস্কৃত ন = অ – কল্ক (কাইট, মল)] বিশেষণ, নির্ম্মল। [কল্ক = পাপ] অপাপ; নিষ্পাপ। [কল্ক = অহঙ্কার] নিরহঙ্কার। স্ত্রীলিঙ্গ, অকল্কা; জ্যোৎস্না [বিরল]।
অকল্কা [সংস্কৃত] বিশেষ্য জ্যোৎস্না৷ ‘এই নীল অকল্কায় নিজব্যক্তিবিম্ব দেখো নাকাল নাচার।‘ বিষ্ণু দে, ১৯8১।
অকল্পন [সংস্কৃত অ (অপ্রশস্ত, অনুদার)-কল্পন (চিন্তা)] বিশেষ্য অনুচিত চিন্তা; মন্দ মতলব। চিন্তার অভাব। বিশেষণ অকাল্পনিক।
অকল্পনা [সংস্কৃত অ (অপ্রশস্ত, অনুদার)-কল্পনা (চিন্তা)] বিশেষ্য অনুচিত চিন্তা; মন্দ মতলব। চিন্তার অভাব। বিশেষণ অকাল্পনিক।
অকল্পনীয় [সংস্কৃত] বিশেষণ কল্পনা করা যায় না এমন৷ ‘দুলিহীন জীবন যে অকল্পনীয়৷’ আলাউদ্দিন আল আজাদ, ১৯৫৮।
অকল্পিত [সংস্কৃত ন = অ-কল্পিত (কৃতকল্পনা, কল্পনাসিদ্ধ)] বিশেষণ যা কল্পনাসিদ্ধ নয়; অকৃত্রিম; প্রকৃত; যথার্থ। বিশেষ্য অকল্পিতা।
অকল্পেয় [সংস্কৃত] বিশেষণ অকল্পনীয়৷ ‘শ্রেয় মেনে নিল ইতিহাস/ অকল্পেয় পরিহাস৷’ সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, ১৯৪৮।
অকল্মষ (-লম-,-ল্লঁ-) [সংস্কৃত] বিশেষণ অপাপ।
অকল্য [ন = অ-কল্য (সুস্থ) যে — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ অসুস্থ; পীড়িত। স্ত্রীলিঙ্গ অকল্যা [বিরল]।
অকল্যাণ [সংস্কৃতন = অ-কল্যাণ (মঙ্গল)] বিশেষ্য অশুভ; অমঙ্গল৷ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘উপবাসী থাকিবেন? অকল্যাণ হবে যে৷’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৮৩; ‘মেয়ের দিদিমা অকল্যাণশঙ্কাসত্ত্বেও অশ্রু সংবরণ করিতে পারিলেন না৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০০। অনিষ্ট; অহিত। ‘প্রিয়তমে, প্রেম করে অভিশাপ নাশ, দয়া করে অকল্যাণ দূর৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯০। স্ত্রীলিঙ্গ, অকল্যাণী।
অকল্যাণকর [সংস্কৃত] বিশেষণ অমঙ্গলজনক; ক্ষতিকর৷ ‘বন্ধুজনের এতাদৃশ অকল্যাণকর বিড়ম্বনা ঘটিলে …৷’ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৫।
অকল্যাণকরী [বৌদ্ধ সাহিত্য] বিশেষ্য পশ্চিম।
অকল্যাণকরী [সংস্কৃত] বিশেষণ, স্ত্রীলিঙ্গ অশুভ। ‘কে তুমি গো যশস্বিনি! আলোকিত করি রূপে অকল্যাণকরী দিকে লয়েছ আশয়?’ ঈশানচন্দ্র ঘোষ, ১৯৫৮।
অকল্যাণকরী দিক্ [বৌদ্ধ বাংলা] পশ্চিম দিক্। “কে তুমি গো যশস্বিনি! আলোকিত করি রূপে অকল্যাণকরী দিকে লয়েছ আশ্রয়?”— জাতক (পঞ্চম খণ্ড)।
অকল্যাণকারিনী [সংস্কৃত] বিশেষণ, স্ত্রীলিঙ্গ, অশুকারী। ‘অতি ভীষণ, অকল্যাণকারিণী …।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯২।
অকল্যাণময় [সংস্কৃত] বিশেষণ অশুভকর। ‘অনের্ক ভূয়োদর্শাভিজ্ঞ জ্ঞানী মনীষী ভূমিকম্পকে অকল্যাণময় ব্যাপার বলিয়া মনে করেন৷’ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৪।
অকল্যাণময়ী [সংস্কৃত] বিশেষণ, স্ত্রীলিঙ্গ, অশুভকর। ‘তাহারা অকল্যাণময়ী হইয়া পড়িবে৷’ সওগ্যত পত্রিকা, ১৯২৯।
অকষ্ট [সংস্কৃত ন = অ-কষ্ট] বিশেষণ ক্লেশহীন।
অকষ্টকল্পনা [অকষ্ট-কল্পনা (কষ্টকল্পনা laboured language, laboured thought নয়)] বিশেষ্য যে কল্পনা বা রচনা কবির মানস হতে স্বতঃ উত্থিত বা লেখকের লেখনী হতে স্বতঃ বিনির্গত হয়; যে রচনার জন্য লেখককে আয়াস স্বীকার করতে হয় না; অনায়াসসাধ্য কল্পনা; সহজসাধ্য রচনা।
অকষ্টকল্পিত [সংস্কৃত] বিশেষণ যা কষ্টকল্পিত নহে; not laboured or farfetched.
