এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 50 টি।

অকন [সংস্কৃত ক্ষণ>] ক্রিয়া-বিশেষণ এখন; এই সময়ে ৷ ‘খাঁ সাহেবের কাছে এই সতীপণার যা শুনাতে হয় তা হবে অকন৷’ মীর মশাররফ হোসেন, ১৮৬৯।
অকনিষ্ঠ [সংস্কৃত] বিশেষণ যার কনিষ্ঠ নাই। [অক (পাপ-বেদনিন্দাজনিত অধর্ম) নিষ্ঠ (রত)-আক্রোশোক্তি] বিশেষ্য, বুদ্ধদেব।
অকপট [সংস্কৃত ন = অ-কপট (ছল)] বিশেষণ কপটতাহীন; ছলশূন্য; প্রবঞ্চনাহীন; ভণ্ডামিবর্জিত। ‘অকপট সখা বলি কর অহঙ্কার।’ — ব্রহ্মসঙ্গীত; ‘প্রভেদ এই যে, সাধুরা কপট অসাধুরা অকপট৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৩। সরল; sincere. ‘অকপট বন্ধু; অকপট হৃদয়’; ‘অকপট মুরারিরে কহেন আপনে৷’ বৃন্দাবন দাস, ১৫৮০। সঠিক৷ ‘সুনত ঊদ্ধব কহোঁ অকপট বানি৷’ মালাধর বসু, ১৫০০। নিরপেক্ষ। ‘আমাদের আত্মশাসন ব্যাপারে অপক্ষপাত সমালোচনা করিয়া অকপট চিত্তে বলুন দেখি …।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৫। বিশেষ্য কপটতা (-ট-)-সরলতা। ঔদার্য্য।
অকপটচিত্ত [সংস্কৃত ন = অ + কপট + চিত্ত] বিশেষণ সরলমনা৷ ‘পিতা আমার অতি নিরীহ অতি সরল, অতি অকপটচিত্ত৷’ দীনবন্ধু মিত্র, ১৮৬০।
অকপটচিত্তে [সংস্কৃত] ক্রিয়া-বিশেষণ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; স্পষ্ট কথায়। গোপন না করে; খুলে; অকপটে।
অকপটভাবে [সংস্কৃত] ক্রিয়া-বিশেষণ ছলনা না করে; সরলভাবে; সরল অন্তরে; স্পষ্ট কথায়। গোপন না করে; খুলে; অকপটে।
অকপটে [সংস্কৃত ন = অ + কপট + বাংলা এ] ক্রিয়াবিশেষণ বিনা দ্বিধায়। ‘আচার্য্য বলে অকপটে করহ আহার৷’ কৃষ্ণদাস কবিরাজ, ১৫৮০; ‘অকপটে দিব পরিচয়৷’ মুকুন্দ দাস, ১৬০০। আন্তরিকভাবে। ‘তুমি হৃদয়ের দ্বার মুক্ত করে অকপটে বল, ইনি কে’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৭৩।
অকবজ [সংস্কৃত ন = অব্যয় আরবী কব্জ্ (অধিকার)] বিশেষণ অনায়ত্ত; অনধিকৃত।
অকবি [সংস্কৃত ন = অ-কবি] বিশেষণ কবি নয় এমন ব্যক্তি; কবিত্ববিহীন; অপ্রসিদ্ধ; অকৃতী; কবিনামের অযোগ্য; রসজ্ঞান হীন। ‘আশে পাশে ঘোরে ঝিটা — নিতান্ত অকবি!’ — দ্বিজেন্দ্রলাল রায়; ‘কবি হোক, অকবি হোক, কারো সঙ্গে তরকার করার চেয়ে … একটা গান লেখা ভালো৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯১; ‘কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে।‘ কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২৬।
অকবিজনোচিত [সংস্কৃত] ক্রিয়াবিশেষণ রসবোধহীন। ‘একটা অকবিজনোচিত কথা স্বীকার করতে লজ্জা বোধ হত।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৪।
অকম্প [সংস্কৃত ন = অ-কম্প (স্পন্দন)] বিশেষণ কাঁপে না এমন; কম্পনশূন্য; স্থির; অনড়। ‘অগ্নিময়তেজঃ বাজী ধাইল অম্বরে, অকম্প চামর শিরে।’ — মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬১।
