এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 40 টি।

অংসে [সংস্কৃত অংসে (ত্রৈ-ত্রাণে) + অ (কর্তৃবাচ্য)] বিশেষ্য স্কন্ধরক্ষক কবচ; স্কন্ধাবরক।
অংহ [সংস্কৃত অন্‌হ্‌ (গমন করা) + অ (দান) – সংজ্ঞার্থে – যদ্বারা অধোগমন ঘটে] বিশেষ্য অঘ; পাপ; অধর্ম; অধঃপতন।
অংহতি বানানভেদ অংহতী [সংস্কৃত] বিশেষ্য ব্যাধি; ত্যাগ; দান [অপ্রচলিত]।
অংহতী বানানভেদ অংহতি। [সংস্কৃত] বিশেষ্য ব্যাধি; ত্যাগ; দান [অপ্রচলিত]।
অংহ্রি [অংহ দ্রষ্টব্য। সংস্কৃত অংহ + রি (করণবাচ্যে/করণকারকে) – যদ্বারা গমন করা যায়। অঙ্ঘ্রি দ্রষ্টব্য] বিশেষ্য চরণ। ‘অংহ্রিযুগ’ মদনমোহন তর্কালঙ্কার বৃক্ষমূল। (কবিতার) চতুর্থাংশ।
অংহ্রিপ [সংস্কৃত অংহ্রি (পাদ) প (পা = পান করা) + অ (কর্তৃবাচ্যে) – যে পাদ বা মূলদ্বারা পান (আকর্ষণ) করে – তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস] বিশেষ্য বৃক্ষ [বাংলায় বিরল]।
অংহ্রিস্কন্ধ [সংস্কৃত অংহ্রি (চরণ) – স্কন্ধ (গুঁড়ি) ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস] বিশেষ্য গোড়ালি [বাংলায় বিরল প্রয়োগ]।
আকসার [আরবী—অক্‌সর্‌ (comparative & superlative of আরবী—কসর্ (বহু, প্রচুর) বাংলা (স = চ, ছ) আক্‌চার, আক্‌চার] ক্রিয়াবিশেষণ প্রায়ই; যখন তখন; অনেক সময়; সদা-সর্বদা; every now & then; often.
ঐছন [হিন্দী ঐসন (স = ছ) মেয়েলি ‘ঐসিন’>। প্রাচীন বৈষ্ণব সাহিত্য ও ব্রজবুলিতে বহুল ব্যবহৃত। বৈষ্ণব পদাবলীতে ‘ঐসন’ ‘ঐছন’ দুইরূপই ব্যবহৃত হয়েছে। তুলনামূলক, ‘নিতি নিতি ঐসন দুহুঁক বিলাস। ব্যজন করতহি গোবিন্দদাস” বৈষ্ণব পদলহরী। আধুনিক বাংলায় অপ্রচলিত] ক্রিয়াবিশেষণ, ঐরূপ; ঐপ্রকার; ও রকম। ‘নাম পরতাপে যার, ঐছন করিল গো, অঙ্গের পরশে কিবা হয়।’ — চণ্ডীদাস। ‘শুনইতে ঐছন রাইক বাণী, নাহ নিকটে সখী কয়ল পয়ানি।’ — বিদ্যাপতির পদাবলী
ক অক্ষর গোমাংস [বাগধারা] যে বর্ণমালান্তর্গত বর্ণের আদ্যক্ষর ‘ক’ও কখন অস্পৃশ্য গোমাংসের ন্যায় মুখে আনেনি, অর্থাৎ বর্ণমালা স্পর্শও করেনি; বিদ্যাহীন; মূর্খ।

খর্ব, খর্ব্ব [গ্রাম্য খবর। খর্ব্ব্ (দর্প করা, গমন করা) + অ (কর্তৃবাচ্যে, সংস্কৃত ভাষার)] বিশেষণ, হ্রস্ব; ছোট; হীন। ‘বন্ধুর নিকট আপনাকে বড়ই খর্ব্ব অনুভব করিত’ উত্তরা বামন; বেঁটে। বিশেষ্য সহস্র কোটি সংখ্যা; 1,00,0,00,00,000 সংখ্যা। কুবেরের নিধিবিশেষ। কুজবৃক্ষ।