অকষ্টবদ্ধ [সংস্কৃত অ (অতিরিক্ত) + কষ্ট – বদ্ধ (বন্ধন)] বিশেষ্য বিষমসঙ্কট; অধিক দুঃখ; যে অবস্থায় নড়ার পর্যন্ত শক্তি থাকে না; অপ্রতিহার্য আপদ; উভয় সঙ্কট; যে কষ্ট বা দুঃখের সহজে প্রতিকার হয় না। ‘পেয়ে বহু-কষ্ট, বাহির প্রকোষ্ট, অকষ্ট বদ্ধের ন্যায়’ — বাসব দত্তা। বিশেষণ দুঃস্থ; বিষম সঙ্কটাপন্ন; অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯১৷ [তুলনামূলক—সংস্কৃত, “হা কষ্টং বদ্ধঃ”; সংস্কৃত অক (সুখের অভাব)] অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ‘সাধুবাংলার বাক্যগঠন পদ্ধতি অকষ্টবদ্ধ।‘ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, ১৯8০। বিশেষ্য অকষ্টবদ্ধতা। স্ত্রীলিঙ্গ অকষ্টবদ্ধা।
অকসার, আকসার [আরবী—অক্‌সর্‌ (comparative & superlative of; আরবী—কসর্ (বহু, প্রচুর) বাংলা (স = চ, ছ) আক্‌চার, আক্‌চার] ক্রিয়া-বিশেষণ প্রায়ই; যখন তখন; অনেক সময়; সদা-সর্বদা; every now & then; often.
অকস্মাৎ, অকস্মাত (-শ্ শাঁ-) [সংস্কৃত ন = অ (নহে) কস্মাৎ (কিম্ পঞ্চমী একবচন স্থানে স্মাৎ = কাহা বা কি কারণে বা কোথা হতে এসে দেখা দিল বা ঘটল তার পূর্বজ্ঞান বা নিদর্শন নেই] ক্রিয়াবিশেষণ হঠাৎ; বিনা কারণে; অসম্ভাবিতরূপে। ‘অকস্মাৎ আইল বুড়ি দক্ষিণ মসানে৷’ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০; ‘অকস্মাত মীন দেখা দিল গাঙ্গদাড়া।‘ রূপরাম চক্রবর্তী, ১৭৫০; ‘বিশেষ একক কেন আসিবে এথায়। আসিবেক কোন্ অভিপ্রায়’ — মহাভারত (কাশীরাম) আকস্মিকভাবে। ‘অকস্মাৎ শকটের তলে গেল পড়ি৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৬। অস্বাভাবিকভাবে। ‘যদি ব্যাঘ্রিণীর মতো অকস্মাৎ ভুলে গিয়ে হিংসা লোভ যত মানবপুত্রেরে কর স্নেহের লেহন।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৬৷ বিশেষ্য আকস্মিক ঘটনা৷ ‘ছেড়েছি সব অকস্মাতের আশা৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৬৷ বিশেষণ অচল। ‘কোমরটা একেবারে ভেঙে জন্মের মতো অকম্মাৎ করে দিলেই হয়।‘ শহীদুল্লা কায়সার, ১৯৬২।
অকা [সংস্কৃত — অজ্ঞ অপভ্রংশ — অগা, অঘা] বিশেষণ অজ্ঞ; নির্ব্বোধ; বোকা; মূর্খ (সাধারণতঃ অগা)। আকা।