অকম্পন [সংস্কৃত ন = অ-কম্প (কাঁপা) + অন্ (ভাববাচ্যে)] বিশেষ্য কম্পনশূন্য; স্থির। রাবণের একজন সেনাধ্যক্ষ। ‘অকম্পন রণে ধীর, যথা ভূধর, পড়েছে সহ অতিকায় রথী।’ — মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত
অকম্পনীয় [সংস্কৃত] বিশেষণ কম্পনের অয্যোগ্য। কম্পন-অসাধ্য।
অকম্পিত [সংস্কৃত ন = অ-কম্পিত] বিশেষণ কাঁপে না এমন; কম্পনরহিত; অচঞ্চল; স্থির; ধীর। ‘অকম্পিত কলেবর, অকম্পিত কণ্ঠ, অকম্পিত চরণ’; ‘স্বচ্ছ সরোবরে অকম্পিত চন্দ্রকরচ্ছায়া।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯২। ভয়ে কাঁপেনি এমন। ‘অকস্পিত বক্ষ প্রসারিত৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩২। বিশেষ্য [যাঁদের বুদ্ধি চাঞ্চল্য নাই] বৌদ্ধসম্প্রদায়ের গণাধিপতি বিশেষ। [নাট্য শাস্ত্র, অঙ্গাভিনয়ে] উপদেশ, অনুসন্ধান ইত্যাদি স্থলে কম্পিত মস্তকের ধীর গতি। স্ত্রীলিঙ্গ অকম্পিতা।
অকম্প্য [সংস্কৃত] বিশেষণ কম্পনের অয্যোগ্য। কম্পন-অসাধ্য।
অকম্প্র [সংস্কৃত ন = অ-কম্প্র। কম্প + র] বিশেষণ অকম্পিত; স্থির; স্থিরভাবে জ্বলে এমন। ‘এ দায়িত্ব সেই শিল্পী এবং মনীষীরাই পালন করতে পারবেন যাদের আত্মদীপ অকম্প্র৷’ শিবনারায়ণ রায়, ১৯৫০; ‘অকম্প্র নেত্র’; ‘সমরে অকম্প্র’ (কম্প্র)।
অকম্মা, অকর্মা [সংস্কৃত ন = অ+কর্ম>] বিশেষ্য কুঁড়ে৷ ‘অকম্মা খালি তাড়ি গিলচে৷’ হাসান আজিজুল হক, ১৯৬০।
অকম্যুনিস্ট [সংস্কৃত ন = বাংলা অ + ইংরেজি কম্যুনিস্ট] বিশেষণ কমিউনিস্ট নয় এমন। ‘অকম্যুনিস্ট দেশের আক্রমণ।‘ আজাদ পত্রিকা, ১৯৬২।
অকর [সংস্কৃত ন = অ-কর (হস্ত)-বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ যার কর নাই; হস্তশূন্য। ক্রিয়া-বিশেষণ করহীন হইয়া; কর ব্যতিরেকে।
অকর [সংস্কৃত] বিশেষণ শুল্কের অযোগ্য; রাজভাগরহিত; নিষ্কর; tax or rent-free. ‘অকর ভূমিকে সকর করত সহস্রকর সূর্য্যের ন্যায় কর শোষণ করিয়াছিলেন।‘ সংবাদ প্রভাকর, ১৮৫২।
অকরণ [সংস্কৃত ন = অ-করণ] বিশেষ্য না করা; অননুষ্ঠান; অক্রিয়া; নিবৃত্তি। অনুচিত কর্ম। নির্গুণ ব্রহ্ম; সর্বকর্ম রহিত পরমাত্মা। [সংস্কৃত করণ = ইন্দ্রিয়] বিশেষণ ইন্দ্রিয়াদি হীন; অবয়ব হীন; নিরাকার।
অকরণি [বাংলা অনুবাদ গ্রন্থে, অন্যত্র বিরল। ‘শাপে আক্রোশে অকরণিরিত্যা-দয়ঃ’ — অমরকোষ টীকা] বিশেষ্য ক্রোধে অধীর হয়ে কারও প্রতি অনিষ্ট-সূচক বাক্যপ্রয়োগ; অভিশাপ; আক্রোশ।
অকরণী (-র-) [গণিত পরিভাষা। ন = অ-করণী (যে রাশির মূল সূক্ষ্মরূপে বাহির করা যায় না)] বিশেষ্য যে রাশির মূল আকর্ষণ অর্থাৎ বের করলে বা ভাগ করলে ভাগশেষ থাকে না। সাঙ্কেতিক চিহ্ন √; যথা— √4 = 2; √9 = 3 rational quantity.
