web analytics
এযাবৎ 804 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ভুক্তি 804 টি।

এ পাতায় আছে 50 টি।

বিশেষ্য অকার; বাংলা বর্ণমালার প্রথম বর্ণ, আলিকালির প্রথম বর্ণ ও বাংলা স্বরবর্ণের প্রথম বর্ণ। ‘অকার হকার বর্ণে আকার সংযুক্ত।‘ রামপ্রসাদ, ১৭৮০। দেখুন অকার। ব্যঞ্জনবর্ণে যুক্ত হলে অন্যান্যস্বর রূপান্তরপ্রাপ্ত হয়, কিন্তু অকারের চিহ্ন থাকে না (ক্ + অ = ক)। উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ, তাই কণ্ঠ্যবর্ণ। বাংলায় উচ্চারণ প্রধানত ৪ প্রকার — লঘু স্পৃষ্ট (অর্থ, অদ্বৈত ইত্যাদির অ)। স্পষ্ট (অতল, অজ, অন্যায় ইত্যাদির অ)। লঘু বা অর্দ্ধব্যক্ত ওকারের মত (কলিকা, রজনী, ললিত ইত্যাদির ক্, জ্, ল্ সংযুক্ত অ = অ, ক, জ, ল)। পূর্ণব্যক্ত ওকারবৎ (অতিশয়, অনুরোধ ইত্যাদির অ বা মন, যদু ইত্যাদির ম্, য্ সংযুক্ত অ = ‘ওতিশয়’, ‘ওনুরোধ’, ‘মোন’ এবং ‘যোদু’)।
ব্রজবুলি এবং হিন্দীতে ঈষৎ স্পৃষ্ট বা লঘু আকারের ন্যায় উচ্চারিত, তাই ‘অতি’ অনেকটা ‘আতি’র মত। প্রাচীন বাংলায় ‘অতি’ স্থলে ‘আতি’র প্রয়োগও দৃষ্ট হয়। আধুনিক শুদ্ধ উচ্চারণ ‘ওতি’। ‘অজ’র ‘অ’ উচ্চারণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণগুলির অকারান্ত উচ্চারণ় বাঙ্গালা ভাষারই বিশেষত্ব। সাধারণত অ পরে অকার বা আকারযুক্ত ব্যঞ্জন থাকলে অকারের উচ্চারণ বজায় থাকে (অজ, অজা); ি, ী, ু, ূ, যুক্তব্যঞ্জন থকলে ওকারবৎ (অতি, অতীত, অরুণ) এবং পরে ো থাকলে অ (অতো, অহো)। সংস্কৃত অভিধানে ‘অ’র হ্রস্ব, দীর্ঘ, প্লুত, অননুনাসিক, উদাত্ত, অনুদাত্ত, স্বরিত ইত্যাদি ১৮ প্রকার উচ্চারণ ও স্বরভেদ উল্লেখিত হয়েছে।
সাধারণত নিষেধবাচক এই অর্থে অ অন্য শব্দের সংযোগ ব্যতীত প্রযুক্ত হয় না। অ নঞার্থক এই অব্যয়ের রূপান্তর স্বরূপ। নঞ্ (ন্ + অ + ঞ্)-এর ‘অ’ অন্য শব্দের পূর্বে তৎপুরুষ সমাস হিসেবে যুক্ত হয়ে অভাব, অল্পতা, অপ্রশস্ততা, অন্যত্ব, সাদৃশ্য ও বিরোধ এই ৬ প্রকার অর্থ প্রকাশ করে। অভাবার্থে — “অচক্ষু সর্ব্বত্র চান,” — অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। “অগতির গতি”- ব্রহ্মসঙ্গীত। অবস্তু (no-thing); অনঙ্গ [অ (অন্) + অঙ্গ (অ স্বরবর্ণের পূর্ব্বে থাকিলে ‘অ’ স্থানে ‘অন্’ হয়)] অল্পতা অর্থে — অবোধ (অল্পবুদ্ধি); অনায়াস (অল্প আয়াস); অনুদরী (অল্পোদরী, কৃশোদরী বা মন্দোদরী) কন্যা। অপ্রশস্ততা অর্থে — (অপ্রশস্ত, অবৈধ, অশুভ, অপরিণত, অযথা, অযোগ্য ইত্যাদি বোধক) অকালবোধন; অক্ষত্রিয় আচরণ; অলক্ষণ; অসময় ইত্যদি। অন্যত্ব অর্থে — অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ ভিন্ন অন্যজাতি)। “কহিলেন — অ-ব্রাহ্মণ নহ তুমি, তাত! তুমি দ্বিজোত্তম, তুমি সত্যকুলজাত!” — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। অঘট (ঘট ভিন্ন অন্য পদার্থ)। সাদৃশ্য অর্থে — অব্রাহ্মণ (ব্রাহ্মণ-সদৃশ; ক্ষত্রিয় বা বৈশ্য)। এই অর্থে বিরল। বিরোধ অর্থে — অসুর (সুরবিরোধী); অহিন্দু আচরণ (হিন্দু-বিরোধী আচরণ); অশাস্ত্রীয় (শাস্ত্র-বিরোধী ইত্যাদি)।