অকাজ [সংস্কৃত ন = অ (অপ্রশস্ত, অন্যায়) কাজ, অকার্য] বিশেষ্য অন্যায়; অকর্ম। ‘না শুনিলে মোর বোল হইব অকাজ৷’ বড়ু চণ্ডীদাস, ১৫৭০; ‘যত করে মুসলমান সকলি অকাজ।’ — অন্নদামঙ্গল (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর) অনর্থ। ‘না দেখিয়া ছিনু ভাল। দেখিয়া অকাজ হল, না দেখিলে প্রাণ কেন কান্দে।’ — চণ্ডীকাব্য, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০। বৃথা; অর্থহীন কাজ। ‘আমার দিন অকাজেই গেল৷’ লালন শাহ, ১৮৯০। অসত্কার্য; কুকর্ম। ‘অকারণে অকাজ লয়ে ঘাড়ে অসময়ে অপথ দিয়ে যান।’ — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফালতু কাজ৷ ‘সাহিত্য রচনা করা তাঁদের মতেই অকাজ।‘ প্রমথ চৌধুরী, ১৯১৭। কর্মহীনতা। ‘কেউ দেখছে অকাজকে সুন্দর।‘ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯২৫।বিশেষণ অকাজিয়া, অকাজুয়া – অকেজো।
অকাজুআ [সংস্কৃত অকার্য>] বিশেষণ, কাজের অনুপযুক্ত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৯১।
অকাট [সংস্কৃত অকা, অক্কট, আকাট] বিশেষণ মূর্খ; গণ্ডমূর্খ; কাটমূর্খ।
অকাট [সংস্কৃত অকাট্য>] বিশেষণ অখণ্ডনীয়। ‘অকাট সত্য।‘ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ১৯২০।
অকাটা [প্রাদেশিক। আকাটা (দ্রষ্টব্য)। অ (না) + কাটা (কর্তিত) যা কাটা হয়নি বা যা খণ্ডিত নয়] বিশেষণ অকর্তিত; অখণ্ডিত; আস্ত; গোটা। প্রয়োগ — অকাট শুপারী।
অকাট্য [সংস্কৃত অকাষ্ট] বিশেষ্য মূর্খতা৷ ‘অকাট্য করিস তুই অপজসি হইব মুই।‘ কবীন্দ্র, ১৬৮৯৷
অকাট্য [সংস্কৃত, প্রাদেশিক, ন = অ (না) – কাট্য (প্রাকৃত — কট্ট ধাতু) = কর্তনীয় বা কর্তনসাধ্য – যা কাটা উচিত নয় বা কাটা যায় না] বিশেষণ অখণ্ড্য; অখণ্ডনীয়; যা খণ্ডন করা উচিত নয় বা যা অবহেলা করা যায় না। ‘উপর্য্যুক্ত মনীষিগণের … অকাট্যযুক্তি-সংবলিত প্রমাণপ্রয়োগের উপরি প্রতিষ্ঠিত।‘ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৪। দৃঢ়। ‘ভাবনা ও প্রকাশের মধ্যে যেরূপ অকাট্য সম্বন্ধ কল্পনা ও কাজের মধ্যে কি ঠিক তেমনি নহে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৮০। কাটা যায় না এমন। ‘খর মাঞ্জায় বোতলচুর কতটা মেশাশে সুতো অকাট্য হয়৷’ প্ৰমথ চৌধুরী, ১৯৩১৷ 8 যুক্তিপূর্ণ৷ ‘আপাতস্বাচ্ছন্দ্যও একটা অকাট্য পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত৷’ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, ১৯৪০।
অকাঠিন্য [অ + সংস্কৃত কাঠিন্য] বিশেষ্য কোমলতা।
অকাণ্ড [সংস্কৃত ন = অ-কন্ (দীপ্তি পাওয়া) + [ড; অ = আ] বিশেষণ কুকাণ্ড; অঘটনীয় ব্যাপার। বিশেষ্য গুঁড়িহীন বৃক্ষ; যে বৃক্ষের ডালপালা মাটি হতে গজায়, কাণ্ড থাকে না।
অকাণ্ডজাত [সংস্কৃত] বিশেষ্য যা কাণ্ড হতে জাত নয়। বিশেষণ অসময়ে উৎপন্ন। স্ত্রীলিঙ্গ অকাণ্ডজাতা।