অকরণীয় [সংস্কৃত ন = অ + করণ] বিশেষণ করা উচিত নয় এমন; অকর্তব্য; অনুষ্ঠানের অযোগ্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘প্রভুর অকরণীয় সমুদায় কার্য্যে …।‘ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৭৯।
অকরুণ [সংস্কৃত ন = অ-(নাই) করুণা (দয়া) যার — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ করুণা-রহিত; নিষ্ঠুর; নির্দয়; নির্মম। ‘কিবা তুমি কর ভয় বন্ধু তোর নহে অকরুণ।’ — দ্বিজ চণ্ডীদাস, ১৬০০। অসংবেদনশীল। ‘আমার অকরুণ সমালোচক বলেছেন …।‘ প্রমথ চৌধুরী, ১৯২৮। স্ত্রীলিঙ্গ অকরুণা।
অকরুণা [সংস্কৃত] বিশেষ্য, স্ত্রীলিঙ্গ করুণাহীন যে। ‘অকরুণা! প্রাণ নিয়ে এ কি মিথ্যা অকরুণ খেলা।‘ কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২৩।
অকরোটী [সংস্কৃত ন = অ (অভাব বা অল্পতা)- করোটী (মাথার খুলি)] বিশেষ্য যে সকল জন্তুর মাথার খুলির সম্পূর্ণ বা আংশিক অভাব আছে (এই সকল জন্তু পঞ্জরী প্রাণীর নিম্নস্তরে অবস্থিত) Acrania.
অকর্কশ, অকর্ক্কশ [সংস্কৃত ন = অ-কর্কশ] বিশেষণ কার্কশ্যরহিত; কোমল; নরম; কর্কশ নয় এমন৷ ‘প্রসন্নভাবে অকর্কশ মৃদু বচনে করাই শ্রেয়ঃকল্প।‘ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৪। মসৃণ। স্ত্রীলিঙ্গ অকর্কশা।
অকর্ণ [সংস্কৃত ন = অ-নাই) কর্ণ যার — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ শ্রবণেন্দ্রিয়হীন। ‘অচক্ষু সর্বত্র চান, অকর্ণ শুনিতে পান, অপদ সর্বত্র গতাগতি।’ — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। যে কানে শোনে না; বধির; বদ্ধকালা।
অকর্ণ [সংস্কৃত অ (অভাবার্থে)-কর্ণ (সূতপুত্র রাধেয়) = অঙ্গরাজ মহাবীর কর্ণ] বিশেষণ কর্ণশূন্য (তুলনামূলক — ‘অরাম বা অরাবণ।’ — মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত)।
অকর্ণ [সংস্কৃত ন = অ (নাই) কর্ণ (হাল) যার – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ হালশূন্য (নৌকা) [প্রয়োগের অভাব/বিরল প্রয়োগ]। [সর্পের কর্ণ নাই, চক্ষুই তার কর্ণের কার্য্য করে বলিয়া] সর্প [অপ্রচলিত]।
অকর্ণধার [সংস্কৃত ন-কর্ণধার] বিশেষণ নাবিকহীন; চালকহীন।
অকর্তন, অকর্ত্তন [সংস্কৃত] বিশেষ্য অচ্ছেদন। বিশেষণ ঈষৎ খর্ব।
অকর্তব্য, অকর্ত্তব্য [সংস্কৃত ন = অ-কর্তব্য। কৃ-করা + তব্য (ভাববাচ্যে)-করণ-যোগ্য] বিশেষণ করার অনুপযুক্ত; অকরণীয়; অননুষ্ঠেয়। অনুচিত। ‘তাহার রাজ্যে আমার কর্তৃত্ব করিয়া কার্য্য করা অকর্ত্তব্য৷’ রামরাম বসু, ১৮০১; ‘অকর্তব্য৷’