[বাংলার এই নঞ্‌অর্থক উপসর্গ = ইংরেজি নঞ্‌অর্থক উপপদ (prefix) a, ib, im, in, no, non, ir, un ইত্যাদির তুল্য। ইংরেজি un, on = আইরিশ — o (অ) = সুই়ডিশ – o = ডেনিশ – u. সংস্কৃতমূলক ভারতীয়, সিংহলী, ব্রহ্ম ইত্যাদি যাবতীয় ভাষার আদ্যক্ষরের উচ্চারণ বাংলা ‘অ’ এবং লঘু আকারযুক্ত হিন্দি ‘অ’র তুল্য। ফিনিক্, হিব্রু, তুর্কী, আরবী, ফার্সী ইত্যাদি সেমেটিক ভাষাগুলির আদ্যক্ষরের উচ্চারণ ‘আলিফ্’ এবং য়ুরোপীয় বর্ণমালার প্রথম অক্ষর ‘এ’; গ্রীক ‘অ্যাল্ফা’] – বাঙ্গালা ভাষার অভিধান দেখুন।
সন্ধির নিয়মে একার বা ওকারান্ত পদের পরবর্তী অ লুপ্ত হলে মাত্রাহীন হকার ‘ঽ’ রূপ ধারণ করে। একে লুপ্ত অকার বলা হয়। ‘সোহহম্’ (সঃ = সো + অহম্ এর অ = ‘হ’)। প্রণব (ওঁ = অ + উ + ম) এর প্রথম বর্ণ। তন্ত্রে অকারের সৃষ্টি, অমৃত, ললাট, কণ্ঠ ইত্যাদি ১৭ প্রকার অর্থ আছে, কিন্তু বাংলায় সে সকল অর্থে প্রয়োগ নাই। অ প্রাচীন বাংলায় এ, ও, য়, এবং হ স্থলে বসতো। এখন স্থলে ‘অখন’- “অখনে দেখিয়া আইস পুরী আপনার”- মুকুন্দরাম, জগবিজয়। রাখিও স্থলে ‘রাখিঅ’- “না কহিয় কার ঠাই রাখিঅ অন্তরে,” — চম্পক-কলিকা। নয়ন স্থলে ‘নঅন’, নায়ক স্থলে ‘নাঅক’ ইত্যাদি। প্রাকৃতে ‘য়’ স্থলে ‘অ’ ব্যাকরণ-সঙ্গত। প্রাচীন বাংলায় কথার মাত্রাস্বরূপ — কিঅ, কেঅ, তুঅ, লঅ ইত্যাদি। বৌদ্ধ বা অতি প্রাচীন বাংলায় গ স্থলে-‘গঅণ’ (গগণ) – চর্যাপদ ৮।২।১৪।৩ ইত্যাদি। চ স্থলে “অনিমিষ লোঅণ (লোচন)।” দোহা। জ স্থলে-‘গঅবর’ (গজবর), ‘গঅন্দ, গএন্দ’ (গজেন্দ্র) – চর্যাপদ ৮।২।১৪ ইত্যাদি। ‘তেঅ’ (তেজ) – বৌদ্ধগান দোহা। ‘নিঅমন’ (নিজমন) – চর্যাপদ। ত, ত্ত স্থলে-‘পণ্ডিঅ’ (পণ্ডিত), ‘অদভূঅ’, ‘অমিঅ’, ‘অমিআহ’ (অদ্ভুত, অমৃত, অমিতাভ); ‘অনুঅর’, ‘বোহি-চিঅ’ (অনুত্তর, বোধিচিত্ত) – বৌদ্ধগান দোহা। র স্থলে – ‘কঠিন পূহবিঅ’ (পৃথিবীর) – বৌদ্ধগান দোহা
অব্যয় অনুকম্পা; সম্বোধন; খেদ ইত্যাদি অর্থে (প্রাচীন বাংলা)। ‘অ প্রাণ সুণিআঁ কি বুলিহে বলভদ্র ভাই।’ “অ প্রাণ ধারণ না জাএ সুন্দরি রাধে।” – বড়ুচণ্ডীদাস, ১৪৫০। বিশেষ্য বিষ্ণু। – মেদিনীকোষ ব্রহ্ম। “অকার কেবল ব্রহ্ম একাক্ষর কোষে।” – অমরকোষ টীকা
[প্রাচীন বাংলা। অই সংক্ষেপে ও প্রাদেশিক উচ্চারণে। তুলনামূলক — তে (তে কারণ); তুলনামূলক ই] বিশেষণ স, অই, ঐ, এই, সেই। ‘সরিষার রূপ হয়য়া দুবায় লুকাইল। অ কারণে খেতু কান্দিবার লাগিল।’ — মাণিকরাম গাঙ্গুলীর ধর্ম্মমঙ্গল। ১৭৮১।