খর্বক বিশেষণ, বামন; হ্রস্ব।

খর্বকায় বিশেষণ বেঁটে; বামন।

খর্ব্বট [খর্ব্ব + অট (জ্ঞা◦)] বি, পর্ব্বত প্রান্তবর্ত্তী গ্রাম। 2 গ্রামের মধ্যস্হ গ্রাম।
খর্ব্বশাখ̆ [খর্ব্ব (ছোট) শাখা (বাহু) ষার-বহু◦] বি, খর্ব্ববাহু; বামন; খর্ব্ব; বেঁটে। 2 ক্ষুদ্র শাখাবিশিষ্ট বৃক্ষ।
খ̆র্ব্বাকার, খ̆র্ব্বাকৃতি-বিণ, বেঁটে; বামন।
খ̑র্ব্বিত̆ [খর্ব্ব + ইত] বিণ, কৃতখর্ব্ব; হ্রস্বীকৃত; হ্রস্ব।

ঘূণাক্ষরে [সংস্কৃত, বাগধারা] ক্রিয়াবিশেষণ সামান্য ইঙ্গিতে; ইশারায়।
(ইঁঅঁ) বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণমালার দশম, চবর্গের পঞ্চম, অনুনাসিক বর্ণ। উচ্চারণস্থান তালু। অন্য বর্ণের সাথে যুক্ত হলে এর উচ্চারণ তালু ও নাসিকা সাহায্যে অনেকটা “ঙ্যঁ” মত হয়। কিন্তু চ বর্গের অন্য চারবর্ণের সাথে যুক্ত হলে ন্-বৎ হয়, যথা— ‘অঞ্চল, সঞ্চয়’ ইত্যাদি।
চলিত বাংলায় স্বতন্ত্র ব্যবহার নাই। কিন্তু প্রাচীন বাংলায় অনুনাসিক উচ্চারণ বা চন্দ্রবিন্দুস্থলে ভূরি ব্যবহার ছিল। ‘রাধাঞে’ (= রাধাএঁ = রাধায় = রাধাকে), কাহ্নাঞি, পাইঞাঁ’ ইত্যাদি। ‘নিশ্চয় জানিও মুঞি ভখিমু গরলে’, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস; ‘পূর্ব্বে সুচিত্রা নাম ইঞির হব খ্যাতি’ (ইঞির = ইঁহার), সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা ১৩১৮ শকাব্দ। ‘তেঞি কিয়ে তেজবি কান’, গোবিন্দ দাস; আধুনিক বাংলা ‘আ, য়া, ইয়’ স্থলে প্রাচীন বাংলায় ‘ঞ’। ‘অমিঞা আগোরল’ গোবিন্দ দাস; এত বলি এক গ্রাস অন্ন হাতে লঞা; উঝালি ফেলিল আগে যেন ক্রুদ্ধ হঞা’ চৈতন্য চরিত; ‘দিঞাছিল’, উদ্ধবানন্দের রাধিকা মঙ্গল; একাক্ষর-কোষধৃত অর্থে প্রাচীন বাংলা পদ্যে ও গদ্যে এর স্বতন্ত্র কিন্তু বিরল ব্যবহার দৃষ্ট হয়।
বিশেষ্য অনুনাসিক বাদ্য বা কণ্ঠধ্বনি; তানপূরা আদি তত যন্ত্রের ঝঙ্কার। ইঞ্জিন আদির লৌহচক্রের ঘূর্ণন বা ঘর্ষণ শব্দ; ঘর্ঘর ধ্বনি; ঞকার গায়ন। শুক্রাচার্য্য। [সংস্কৃত অহম্ আমি আইঁ এঁ ঞ] এই আমি; এজনা। ‘ঞকার কারিণী, ঞ চরণে তোমার।’ বাসবদত্তা6 [সংস্কৃত] ক্রূর। ষণ্ড। স্বধর্মচ্যুত যোগী। 9 [তন্ত্রে] পরম কুণ্ডলী।