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪৷ অপারগ। ‘করিতে অকর্ত্তব্য।‘ উইলিয়ম কেরি, ১৮০২৷ বিশেষ্য অকর্তব্যতা; অনৌচিত্য। ‘কর্তব্যনীতির সঙ্গে ধর্মনীতির বিচ্ছেদসাধন করায় অকর্তব্য নাই।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩৭৷
অকর্তব্যতা, অকর্ত্তব্যতা [সংস্কৃত] বিশেষ্য ন্যায়বিরুদ্ধতা৷ ‘বহুবিবাহের অকর্ত্তব্যতা বিষয়ে … এক পত্র লিখিয়াছিলাম।‘ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৪২।
অকর্তব্যবুদ্ধি, অকর্ত্তব্যবুদ্ধি [সংস্কৃত] বিশেষ্য করা অনুচিত এমন বিবেচনা-বুদ্ধি। ‘অকর্তব্যবুদ্ধি মানুষের একটা মহদ্গুণ৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯২৮।
অকর্তা, অকর্ত্তা [সংস্কৃত ন = অ-কর্তা] বিশেষ্য যে কর্তা নয়; অপ্রভু। ‘সকলেই যখন কর্ত্তৃত্ব দেখাইতেছে তখন কে কর্ত্তা আর কে অকর্ত্তা কি বলিব?” অনির্মাতা। অপ্রধান।
অকর্তুত [স অকর্তৃত্ব] বিশেষণ কর্তৃত্বহীন৷ ‘তিনি কি প্রথিবীর রাজারে করিতে ও অধোম, অকর্তুত …।‘ দোম আন্তোনিয়ো দো রোজারিয়ো, ১৭৪৩৷
অকর্তৃক [সংস্কৃত] বিশেষণ অক্রিয়৷ ‘সেই দূরত্ববশত সে অকর্তৃক হয়ে উঠেছে৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩৬।
অকর্তৃত্ব, অকর্ত্তৃত্ব [সংস্কৃত ন = অ-কর্ত্তৃত্ব] বিশেষ্য কর্তৃত্বের অভাব; অপ্রভুত্ব। কর্তৃত্বাভিমানরাহিত্য।
অকর্ম, অকর্ম্ম [সংস্কৃত ন = অ-কর্ম্মন্ (কার্য্য)। গ্রাম্য অকম্মো] বিশেষ্য অপকর্ম; অকার্য; গর্হিত কাজ; কুকার্য; অবৈধ কর্ম; খারাপ কাজ৷ ‘অকর্ম জাহিলি কার্যে নরকেত পড়ে।‘ সৈয়দ আলাওল, ১৬৮০; এমত অকর্ম মাও কৈলা কি কারণ।‘ সৈয়দ সুলতান, ১৭০০; ‘কোন অকর্ম্ম করিলে তাহার দণ্ড … নাই।‘ সমাচার দর্পন, ১৮২১; ‘সম ধর্ম্মাধর্ম্ম, সম কর্ম্মাকর্ম্ম, শত্রুমিত্র সমতুল।” — ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। [গীতা] কর্মের অকরণ; কর্মরাহিত্য; কর্ম সন্ন্যাস; কর্মত্যাগ বা বিসর্জন। ‘জীবন্মুক্ত সন্ন্যাসীর কর্ম্মও নাই অকর্ম্ম ও নাই।’
অকর্মক, অকর্ম্মক [সংস্কৃত ন = অ (নাই) কর্ম্মন্ (কর্ম্ম) যার + ক — বহুব্রীহি সমাসে ক যোগ] বিশেষণ যার কর্ম নাই; যে কর্ম করছে না; কর্মরহিত; সক্রিয় নয় এমন৷ ‘এ ঐক্য বড় অকর্মক, ইহা সজীব সকর্মক নয়।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯৩৭। কর্মে অনুপযুক্ত। [ব্যাকরণ] যার কর্ম থাকে না এমন ক্রিয়াপদ (যাওয়া, মরা ইত্যাদি) Intransitive. বিশেষ্য কর্ম নেই এমন ব্যক্তি। ‘আমরা অকর্মকদের মধ্যে ঝঞাট বাধিয়ে … ৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯১৫