[বিজ্ঞান] বিশেষ্য, অক্সিজেন বা অম্লজানের সাঙ্কেতিক চিহ্ন।
বাংলা বিভক্তিবিশেষ। ‘সুণ মায় যশোদাঅ তোহ্মারে বুঝাওঁ। ‘বড়ুচণ্ডীদাস, ১৪৫০।
অ-এছলামী [সংস্কৃত ন=অ + আরবী ইসলাম/ইসলামীয়া] বিশেষণ অনৈসলামী; ইসলাম-বিরোধী। ‘অ-এছলামী কার্য্য।‘ মোয়াজ্জিন পত্রিকা, ১৯৩৩।
অ-কেতাবী [সংস্কৃত ন=অ + আরবী কিতাব>কেতাব + বাংলা ই] বিশেষণ পুঁথিগত নয় এমন। ‘বলবার কায়দাও অ-কেতাবী।‘ প্রমথ চৌধুরী, ১৯৩১।
অই [সংস্কৃত, অদস্ প্রথমা, বহুবচন — অমী = প্রাকৃত, অঈ; বৌদ্ধ বাংলায় অই (চর্যাপদ ২৬।২) = আধুনিক বাংলায় অই (পদ্যে ও সঙ্গীতে) = ঐ (গদ্যে এবং ছন্দার্থে পদ্যে)] সর্বনাম সে। ‘জখনে জন্মিল অই বাপের ভবনে।‘ মালাধর বসু, ১৫০০। সেই। ‘অই নিমিত্তে সদাই কলি মোর কর্মের ফল।‘ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০। বিশেষণ ওই। ‘অই ঠাকুরের কেশ শোভে নানা ফুলে।‘ বৃন্দাবন দাস, ১৫৮০। উচ্চারণ সাদৃশ্যের জন্য ‘অই’ স্থলে পদ্যে ‘ওই’ সংক্ষেপে ‘ও’ এবং ‘ঐ’ [ঐ, ও, ওই দ্রষ্টব্য] ব্রজবুলি, প্রাচীন-বৈষ্ণবসাহিত্য, ‘অই’ স্থলেও ‘ও’ এবং ‘উহ’। “উহ রসময়ী ইহ রসিক-শিরোমণি,” – জ্ঞান দাস। “ও নব জলধর অঙ্গ। ইহথির বিজুরী তরঙ্গ।”- গোবিন্দ দাসঅব্যয় পুরোভাগে; ইন্দ্রিয় গোচরে; সম্মুখে। “অই যে জগৎ জাগে, স্বদেশ অনুরাগে।” — আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ ওখানে; যথায় বিরাজ করিতেছে ঠিক সেই স্থানে। “অই শশী অই খানে, এই স্থানে দুইজনে,” — হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অদূরে। দূরে। অনন্য; নির্দিষ্ট। উক্ত; উল্লিখিত। স্মরণ সূচক। দোষ বা ভয় প্রর্দশন সূচক।
অইক্ষর [সংস্কৃত অক্ষর] বিশেষ্য, বর্ণ; হরফ। ‘রাধা নাম অইক্ষর লেখএ নিজ অঙ্গে।‘ মালাধর বসু, ১৫০০
অইছে [স = ছ] ক্রিয়া-বিশেষণ, ঐরূপে।
অইন [প্রাদেশিক] বিশেষ্য, ছোট গাছ। মদ্য বিশেষ [শব্দার্থ প্রকাশিকা]।
অইপন [সংস্কৃত আলিম্পন] বিশেষ্য, আলপনা। ‘পঁউঅ নাল অইপন ভল ভেল।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অইল [প্রাদেশিক] বিশেষ্য, অম্লকূচির গাছ; ইহার কষ লাগাইয়া চামড়া নরম, পরিস্কার ও রং করা (Tan) হয়।
অইল [সংস্কৃত বলীক, “বলীক নীধ্রে পটল-প্রান্তে,”-অমরকোষ] বিশেষ্য, চালের ছাঁইচ। অইলতলা — বিশেষ্য, ছাঁচ-তলা; ওল-তলা (দ্রষ্টব্য)।
অইল [অ = হ-প্রাদেশিক শ্রীহট্ট, পূর্ববঙ্গ] ক্রিয়া, হইল।
অইলতলা বিশেষ্য, ছাঁচ-তলা; ওল-তলা (দ্রষ্টব্য)।
অইস [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য]
বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ; এমন। ‘রাউতু ভণই কট ভুসুকু ভণই কট সঅলা অইস সহাব।‘ চর্যাপদ ১২০০। ‘অইস সহাব’ — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি।