-ঞঁ [যেঁ = ত্রঁ = তে = হিন্দি নে (সকর্মক ক্রিয়ায় কর্তৃবাচক শব্দের প্রত্যয়) = হিন্দি সে = বাংলা হতে, দিয়ে। প্রাচীন বাংলায় প্রায় সকল বিভক্তির রূপ। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে) -মাঞঁ (মা), তোঞ (তুমি), রতীঞঁ (রতি-হেতু), সুরতীঞঁ (সুরত দ্বারা), যুগতীঞঁ (যুক্তিতে)। ‘রাহুঞঁ (= রাহু) গিলল যেন চাঁদ সুধাকর’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০; ‘এবেঁ দৈবকীঞঁ যত গবৃর্ভ ধরিব।‘ বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞকার (য়্যেঁকার) বিশেষ্য ঞ এই বর্ণ। ঘর্ঘর ধ্বনি। ‘ঞকার ঘর্ঘর ধ্বনি’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর গায়ন। ‘গায়ন ঞকার’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। ঘোর নাদ; হুঙ্কার। ‘ঞকার করিয়া এস’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। ধর্মে অনাসক্ত চিত্ত। ‘ঞকার করিয়া এস ঞকারে আমার’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। রুদ্র। ‘রুদ্রও ঞকার’ বাসবদত্তা
ঞকারকারিণী বিশেষ্য, স্ত্রীলিঙ্গ ঘোর নিনাদিনী; মহা ভয়ঙ্কর হুঙ্কারকারিণী, চণ্ডী; কালিকা। ‘ঞকারকারিণী ঞ চরণে তোমার’ বাসবদত্তা
ঞন্দ্র [সংস্কৃত ইন্দ্র] বিশেষ্য ইন্দ্র। ‘ঞন্দ্রের আপদ হরো কৃপায় কেবল।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৭২০।
ঞশান [সংস্কৃত ঈশান] বিশেষ্য ঈশান। ‘ঞশান বনিতা তুমি ইন্দ্রিয় সকল।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৭২০।
ঞা, ঞাঁ [আধুনিক বাংলায় -য়া,-ইয়া] ধাতুর প্রত্যয়বিশেষ। য়া স্থলে ৪০০ বত্সর পূর্ব্বের প্রাচীন বাংলায় চালু ছিল। ‘রাধাক এড়িঞা জায়িতেঁ কাহ্ন কৈল মন’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন; ‘কান্দে ইন্দ্রদুম্ন্য বিষাদ ভাবিঞা। কোন কর্ম্ম করিল ব্রহ্ম পুরী গিঞা’ চৈতন্য মঙ্গল। (প্রাচীন বাংলা লঞাঁ, গিঞা, ভাবিঞা, করিঞা = আধুনিক বাংলায় লইয়া, গিয়া, ভাবিয়া করিয়া, ইত্যাদি)।
-ঞিঁ [হিন্দি হিঁ, হী] সপ্তমী বিভক্তি, আধুনিক বাংলায় য়, ই। ‘হেন মনে গুণী বড়ায়ি গেলান্তি তথাঞিঁ’ (= তথাহিঁ = তথাহীঁ = তথায়ই = সেইখানে)। বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞি বিশেষ্য প্রেরণার্থে ধাতুর প্রত্যয়বিশেষ; ণিচ্ প্রত্যয়ের রূপান্তর।