অকাতর [সংস্কৃত, ন = অ + কাতর] বিশেষণ অকুণ্ঠ। ‘জরাসিন্ধু রাজা বড় দানে অকাতর৷’ মালাধর বসু, ১৫০০। সুস্থ৷ ‘অকাতর দেহে আছিনু মগন সুখনিদ্রার ঘোরে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৫। অক্লিষ্ট; অব্যাকুল; অনভিভূত। নিঃশঙ্ক; নির্ভীক। বিশেষ্য অক্লেশ অসঙ্কোচ। ক্রিয়া-বিশেষণ, অকাতরে – অক্লেশে; সহজে; অবলীলাক্রমে; অনায়াসে; সন্তুষ্ট চিত্তে। — ‘অকাতরে দান করা।’ বিশেষ্য অকাতর্য্য, অকাতরতা। স্ত্রীলিঙ্গ অকাতরা।
অকাতরচিত্ত [সংস্কৃত] বিশেষ্য নিশ্চিন্ত মন। ‘প্রসন্নমুখ নাহি কোনো দুখ অতি অকাতরচিত্ত।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৫৷
অকাতরচিত্তে [সংস্কৃত] ক্রিয়াবিশেষণ অবলীলায়। ‘বি.এ. ডিগ্রি অকাতরচিত্তে আমি চুলায় দিতে পারিতাম।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯১৪।
অকাতরে [সংস্কৃত] ক্রিয়াবিশেষণ সন্তুষ্ট চিত্তে; দ্বিধাহীনভাবে৷ ‘বীরবর, অকাতরে, পুত্রের মস্তকচ্ছেদন করিল৷’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৪৭। অবলীলাক্রমে; অনায়াসে৷ ‘বলদের ভারের অনেক লাঘব হইল; তখন সে, অকাতরে চলিয়া যাইতে লাগিল৷’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৫৬৷ অক্লেশে; সহজে; আরামে৷ ‘মেম্বাররা কপালের উপর টুপি টেনে দিয়ে অকাতরে নিদ্রা যাচ্ছেন৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৮১।
অকাপট্য [সংস্কৃত ন = অ-কাপট্য] বিশেষ্য অকপটতা; সারল্য। ঔদার্য্য।
অকাব্য [সংস্কৃত] বিশেষ্য কাব্যগুণের অভাব আছে এমন রচনা৷ ‘বড়ো বড়ো কাব্যে খানিকটা পরিমাণে অকাব্যও মেশানো থাকে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৪।
অকাম [সংস্কৃত অকর্ম, অকর্ম্ম; (অপভ্রংশ) অকম্ম] বিশেষ্য অপকর্ম; বৃথা কর্ম; নিষ্প্রয়োজনীয় কার্য। ‘মূঞ্চি পাপি করিলুঁ অকাম৷’ সৈয়দ সুলতান, ১৭০০৷ কুকার্য; অকাজ।
অকাম [সংস্কৃত ন = অ-কাম (কামনা)] বিশেষ্য নিষ্কাম; বাসনাশূন্য; কামহীনতা৷ ‘অকাম নিম্পৃহ, হায় রম্যযোনী তরল মুকুট৷’ শক্তি চট্টোপাধ্যায়, ১৯৬১। ইন্দ্রিয়পরায়ণতাশূন্য।
অকামিক [সংস্কৃত আকস্মিক, ব্রজবুলি] অব্যয় অকস্মাৎ; হঠাৎ। ‘বিধিক ঘটনে ভেল অকামিক লোচনে লোচনে মেলা।’ বিদ্যাপতি (নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত সম্পাদিত), ১৪৬০। ক্রিয়াবিশেষণ অকস্মাৎ। ‘অকামিক মন্দির ভেলি বহার৷’ বিদ্যাপতি (নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত সম্পাদিত), ১৪৬০। অকারণে৷ ‘অতি পুলকিত তনু বিহসী অকামিক জাগি ঠেলি সানন্দা।’ বিদ্যাপতি (নগেন্দ্রনাথ গুপ্ত সম্পাদিত), ১৪৬০।
অকাম্য [সংস্কৃত ন = অ-কাম্য] বিশেষণ অনভিপ্রেত; অনভিলষণীয়। স্ত্রীলিঙ্গ অকাম্য।
