দূরত্বে দীর্ঘ-ঊ-কার (ূ) লিখতে হবে

শুরুতে ‘দুর’ ও ‘দূর’ কিংবা ‘দুর্’ ও ‘দূর্’-যুক্ত শব্দগুলোর বানানে আদ্যবর্ণের সঙ্গে কখন হ্রস্ব-‘উ’-কার (দুর) এবং কখন দীর্ঘ-‘ঊ’-কার (দূর) লিখতে হবে সেই ঝামেলা এড়ানোর জন্য প্রথম কাজ হচ্ছে শব্দটির অর্থ চিন্তা করা। যদি শব্দটি দিয়ে দূরত্ব সংক্রান্ত কিছু বোঝানো হয়, তাহলে বানান অবশ্যই ‘দ’-র সঙ্গে দীর্ঘ-‘ঊ’-কার দিয়ে লিখতে হবে। যেমন : দূরত্ব, দূরে, দূরাগত (দূর থেকে আগত), দূরস্থ (দূরে অবস্থিত), দূরযায়ী (দূরে যায় এমন), দূর করা (তাড়িয়ে দেওয়া/দূরে সরিয়ে দেওয়া) ইত্যাদি।

সেসঙ্গে মনে রাখতে হবে, ‘দূর্বা’ শব্দটির বানান এবং ‘দূর্বা’ প্রাতিপদিক যুক্ত শব্দগুলোর বানান ‘দ’-এর সঙ্গে দীর্ঘ-‘ঊ’-কার দিয়ে লিখতে হবে। যেমন : দূর্বা, দূর্বাদল, দূর্বাঘাস, দূর্বাদলশ্যাম ও দূর্বাষ্টমী।

এছাড়া অন্য যে-কোনো অর্থে আদিতে ‘দুর’/’দুর্’-যুক্ত শব্দগুলোর বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে হ্রস্ব-‘উ’-কার দিয়ে লিখতে হবে। যেমন : দুরবস্থা, দুর্দান্ত, দুরন্ত, দুর্মর, দুর ছাই, দুরারোগ্য, দুরাকাঙ্ক্ষা, দুরাত্মা, দুর্লভ, দুরাশা, দুর্গা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ‘দুরবিন’ বিদেশি (ফারসি) শব্দ হওয়ায় শব্দটি দিয়ে দূরত্ব সংক্রান্ত কিছু বোঝানো সত্ত্বেও শব্দটির বানান আদ্যবর্ণের সঙ্গে হ্রস্ব-‘উ’-কার এবং শেষে দন্ত্য-‘ন’ দিয়ে লেখা হয়েছে। তবে দূরবীণ বানানটি অধিক প্রচলিত ও যৌক্তিক৷

ব্যতিক্রম : বিরক্তি প্রকাশে অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত ‘দূর’ বানান দীর্ঘ-‘ঊ’-কার দিয়ে লিখতে হবে। যেমন : দূর! তোমার বকবক আর ভালো লাগে না।