ঞিহ (ইঁহ) [প্রাচীন বাংলা ইঁহ, তুলনামূলক তিহঁ = তিনি] সর্বনাম ইহা; ইনি; তিনি। ‘তাঁর প্রিয়শিষ্য ঞিহো পণ্ডিত হরিদাস।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৫৮০; ‘ঞিহ আমাদিগের বেরাদরির মধ্যে।’ মহারাজ নন্দকুমারের পত্র, ১১৭৮ শকাব্দের খত, সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা।
ঞিহাকে সর্বনাম একে। ‘ঞিহাকে জিজ্ঞাসা কর।‘ সমাচার দর্পন, ১৮২১।
ঞিহার (ইঁহার) [প্রাচীন বাংলা] সর্বনাম ইঁহার; এর। ‘কাজী যবন কেহো ঞিহার না কর হিংসন।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৫৮০; ‘ঞিহার স্থানে বিস্তারিত জ্ঞাত হইয়া কার্য্য করিবে।’ মহারাজ নন্দকুমারের পত্র, ১১৭৮ সালের খত, সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা।
ঞিহাঁরে সর্বনাম এঁকে। ‘ঞিহাঁরে পূজিবে পুরন্দর আদি রাজা।‘ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০।
ঞেঁ [= এঁ] উত্তম পুরুষ বিভক্তি। মোঁঞে = মোএঁ = আমি। ‘এড় ঘর যাঞোঁ মোঞেঁ শকতি না কর।’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞোঁ [প্রাচীন বাংলা] উত্তম পুরুষ ক্রিয়া বিভক্তি। যাঞোঁ = যাই। ‘এড় ঘর যাঞোঁ মোঞেঁ শকতি না কর।’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞ্যন্ত [ঞি + অন্ত] বিশেষণ ঞি এই প্রত্যয় যে শব্দের অন্তে আছে; ণিজন্ত প্রত্যয়। বিশেষ্য ঞি-প্রত্যয়ান্ত শব্দ।
টং [অনুকুর। টঙ্‌। টঙ্ক (ক্রোধ)] বিশেষ্য ক্রোধমূর্ত্তি। ‘রেগে টং হয়ে বসে আছে।’ 2 [টঙ্কার] ধাতু বা গুরু কাষ্ঠ সহ ধাতু বা অন্য কঠিন বস্তুর আঘাত শব্দ; ধনুকে চড়ান ছিলার শব্দ; তত যন্ত্রের তারে আঘাত শব্দ। টংটং-বারংবার ঐরূপ শব্দ। ঘড়ির শব্দ। ‘টং টং করিয়া ঘড়িতে আটটা বাজিল।’ (পেটা ঘড়ি বা ঘণ্টা বাজিবার শব্দ ‘ঢং ঢং’)। লাটি ঠুকিয়া ঠুকিয়া চলা বা ঘুরিয়া বেড়ানর ভাব। ‘আর টং টং করে ওখান এখান করে বেড়াতে হবে না।’ ক্রমাগত ঐরূপ করা অর্থে “টঙস্ টঙস্”। অবজ্ঞার্থে “ট্যাঙস্ ট্যাঙস্” (“টঙ্‌টঙ্‌”)। অবজ্ঞার্থে “ট্যাং ট্যাং”। মৃদু শব্দে “টিং টিং”। মৃদুতর অথচ মধুর শব্দ “টুং টুং”। ঐরূপ স্বল্প বিরাম দিয়া সুরযুক্ত শব্দ “টুং টাং” (তুলনামূলক ding dong)। অনবরত অমধুর অর্থে “টঙাটং”।