অকায় [সংস্কৃত ন = অ (নাই) কায় (দেহ) যার – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ শরীরবিহীন; দেহহীন। ‘যিনি অকায় তিনি কায়ের কাব্যরচনা করেছেন।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯১৬। আকারহীন৷ ‘অকায়, অকঙ্কাল কলকাতা ছায়ামগ্ন৷’ বুদ্ধদেব বসু, ১৯8০। বিশেষ্য পরমাত্মা। রাহুগ্রহ [সমুদ্রমন্থনকালে, রাহুদৈত্য ছদ্মবেশে দেবগণের সহিত অমৃত পান করিতে আরম্ভ করিলে, নারায়ণ তাঁর মস্তক ছেদন করেন। অমৃত তাঁর কণ্ঠদেশ পর্যন্ত গমন করায় রাহু অমরত্ব লাভ করেন বটে, কিন্তু মুণ্ড দেহ (কায়) হইতে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মুণ্ডসর্বস্ব বা অকায় হন (দেহ কেতু নামে প্রসিদ্ধ হয়) — মহাভারত]
অ-কায়া [সংস্কৃত] বিশেষণ, অশরীরী৷ ‘স্বপ্নের মত — অস্পষ্ট, অ-কায়া৷’ কাজী মোতাহার হোসেন, ১৯৩৭।
অকার [সংস্কৃত অ + কার (স্বার্থে)] বিশেষ্য স্বরবর্ণের আদ্যক্ষর – ‘অ’। ‘অ’ এই শব্দ বা ধ্বনি। ‘অকার হকার বর্ণে আকার সংযুক্ত। রামপ্রসাদ সেন, ১৭৮০। ব্রহ্মা। ‘অকার কেবল ব্রহ্ম একাক্ষর কোষে।’ — অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
অকারণ [সংস্কৃত ন = অ-কারণ] বিশেষ্য বিনা কারণ। ‘তোহ্মে মোর নাহিঁ কাজ মোর পাশ আইস অকারণে।‘ বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০। বিশেষণ বিফল। ‘তুমি বিনে অকারণ জীবন যৌবন।‘ দৌলত উজির বাহরাম খান, ১৬৫০। ক্রিয়া-বিশেষণ, বিনা কারণে; নিষ্প্রয়োজনে; উদ্দেশ্যহীনভাবে। ‘নতুবা আপনি, অকারণে অথবা সামান্য কারণে, আর্য্যাকে বিসর্জ্জন দিবেন ইহা কার মনে ছিল।’ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর; ‘অপর জন্তুদের ন্যায় অকারণ জীবপ্রাণহরণ করে না।‘ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৪। অনর্থক; নিরর্থক; বৃথা। ‘অকারণ ধরি এ আজানু-বাহু-দণ্ড। অকারণ ধরি আমি ধনুক প্রচণ্ড।’ রামায়ণ, কৃত্তিবাস ওঝা কারণশূন্য; উদ্দেশ্যবিহীন; ভিত্তিহীন। ‘অনর্থক অসূয়া ও অকারণ সন্দেহে তিনি আপনাকে …।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৭৮। অর্থহীন। ‘শুধু অকারণ পুলকে ক্ষণিকের গান গা রে আজি প্রাণ ক্ষণিক দিনের আলোকে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০০। অকর্তব্য। ‘অকারণ হইলে জীবন হারাইবি।’ গোবিন্দচন্দ্রের গীত
অকারণজাত [সংস্কৃত ন = অ + কারণ + জাত] বিশেষণ অহেতুক তৈরি হয়েছে এমন। ‘এরূপ পার্থক্য যে সকল সময়েই অকারণজাত, তাহা নহে।‘ প্রমথ চৌধুরী, ১৯২০।
Scroll Up