অইসন [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ। “অইস সহাব” — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি
অইসসি [প্রাচীন বাংলা। আসা দ্রষ্টব্য] ক্রিয়া, আসিস — চলিত ১০।৪।
অইসা [প্রাকৃত] ক্রিয়া, আসা। ‘অইসসি জাসি ডোম্বী কাহরি নাবেঁ।‘ চর্যাপদ ১০, ১২০০।
অইসে, অইসেঁ, অইসো [সংস্কৃত ঈদৃশ; অতি প্রাচীন বাংলা আইস, “আইস ভাবে; আইস সংবোহেঁ কো পতি- আই” চর্যাপদ ২৯।১) আইসো। ঐছন দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, ক্রিয়া-বিশেষণ ঈদৃশ; এতাদৃশ। “অইস সহাব” — চর্যাপদ ৪১।৫; দোহা ১০৭, ইত্যাদি
অঈদ [সংস্কৃত ন = অ + আরবী ঈদ>] বিশেষ্য, ঈদের অভাব। ‘ঈদের আনন্দ হয় না মূর্ত, অঈদ দেয় বেদনা।’ মুহম্মদ আবদুল হাই, ১৯৪৭।
অউপকারী [সংস্কৃত ন=অ + উপকারী] বিশেষণ, উপকার করে না এমন; অনুপকারী। ‘তোমা প্রতি উপকারী কিবা অউপকারী।‘ সৈয়দ সুলতান, ১৬৫০।
অঋণ [সংস্কৃত] বিশেষ্য, ঋণাভাব। বিশেষণ, অঋণী।
অঋণী [সংস্কৃত অঋণিন্। অ (না, নহে) + ঋণিন্ (ঋণ- গ্রস্ত)] বিশেষণ, যে কারও কিছু ধার করেনি; যার উপস্থিত ঋণ নেই; ঋণমুক্ত; যে ঋণ পরিশোধ করেছে। ঋণী নয় এমন। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪; তিনিও মনুষ্য জাতির নিকট অঋণী হইতে পারেন না।‘ বঙ্গদর্শন, ১৮৭২। দেবঋণ, ঋষিঋণ ও পিতৃঋণ নামক ঋণত্রয় হইতে যাগ, যজ্ঞ, দান ও সন্তানোৎপাদনদ্বারা মুক্ত।
অএলা [ব্রজবুলি] ক্রিয়া, আসা। ‘চোরাবএ অএলাহু অনুচিত মোর।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অএলাহু [ব্রজবুলি] ক্রিয়া এসেছিলাম। ‘চোরাবএ অএলাহু অনুচিত মোর।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অএলাহুঁ [ব্রজবুলি] ক্রিয়া এসেছিলাম। ‘এহনা তেজি অএলাহুঁ নিঅ গেহ।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অএলিহু [ব্রজবুলি] ক্রিয়া এলাম। ‘বারিস নিসা মঞে চলি অএলিহুঁ।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০; কতনে জতনে ঘর অএলিহুঁ।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অএলিহুঁ [ব্রজবুলি] ক্রিয়া এলাম। ‘বারিস নিসা মঞে চলি অএলিহুঁ।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০; কতনে জতনে ঘর অএলিহুঁ।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অও [ব্রজবুলি, হিন্দি অউর, প্রাচীন বাংলায় = অও] অব্যয় এবং; আর। ‘অও অতি সুললিত বানী।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অওকা [ব্রজবুলি] বিশেষণ অন্য। ‘অওকা দিস নবরস সুপুরুস পেম।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অওকে [ব্রজবুলি] সর্বনাম অন্যকে। ‘একক হৃদয় অওকে না পাওল তেঁ নহি ফাউলি কেলী।‘ বিদ্যাপতি, ১৪৬০।
অওঘর্ষণ [প্রাদেশিক] বিশেষ্য, সঙ্গীতের স্বরের ঐক্য harmony.