ব্যঞ্জনবর্ণমালার একাদশ ও ট বর্গের প্রথম, অল্পপ্রাণ, অঘোষ বর্ণ। উচ্চারণ স্থান মূর্দ্ধা, তাই এটি মূর্দ্ধণ্য বর্ণ। ট ও টবর্গীয় বর্ণগুলি কাঠিন্যব্যঞ্জক। দৃঢ়, শুষ্ক, কঠোর অর্থে অন্যান্য বর্ণসহ ট যোগ হয়। যেমন: টক্, খট্, টন্, ফট্, কাট, ইট, কটাহ ইত্যাদি। [টক্ + অ (কর্তৃবাচ্য)] বিশেষ্য শব্দ; টঙ্কার। উচ্চারণ সাদৃশ্যযুক্ত গ্রাম্য চলতি কথার মাত্রাস্বরূপ পদের সহচর শব্দের আদ্যক্ষর। বাংলায় এর ভূরি ব্যবহার। যেমন ‘দেখা টেকা; ভুলান টুলান (টেঁকচাঁদ ঠাকুর); ভাত টাত; বই টই ইত্যাদি।
[হিন্দিতে এইরূপ ‘উ’ এবং ‘ও’ বর্ণের প্রয়োগাধিক্য। যেমন: দেখা ওখা; ভুল উল; ভাত ওত; বহি ওহি ইত্যাদি। তুলনামূলক পশ্চিমবঙ্গে এইরূপ স, শ। যেমন: অবুরে সবুরে; বোঝা সোঝা; অত শত; বুদ্ধি শুদ্ধি; বুঝি সুঝি; ইত্যাদি। পূর্ববঙ্গে প্রাদেশিক ব্যবহারে ট = ড। খাটে = খাডে, কেটা = কেডা; ছুটিল = ছুডিল; কাটি = কাডি ইত্যাদি]।
টই, টুঁই [সংস্কৃত তুঙ্গ] বিশেষ্য চালের মটকা।
টইটই [অনুকার] অব্যয় আধারপূর্ণ জলের টল্‌টল্‌ শব্দ। ‘এক পেট জল খেয়ে পেট টইটই করচে।’ টানটান; টাঁইটাঁই।
টইটুম্বুর [সংস্কৃত টই (পরিপূর্ণ অর্থে) + টুম্বুর (তুম্ববৎ স্ফীত)] বিশেষ্য পরিপূর্ণ; ছাপাছাপি; কাণেকাণ। ‘পুকুর জলে টইটুম্বুর হয়েছে। জল খেয়ে পেট টইটুম্বুর করা।’ টায়টায় (= টাঁইটাঁই) দ্রষ্টব্য।
টক, টক্ [অনুকার] বিশেষ্য শুষ্ক কাষ্ঠ ইত্যাদিরর উপর কঠিন বস্তুর আঘাত শব্দ (এর সাথে রুক্ষতা, শুষ্কতা ও কাঠিন্যের ভাব জড়িত); কোন নিরেট বস্তুতে নিরেট বস্তু দ্বারা আঘাতের শব্দ।
টক [অম্ল আস্বাদ করিবার কালে মূর্দ্ধা বা তালুতে জিহ্বা স্পর্শ করিবামাত্র নিম্নে আকর্ষণ করিলেই টক্ করিয়া শব্দ হয়। তা হতে সংস্কৃত তত্রু (অম্ল) বাংলা টক্ক টক্। হিন্দি খট্টা (অম্ল)। সিলেট, কাছাড় ও আসামের ভাষায় টেঙ্গা] বিশেষ্য অম্লাস্বাদযুক্ত ব্যঞ্জনবিশেষ; খাট্টা; খাটাই। বিশেষণ, অম্লযুক্ত; টোকো।
টক করে ক্রি-বিণ, টক্ এই শব্দ হতে যত অল্প সময় লাগে তার মধ্যে; অতি শীঘ্র; নিমিষের মধ্যে। “টক্ করে কেটে ফেলা।” [টক্ ধ্বনির সহিতও ইহার সম্বন্ধ আছে]