অকর্মঠ, অকর্ম্মঠ [সংস্কৃত কর্ম + ঠ (কর্তৃবাচ্যে) ক্ষমতার্থে — উভয় দৈহিক এবং কৌশল জ্ঞান সম্বন্ধে। ‘থ’র কঠোর ও দৃঢ়তর রূপ ‘ঠ’। সংস্থা; স্থান ও থাকা বোধক, সুতরাং কর্মে স্থিতিজ্ঞাপক। কিন্তু শক্তি ও কৌশল জ্ঞান না থাকলে স্থান অধিকার করা যায় না। তাই কর্মঠ অর্থে কর্মক্ষম। অ + কর্ম + ঠ (স্থ-শক্ত, কুশল)] বিশেষণ অকর্মক্ষম; অকর্মণ্য; কর্মক্ষম নয় এমন৷ ‘স্ত্রৈণ, অকর্ম্মঠ দশাপ্রাপ্ত হইয়া শেষে মুসসমান-হস্তে লুপ্ত হইলেন৷’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৯২৷ [গ্রাম্য কথ্যরূপ] অলস; কঁড়ে।
অকর্মণ্য, অকর্ম্মণ্য (-র্ম্ম ন্ন) [সংস্কৃত ন = অ + কর্ম্মণ্য] বিশেষণ সক্রিয় নয় এমন৷ ‘অকর্ম্মণ্য মধুমক্ষিকা সঞ্চয়ি মক্ষিকার সহিত চাকে থাকিয়া৷’ বঙ্গদূত পত্রিকা, ১৮২৯। অনুর্বর৷ ‘জলসেচনের দ্বারা অকর্ম্মণ্য ভূমিকে কর্ম্মণ্যকরণ৷’ সমাচার দর্পণ, ১৮৩৫। অকেজো; অব্যবহার্য; যে বস্তু কোন কার্যেই লাগে না; অচল; বিকল। ‘ঐ জাহাজ এইক্ষণে অকর্ম্মণ্য হইয়াছে৷’ সমাচার দর্পণ, ১৮৩৮। ব্যবহারের অযোগ্য। ‘তদ্ভিন্ন, গণিতবিদ্যা-সংক্রান্ত আর যে সকল যন্ত্র ছিল, তাহাও অত্যস্ত অপকৃষ্ট ও অকর্মণ্য।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮8৯। কর্মক্ষম নয় এমন। ‘আমার শৃঙ্গ যেমন দৃঢ়, তেমনই সুন্দর; কিন্তু, আমার পা দেখিতে অতি কর্দয্য ও অকর্মণ্য৷‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৫৬। কর্তব্যকর্ম করতে অক্ষম। ‘দুই শত অহিফেনসেবী অকর্মণ্য সৈন্য ফেরত পাঠাইতে হইয়াছিল৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৮১৷ উপযোগিতাবর্জিত; কর্মের অযোগ্য; যার কর্ম করার ক্ষমতা নাই। ‘একটা অকর্মণ্য কারুকার্য পাইলে আর কিছু চাহে না।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯২; ‘সে ক্রমাগত রোগে ভুগিয়া এক প্রকার অকর্ম্মণ্য হইয়া পড়িয়াছে।’ কর্মবিমুখ। ‘আমরা কুনো অকর্মণ্য৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৩। আলস্যপূর্ণ৷ ‘এরকম অকর্মণ্য দশা ভালো লাগে না।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৫। বিশেষ্য অকর্মণ্যতা — কর্মে অযোগ্যতা বা অপটুতা।
অকর্মণ্যতা, অকর্ম্মণ্যতা [সংস্কৃত] বিশেষ্য কর্মে অযোগ্যতা বা অপটুতা; অক্ষমতা। ‘আমাদের অহঙ্ককার আমাদের অকর্মণ্যতার পৃষ্ঠপোষক৷’ প্রমথ চৌধুরী, ১৯১৪। কর্মহীনতা৷ ‘অলস অকর্মণ্যতার অতিরিক্ত ভদ্র পেশা যাদের আছে আঙুলে গুনিয়া ফেলা যায়৷’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৩৬।