অওরো [প্রাদেশিক] বিশেষ্য, অবতরণ; অষ্টমস্বর হইতে ক্রমশঃ নিম্ন নিম্ন স্বরে অবতরণ।
অক [প্রাচীন বাংলা। তুলনামূলক ‘অকু’] বিশেষ্য, এই স্থান। ‘অক ছাড়িয়া রাজা নিজায় গমন।’ — ধর্ম্মমঙ্গল, মাণিক গাঙ্গুলী
অক [সংস্কৃত — অগ, অঘ ache] বিশেষ্য, রোগ; পাপ; অশান্তি; ক্লেশ [বাংলায় প্রয়োগ অভাব বা বিরল প্রয়োগ] [অক্ বক্র গমনে] ক্রিয়া, বক্রভাবে গতি করা বা বৃদ্ধি পাওয়া। আঁকাবাঁকা (দ্রষ্টব্য)।
অক [তুর্কী অক-বাবা। “a fabulous bird of the vulture kind which lives 1000 years.” — Herbelot quoted by Brewer] বিশেষ্য, ইসলামীয় পুরাণ ও গল্পের মহাকায় পক্ষী বিশেষ। তুলনামূলক – বক পাখী (আলাদিনের গল্প)।
অকংগ্রেসী [বাংলা অ + ইংরেজি কংগ্রেস>] বিশেষণ, কংগ্রেস দলের নিয়ন্ত্রিত নয় এমন। ‘বহুনিন্দিত অকংগ্রেসী প্রদেশগুলি হইতে দাঙ্গার কোন খবর পাওয়া যায় নাই।‘ মোহাম্মদী পত্রিকা, ১৯৩৭।
অকচ [সংস্কৃত ন = অ (নাই)-কচ (কশ) যার — বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ, কেশরহিত; নেড়া; টেকো। [চুল নাই – মাথা নাই বলে] কেতুগ্রহ। স্ত্রীলিঙ্গ, অকচা।
অকট [পালি, অক্কট, তুলনামূলক – আকাট। বৌদ্ধযুগের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য। “অকটেতি আশ্চর্য্যং।” – (চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় পদের টীকা), ‘অক্কট ইত্যাশ্চর্য্যং’ (অদ্বয় বজ্র কৃত টীকা)] বিশেষণ, অক্কট; আশ্চর্য; বিস্ময়কর। ‘অকট করুণা ডমরুলি বাজঅ।’ চর্যাপদ ৩১, ১২০০। ‘অক্কট পণ্ডিঅ,’ — বৌদ্ধ গান ও দোহা (সহস্র বর্ষ পূর্বের বাংলা), চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় ৩১।২। আশ্চর্য। ‘অকট হূঁ ভব ইঅণা।‘ চর্যাপদ ৩৯, ১২০০। অকাট (মূর্খ)। ‘অকট জোইআ রে মা কর হথা লোহ্লা।‘ চর্যাপদ ৪১, ১২০০।
অকটকিনা [প্রাদেশিক ব্যবহার বা অর্থে। তুলনামূলক – হিন্দি কট্‌কনা; ওড়িয়া – কটুকনা; হিন্দি কঠিনাঈ অর্থে কাঠিন্য, কড়াক্কড়। কটকিনা দ্রষ্টব্য] বিশেষ্য, অকটকেনা; কঠোর বা কড়াকড়ি নিয়মের অভাব; বাঁধাবাঁধি নিয়ম বা ধরাকাট না থাকার ভাব; অকঠোরতা; অপ্রতিবন্ধ। বিশেষণ, অকঠোর; অকঠিন; অকর্কশ।
অকটকেনা [প্রাদেশিক ব্যবহার বা অর্থে। তুলনামূলক – হিন্দি কট্‌কনা; ওড়িয়া – কটুকনা; হিন্দি কঠিনাঈ অর্থে কাঠিন্য, কড়াক্কড়। কটকিনা দ্রষ্টব্য] বিশেষ্য, অকটকিনা; কঠোর বা কড়াকড়ি নিয়মের অভাব; বাঁধাবাঁধি নিয়ম বা ধরাকাট না থাকার ভাব; অকঠোরতা; অপ্রতিবন্ধ। বিশেষণ, অকঠোর; অকঠিন; অকর্কশ।