টকটক্ উপর্যুপরি টক্ এই শব্দ।

টকটক করা ক্রি, ঐরূপ শব্দ করা। 2 ঘোর লাল বর্ণে শোভা পাওয়া। “লাল টক টক করিতেছে।” 3 পুনঃ পুনঃ নিষেধ বা বিঘ্ন-সূচক বাক্য প্রয়োগ করা; অমঙ্গলসূচক বা অসন্তোষজনক বাক্যের উপর্য্যুপরি আবৃত্তি বা উল্লেখ করা। প্র- মাথার উপর টকটক করিও না [দ্রঃ-টক্টক্ শব্দের তীক্ষ্ণ ও কম তীব্র রূপ “টিক্টিক্” এবং তদপেক্ষাও কোমল, হাল্কা এবং অবিরক্তি- কর রূপ “টুক্টুক্”; টকটক ধ্বনি তীব্রতর কিন্ত্ত শব্দ বহুবিস্তৃত হইলে হয় “টকাস্ টকাস্” অল্পার্থে টুকুস্ টুকুস্। তুল-ঠুকঠুক, ঠকাস্- ঠকাস্, ঠুকুস ঠুকুস]।

টকটক1 [টক (অম্ল) + টক (পুনরায় টক বিচারের পর আবার টক বোধ)-অর্থাৎ মুখে পড়িতেই যার অম্লাস্বাদ পাওয়া যায় তা টক, কিন্ত্ত যথেষ্ট বা সর্ব্বতোভাবে অম্লাস্বাদ- যুক্ত না হইলে পুনঃ পুনঃ স্বাদ গ্রহণ করিতে হয় এবং তাতে টক রসই অবধারিত হইলে তাকে বলা যায় ‘টকটক’] বিণ, ঈষত্ অম্লা- স্বাদযুক্ত; যাতে অম্লরসের আমেজ আছে। প্রাদে◦ গ্রা◦ ভাষায় ট̆ক্সা বলে।

টকটক2 [অনু◦। রুক্ষ্মতা ও কাঠিন্য- ব্যঞ্জক। গাঢ়তা ও আধিক্যার্থে দ্বিত্ব] অ, এরূপ প্রখর বা ঘোর লাল যে চক্ষুতে আঘাত করে। প্র-লাল ট◦ কচ্চে। ট̆ক্ট̑কিয়া, ট̆কট̑কে-বিণ, চক্ষুতে আঘাত করে এরূপ প্রখর; কড়া লাল; গাঢ় বা ঘোর লাল। প্র-লাল টকটকে বা টক- টকে লাল [দ্রঃ-প্রত্যেক বর্ণ, দর্শনেন্দ্রিয়ের উপর আঘাত করে। বর্ণ গাঢ় ও তীব্র হইলে তা নিরেট কঠিন বস্ত্তর মত টক করিয়া আঘাত শব্দের কল্পনা জাগাইয়া দেয় বা টক্ এই শব্দ স্মরণ করায় এবং সেই বর্ণতরঙ্গ উপর্য্যুপরি চক্ষে আসিয়া আঘাত করিলে তা “টকটকে” পদবাচ্য হয় (তুল-গ্রা◦-কটকটে লাল, ক্যাঁটকেটে)। লালবর্ণ আমাদের দৃষ্টি স্বভাবতঃই অধিক আকর্ষণ করে এবং ইহা যতই ঘোরাল হয় ততই ইহার কাঠিন্য অনুভূত হয়। এই হেতু ঘোর লালকেই টকটকে বলে। টকটকে লাল, উগ্র বা তেজাল, সুতরাং চক্ষুর পীড়াদায়ক; ইংরেজিতে ইহাকে (warm colour) উষ্ণবর্ণ বলে। কিন্ত্ত টুকটুকে মৃদু ও চক্ষুর আরামদায়ক; টুকটুক দ্রঃ]।
ট̆ক̆ত̑ন্ত্রী [সং] বি, প্রাচীন হিন্দুদিগের বাদ্যযন্ত্রবিঃ।
ট̆কপাল̆ঙ্গ,-ঙ,-ম [সং চুক্র-পালঙ্ক্য ] বি, পালঙ শাকের মত পাতাযুক্ত। অম্ল- শাক-বিঃ; চুকাপালঙ্গ Rumex vesicarius.