অকর্মণ্যভাবে, অকর্ম্মণ্যভাবে [সংস্কৃত] ক্রিয়াবিশেষণ কর্মহীন অবস্থায়৷ ‘অকর্মণ্যভাবে কেবল দলাদলি কানাকানি হাসাহাসি করিয়াছি৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৭।
অকর্মণ্যা, অকর্ম্মণ্যা [সংস্কৃত] বিশেষণ, স্ত্রীলিঙ্গ কর্মে অলস৷ ‘স্ত্রীলোক শিক্ষিতা হইলে অবিনীতা, লজ্জাহীনা ও অকর্মণ্যা হয়৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৮৩।
অকর্মত্ব, অকর্ম্মত্ব [সংস্কৃত] বিশেষ্য কর্মহীনতা। ‘পুণ্য কর্ম অকর্মত্ব প্রাপ্ত হয়৷’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৮২।
অকর্মভোগ, অকর্ম্মভোগ [সংস্কৃত ন = অ-কর্ম্ম + ভোগ (কৃতকর্মের ফলভোগ, যে কারণ জীব বার বার সংসারে জন্মগ্রহণ করে)] বিশেষ্য কর্মফল ভোগ হতে অব্যাহতি বা মুক্তি। বৃথা কষ্ট না পাওয়া; বৃথা শ্রম হইতে নিষ্কৃতি লাভ। [অকর্ম-ভোগ] কুকর্ম বা দুষ্ক্রিয়ার ফলভোগ।
অকর্মা, অকর্ম্মা [সংস্কৃত অকর্মান্ প্রথমা, একবচন। ন = অ + কর্মান্। গ্রাম্য অকম্মা] বিশেষণ যে কোন কর্মা সম্পন্ন করতে পারে না; কোন কর্মের নয়; যে কোন কাজেই লাগে না; নিষ্কর্মা৷ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; ‘বলিলেন, মূর্খ, অকর্মা৷’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৭৮। অলস; জড়প্রকৃতি। কর্মাবিমুখ। ‘তোমারি তুলনা তুমি চাঁদ অকর্ম্মার ধাড়ি।’ — দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
অকর্মা, অকর্ম্মা [সংস্কৃত অ (অপকৃষ্ট) + কর্ম + আ (কর্তৃত্বার্থে) অপকর্মাকারী; নিন্দনীয় কর্মাকারী; কুক্রিয়াকারী।] বিশেষ্য ভীরু স্বভাবের লোক৷ ‘এ দেশীয় ভাষায়, “ভালো মানুষ” শব্দের অর্থ ভীরু-স্বভাবের লোক — অকর্ম্মা।’ বঙ্গদর্শন পত্রিকা, ১৮৭২৷
অকর্মান্বিত, অকর্ম্মান্বিত [সংস্কৃত ন = অ-কর্ম (দ্বারা) অন্বিত (যুক্ত) তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস, নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস — যে কর্মে যুক্ত নহে] বিশেষণ কার্যরত নহে; কর্মহীন; নিষ্কর্মা; বেকার unemployed. অকার্যেরত; দুষ্কর্মান্বিত। স্ত্রীলিঙ্গ, অকর্মান্বিতা; কর্মান্বিতা।
অকর্মার ধাড়ি, অকর্মার ধাড়ী বিশেষ্য নিতান্ত অলস ব্যক্তি। ’আস্ত একটা অকর্মার ধাড়ী৷’ নরেন্দ্রনাথ মিত্র, ১৯৪৪।
অকর্মিষ্ঠ, অকর্ম্মিষ্ঠ [সংস্কৃত অ-কর্মিষ্ঠ। গ্রাম্য অকম্মিষ্টি] বিশেষণ অকর্মেরত; অকর্মণ্য; কর্মনিষ্ঠ নয় এমন৷ ‘কর্ম্মিষ্ঠ এবং অকর্ম্মিষ্ঠ …।‘ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ১৮৭৯। স্ত্রীলিঙ্গ অকর্মিষ্ঠা।
Scroll Up