অকটবিকট [পালি অকট> মধ্যযুগের বাংলা] বিশেষ্য, ছটফট। ‘অকটবিকট করে পড়িয়া তরাসে।’ — রামায়ণ, কৃত্তিবাস ওঝা, ১৬৫০।
অকটু [সংস্কৃত ন = অ + কটু (নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস)] বিশেষণ, কটুতা-রহিত; অতিক্ত; স্বাদু; মধুর। বিশেষ্য, অকটুতা।
অকঠিন [সংস্কৃত ন = অ + কঠিন (নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস)] বিশেষণ, কোমল; সুকুমার; মৃদু। বিশেষ্য, অকঠিনতা, অকঠিনত্ব (-ন-)।
অকঠোর [সংস্কৃত ন = অ + কঠোর (নঞ্‌তৎপুরুষ সমাস)] বিশেষণ, অকঠিন; যে বস্তু শক্ত নয়। [বিষয়] দুরূহ নয়; সহজ; সরল; সুখবোধ্য; সহজ ও স্বাভাবকি। ‘বালকের মনে মৃত্যুর মূর্তি অত্যন্ত অকঠোর হইয়া আসে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯৩। [বাক্য ইত্যদি] উগ্র বা রুক্ষ নয়; অকর্কশ। [হৃদয়, স্বভাব ইত্যাদি] সদয়; কোমল। বিশেষ্য, অকঠোরতা, অকঠোরত্ব।
অকড়িয়া [গ্রাম্য। ন = অ + কড়িয়া (কড়ি-যুক্ত) = ধনী] বিশেষণ, যার কড়ি নাই; ধনহীন; দরিদ্র। কড়ি দিয়ে কেনা নয়; মূল্যহীন।
অকণ্টক [সংস্কৃত ন = অ-কণ্টক (কাঁটা) যাতে – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ, কাঁটা নেই এমন; কণ্টকরহিত; কাঁটাশূন্য। ‘পথ অকণ্টক করা।’ ‘অকণ্টক হইল বিক্ষ অতি ষুমঙ্গল।‘ মালাধর বসু, ১৫০০। [শত্রু কণ্টক স্বরূপ ক্লেশকর বলে] শত্রু রহিত; নিষ্কণ্টক; নিরাপদ; নিরুপদ্রব; নির্বিঘ্ন। প্রয়োগ — ‘রাজ্য অকণ্টক করা।’ … ‘গ্রাম অকণ্টক হইয়াছে।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪। ক্রিয়া-বিশেষণ, অকন্টকে — নির্বিঘ্নে; নিরাপদে; অবাধে। ‘পুনর্বার অকণ্টক রাজ্যপ্রাপ্ত হইয়াছে।‘ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৩। ‘অকন্টকে রাজ্য ভোগ।’ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৩
অকণ্টকে [সংস্কৃত] ক্রিয়া-বিশেষণ, নির্বিঘ্নে; নিরাপদে; অবাধে। ‘বহুকাল অকণ্টকে রাজ্যভোগ করিতে পারিবে।’ — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৪৭।
অকণ্ঠস্থ [সংস্কৃত ন = অ-কণ্ঠ + স্থা + অ (কর্তৃবাচ্যে)] বিশেষণ, প্রকৃতপক্ষে যা কণ্ঠে ধারণ করা বা যা কণ্ঠাগত হয় নি। মুখস্থ করা নয়; অনভ্যস্ত।
অকথন [সংস্কৃত ন = অ (অনুচিত)-কথন (কথা)] বিশেষ্য, কুকথা; অন্যায়োক্তি; কথায় প্রকাশ করা যায় না এমন। বিশেষণ, কথনের অযোগ্য; অবক্তব্য। ‘অকথন বেয়াধি এ, কহা নাহি যায়।’ — চণ্ডীদাস, ১৫৫০।