ট̆কা [টক2 (দ্রঃ) + আ (ক্রিয়ায়)] ক্রি, টক হওয়া; অম্লাস্বাদে বিকৃত হওয়া। 2 অপ্রীতি- কর বা মাধুর্য্যহীন হওয়া। “নূতনেই প্রেম মিঠে থাকে, বাসি হলেই টকে”-দ্বি◦ রায়।
ট̆কাট̆ক [টক (শব্দ) + আ (ব্যাপ্তি, প্রতি অর্থে)। টক শব্দের পুনরাবৃত্তি ও ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিত্ব। টক্ দ্রঃ] অ, উপর্য্যুপরি টক্ এই শব্দ ও তার প্রতিশব্দ বা প্রতিধ্বনির ভাব। 2 তত্ক্ষণাত্; তাড়াতাড়ি; তখনই তখনই; অবিলম্বে। “ঐ যে 5।7টী কমিশনের রিপোর্ট বেরিয়েছে সে সব দেখিবামাত্র টকাটক বলে দিবে।”-বি◦ কু◦ সরকার। বক্তার মুখের কথা বেরুতে না বেরুতে রিপোর্টার সর্টহ্যাণ্ডে টকাটক লিখে যেতে লাগ্লো। যেমন বলবে অমনি টকাটক আপনার নোটবুকে তুলে নেবে।”-ঐ।
ট̆কান [টক + আন (বাং-ক্রিয়া বিভক্তি)] ক্রি, টক করিয়া ফেলা; আমলাইতে দেওয়া।
ট̆কাস-ট̆কাস-টক1 দ্রঃ।
ট̑কুআ,-য়া [টক = অম্ল + উআ (বির্থে◦)। গ্রা◦-টোকো] বিণ, অম্লবিশিষ্ট; অম্লরসযুক্ত।
ট̑কুই [হি◦ টোকরী ]। প্রাদে◦ বি, ধুচুনী; চাউল ধোয়া পাত্রবিঃ।
ট̆ক্কর, ট̆ক্র1 [হি◦] বি, উছ্ট্; ঠোকর। “ঘোড়াসকল টক্কর খাইতে লাগিল।” (রাজসিংহ)। 2 পরস্পর আঘাত; সংঘর্ষণ; ধাক্কা। প্র-রেলের গাড়ীতে গাড়িতে টক্কর লাগা। 3 প্রতিযোগিতা। “আমাদের সঙ্গে এসে দিতে চায় সব কিনা টক্কর”-দ্বি◦ রায়। ক্রি, টকরান̑, টক্রান। [দ্রঃ-খাওয়া এবং দেওয়া যোগে টক্কর শব্দ ক্রিয়াপদ হয়। ট̆◦ খাওয়া-ঠোকর খাওয়া (= প্রাপ্ত হওয়া) । ট̆◦ দেওয়া-প্রতিযোগিতা করা়]।
ট̆ক্ক̑রাট̆ক্ক̑রি,-ট̑ক্কুরি, টক্রাট̑ক্রি [টক্কর + আ (প্রতি- যোগিতার্থে) টক্কর + ই। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগের বাং] বি, দুই পক্ষের মধ্যে পরস্পর প্রতিযোগিতা; পক্ষ এবং বিপক্ষের উত্কর্ষাপকর্ষ; প্রতিদ্বন্দ্বিতা; বিরুদ্ধাচরণ; প্রতিপক্ষতা; “প্রতিযোগী পরীক্ষার টক্করা- টক্করিতে প্রধানতঃ তিনটি দোষ দেখা যায়” -সাধনা 2য় বর্ষ। 2 তর্কাতর্কি। ট̆◦ ক̆রা [বাং-য় ‘করা’ যোগে নিষ্পন্ন ক্রিয়া- পদ] ক্রি, প্রতিযোগিতা করা; প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ট◦ দেওয়া-পাল্লা দেওয়া। 2 তর্কাতর্কি করা। “শিবশঙ্কর দাস একদিন শীরখাঁ নাজিরের সহিত টক্রাটক্রি দেওয়ার জন্য রেশমের কুঠীর 2000 হাজার তলবদারকে একেবারে দেখিতে পারিত না।”-কালীকমল সার্ব্বভৌম (বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়, 2য় ভাগ)।
ট̆ক্র2, ট̑ক্রু [সং-তর্কু ] বি, সূত্র পাক দিবার যন্ত্রবিঃ; টাকুর spindle.
ট̆গব̆গ [অনু়◦] বি, ঐরূপ শব্দ। 2 ফুটন্ত জলের শব্দ; অত্যুষ্ণ জলে তণ্ডুলাদি ফুটিবার শব্দ। এই অর্থে প্রা◦-বাং-‘টকভক’ শব্দের প্রয়োগ। “বৈতরণীর জল ফুটি করএ টকভক।”-শূ◦ পু◦। 3 দ্রুতগামী অশ্বাদির পদশব্দ। এই অর্থে ‘টগাবগ’ শব্দেরও প্রাদেশিক ব্যবহার আছে।
ট̆গ̆র [সং-তগর ] বি, পুষ্পবিঃ tabernæmontana coronaria. 2 তগর পুষ্প; টগর ফুল। গ্রা◦-“টগ্গ̑র”। “তারা নামে টগ্গর ফুল।”-ছড়া।
ˋট̆গরা, ˋট̑গরে [সং-টগর (হাব, লীলা, বিভ্রম) ] বিণ, চালাক; সেয়ানা (শিশুর প্রতিই প্রযুক্ত হয়)।
ট̆গে-ট̆গে [তর্কেতর্কে দ্রঃ। গ্রা◦- তক্কে তক্কে তাকে তাকে , ত = ট, ক = গ] ক্রি-বিণ, সতর্কতার সহিত; সাবধানে। প্র- টগেটগে পা ফেলে যাওয়া। 2 সন্ধানে। প্র-সে টগেটগে থেকে একদিন তাকে ধরে ফেল্লে।
ট̆ঙ, ট̆ঙ্গ, টং [তুঙ্গ (উচ্চ) ] বি, মঞ্চাদির উপরিস্হিত ক্ষুদ্র কুটীর। 2 মাচা; মাচান। “দেখিবারে পাইল বোঁচা টঙ্গের উপর।”-কবিক◦। 3 বৃক্ষাবাস। “পারা- বতের দল যাহাতে সুখে-স্বচ্ছন্দে থাকিতে পারে এজন্য প্রায় প্রতি গৃহেই টঙ তৈয়ার করা আছে।”-ভারতী, 1333। 4 জলাশয় বক্ষে নির্ম্মিত অট্টালিকা।

টংকিত [সংস্কৃত টঙ্ক (পরিমাণ-বিশেষ)] বিশেষ্য ঠাউকো বা আনুমাণিক পরিমিত জমি।
টুঁইভুঁই [সংস্কৃত তুঙ্গ ও ভূমি] বিশেষ্য মটকা ও ভূমি; মটকাভূমি; ভূমি হতে চালের মটকা বা মটকা হতে ভূমি পর্যন্ত।
টৈটুম্বুর [টই (পরিপূর্ণ অর্থে) + টুম্বুর (তুম্ববৎ স্ফীত)] বিশেষ্য পরিপূর্ণ; ছাপাছাপি; কাণেকাণ। ‘পুকুর জলে টইটুম্বুর হয়েছে। জল খেয়ে পেট টইটুম্বুর করা।’ টায়টায় (= টাঁইটাঁই) দ্রষ্টব্য।
টোয়টুম্বুর [টই (পরিপূর্ণ অর্থে) + টুম্বুর (তুম্ববৎ স্ফীত)] বিশেষ্য পরিপূর্ণ; ছাপাছাপি; কাণেকাণ। ‘পুকুর জলে টইটুম্বুর হয়েছে। জল খেয়ে পেট টইটুম্বুর করা।’ টায়টায় (= টাঁইটাঁই) দ্রষ্টব্য।
বেডা [প্রাদেশিক, আঞ্চলিক, হিন্দি বেটা] বিশেষ্য পুত্র। বিশেষণ পুরুষ। বহুবচন বেডাইত। স্ত্রীলিঙ্গ বেডি।
Scroll Up