অকথনীয় [সংস্কৃত ন = অ-কথনীয় (বলার উপযুক্ত, বক্তব্য)। কথনীয় দ্রষ্টব্য] বিশেষণ, বলার অনুপযুক্ত; অনির্বচনীয়; যা বলা উচিত নয়; যা কথা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না; বর্ণনাতীত। — ‘বালকদিগের আপন২ ভাষা শিখিবার জন্য অকথনীয় উপকার হয়।‘ সমাচার দর্পন, ১৮৩৪। অকথ্য। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ১৮৬৪।। স্ত্রীলিঙ্গ, অকথনীয়া [ন = অ (কুৎসিত)-কথা] বিশেষ্য, কুকথা; কুৎসিত কথা; অশ্লীল কথা; যে কথা মুখে আনা যায় না বা বলতে লজ্জা হয়; অশিষ্ট বাক্য; অনুচিত কথা। বিশেষণ, অকথিতা।
অকথনীয়া [সংস্কৃত ন = অ (কুৎসিত)-কথা] স্ত্রীলিঙ্গ, বিশেষ্য, কুকথা; কুৎসিত কথা; অশ্লীল কথা; যে কথা মুখে আনা যায় না বা বলতে লজ্জা হয়; অশিষ্ট বাক্য; অনুচিত কথা। বিশেষণ, অকথিতা।
অকথ্য [সংস্কৃত ন = অ-কথ্য] বিশেষণ, অকথনীয়; অনুচিত; অবাচ্য; কইবার অযোগ্য; যা কহা উচিত নয়। ‘একি অকথ্য কথা কহা সম্ভবে।‘ সমাচার দর্পন, ১৮৩৮। অশালীন; অশ্লীল; অকথ্য ভাষা। ‘তাঁহারা অধীনস্থ ব্যক্তিদিগের প্রতি … অকথ্য অশ্রাব্য শব্দসকল প্রয়োগ করিয়া থাকেন।‘ অক্ষয়কুমার দত্ত, ১৮৫৪; অকথ্য-উচ্চারণে গালি প্রয়োগ করিত৷’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৮৯২। অবর্ণনীয়; যা বলা যায় না; যা বাক্যে প্রকাশ করতে পারা যায় না; যা বলা অসাধ্য; কথায় প্রকাশ করা যায় না এমন। ‘শচী-দুঃখ অকথ্য কথন।’ — শ্রীচৈতন্য ভাগবত; ‘অকথ্য বেদনা’ — চণ্ডীকাব্য; ‘অকথ্য অদ্বৈত অনিত্য-রহিত অনন্তরূপধারিণী।’ — বাংলা গান; ‘যত সব ভাব হয় অকথ্য সকল।‘ বৃন্দাবন দাস, ১৫৮০; ‘সহসা অকথ্য আওয়াজ হয়৷’ ওয়ালী, ১৯৬৪। গুরুতর৷ ‘যেসব অকথ্য অত্যাচার গত কয়েক বৎসরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইয়াছে৷’ আজাদ পত্রিকা, ১৯৪০।
অকথ্য কথন [সংস্কৃত ন = অ + কথ্য + কথন] বিশেষ্য বলা যায় না এমন কথা; অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ; গালি। ‘চৈতন্যের ভক্তবাৎসল্য অকথ্যকথন।‘ কৃষ্ণদাস কবিরাজ, ১৫৮০। বলার মতো নয় এমন কথা। ‘উচিত কহিতে লাজ অকথ্য কথন৷’ আলাওল, ১৬৫১।
অকথ্য কথা [সংস্কৃত ন = অ + কথ্য + কথা] বিশেষ্য, বলার মতো নয় এমন কথা; অকথ্যকথন। সমাচার দর্পণ, ১৮৩৮।
অকন [সংস্কৃত ক্ষণ>] ক্রিয়া-বিশেষণ এখন; এই সময়ে ৷ ‘খাঁ সাহেবের কাছে এই সতীপণার যা শুনাতে হয় তা হবে অকন৷’ মীর মশাররফ হোসেন, ১৮৬৯।
Scroll Up