এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 11 টি।

ব্যঞ্জনবর্ণমালার একাদশ ও ট বর্গের প্রথম, অল্পপ্রাণ, অঘোষ বর্ণ। উচ্চারণ স্থান মূর্দ্ধা, তাই এটি মূর্দ্ধণ্য বর্ণ। ট ও টবর্গীয় বর্ণগুলি কাঠিন্যব্যঞ্জক। দৃঢ়, শুষ্ক, কঠোর অর্থে অন্যান্য বর্ণসহ ট যোগ হয়। যেমন: টক্, খট্, টন্, ফট্, কাট, ইট, কটাহ ইত্যাদি। [টক্ + অ (কর্তৃবাচ্য)] বিশেষ্য শব্দ; টঙ্কার। উচ্চারণ সাদৃশ্যযুক্ত গ্রাম্য চলতি কথার মাত্রাস্বরূপ পদের সহচর শব্দের আদ্যক্ষর। বাংলায় এর ভূরি ব্যবহার। যেমন ‘দেখা টেকা; ভুলান টুলান (টেঁকচাঁদ ঠাকুর); ভাত টাত; বই টই ইত্যাদি।
[হিন্দিতে এইরূপ ‘উ’ এবং ‘ও’ বর্ণের প্রয়োগাধিক্য। যেমন: দেখা ওখা; ভুল উল; ভাত ওত; বহি ওহি ইত্যাদি। তুলনামূলক পশ্চিমবঙ্গে এইরূপ স, শ। যেমন: অবুরে সবুরে; বোঝা সোঝা; অত শত; বুদ্ধি শুদ্ধি; বুঝি সুঝি; ইত্যাদি। পূর্ববঙ্গে প্রাদেশিক ব্যবহারে ট = ড। খাটে = খাডে, কেটা = কেডা; ছুটিল = ছুডিল; কাটি = কাডি ইত্যাদি]।
টং [অনুকুর। টঙ্‌। টঙ্ক (ক্রোধ)] বিশেষ্য ক্রোধমূর্ত্তি। ‘রেগে টং হয়ে বসে আছে।’ 2 [টঙ্কার] ধাতু বা গুরু কাষ্ঠ সহ ধাতু বা অন্য কঠিন বস্তুর আঘাত শব্দ; ধনুকে চড়ান ছিলার শব্দ; তত যন্ত্রের তারে আঘাত শব্দ। টংটং-বারংবার ঐরূপ শব্দ। ঘড়ির শব্দ। ‘টং টং করিয়া ঘড়িতে আটটা বাজিল।’ (পেটা ঘড়ি বা ঘণ্টা বাজিবার শব্দ ‘ঢং ঢং’)। লাটি ঠুকিয়া ঠুকিয়া চলা বা ঘুরিয়া বেড়ানর ভাব। ‘আর টং টং করে ওখান এখান করে বেড়াতে হবে না।’ ক্রমাগত ঐরূপ করা অর্থে “টঙস্ টঙস্”। অবজ্ঞার্থে “ট্যাঙস্ ট্যাঙস্” (“টঙ্‌টঙ্‌”)। অবজ্ঞার্থে “ট্যাং ট্যাং”। মৃদু শব্দে “টিং টিং”। মৃদুতর অথচ মধুর শব্দ “টুং টুং”। ঐরূপ স্বল্প বিরাম দিয়া সুরযুক্ত শব্দ “টুং টাং” (তুলনামূলক ding dong)। অনবরত অমধুর অর্থে “টঙাটং”।
টই, টুঁই [সংস্কৃত তুঙ্গ] বিশেষ্য চালের মটকা।
টইটই [অনুকার] অব্যয় আধারপূর্ণ জলের টল্‌টল্‌ শব্দ। ‘এক পেট জল খেয়ে পেট টইটই করচে।’ টানটান; টাঁইটাঁই।
টইটুম্বুর [সংস্কৃত টই (পরিপূর্ণ অর্থে) + টুম্বুর (তুম্ববৎ স্ফীত)] বিশেষ্য পরিপূর্ণ; ছাপাছাপি; কাণেকাণ। ‘পুকুর জলে টইটুম্বুর হয়েছে। জল খেয়ে পেট টইটুম্বুর করা।’ টায়টায় (= টাঁইটাঁই) দ্রষ্টব্য।
টক, টক্ [অনুকার] বিশেষ্য শুষ্ক কাষ্ঠ ইত্যাদিরর উপর কঠিন বস্তুর আঘাত শব্দ (এর সাথে রুক্ষতা, শুষ্কতা ও কাঠিন্যের ভাব জড়িত); কোন নিরেট বস্তুতে নিরেট বস্তু দ্বারা আঘাতের শব্দ।
টক [অম্ল আস্বাদ করিবার কালে মূর্দ্ধা বা তালুতে জিহ্বা স্পর্শ করিবামাত্র নিম্নে আকর্ষণ করিলেই টক্ করিয়া শব্দ হয়। তা হতে সংস্কৃত তত্রু (অম্ল) বাংলা টক্ক টক্। হিন্দি খট্টা (অম্ল)। সিলেট, কাছাড় ও আসামের ভাষায় টেঙ্গা] বিশেষ্য অম্লাস্বাদযুক্ত ব্যঞ্জনবিশেষ; খাট্টা; খাটাই। বিশেষণ, অম্লযুক্ত; টোকো।
টক করে ক্রি-বিণ, টক্ এই শব্দ হতে যত অল্প সময় লাগে তার মধ্যে; অতি শীঘ্র; নিমিষের মধ্যে। “টক্ করে কেটে ফেলা।” [টক্ ধ্বনির সহিতও ইহার সম্বন্ধ আছে]
টকটক্ উপর্যুপরি টক্ এই শব্দ।

টকটক করা ক্রি, ঐরূপ শব্দ করা। 2 ঘোর লাল বর্ণে শোভা পাওয়া। “লাল টক টক করিতেছে।” 3 পুনঃ পুনঃ নিষেধ বা বিঘ্ন-সূচক বাক্য প্রয়োগ করা; অমঙ্গলসূচক বা অসন্তোষজনক বাক্যের উপর্য্যুপরি আবৃত্তি বা উল্লেখ করা। প্র- মাথার উপর টকটক করিও না [দ্রঃ-টক্টক্ শব্দের তীক্ষ্ণ ও কম তীব্র রূপ “টিক্টিক্” এবং তদপেক্ষাও কোমল, হাল্কা এবং অবিরক্তি- কর রূপ “টুক্টুক্”; টকটক ধ্বনি তীব্রতর কিন্ত্ত শব্দ বহুবিস্তৃত হইলে হয় “টকাস্ টকাস্” অল্পার্থে টুকুস্ টুকুস্। তুল-ঠুকঠুক, ঠকাস্- ঠকাস্, ঠুকুস ঠুকুস]।

টকটক1 [টক (অম্ল) + টক (পুনরায় টক বিচারের পর আবার টক বোধ)-অর্থাৎ মুখে পড়িতেই যার অম্লাস্বাদ পাওয়া যায় তা টক, কিন্ত্ত যথেষ্ট বা সর্ব্বতোভাবে অম্লাস্বাদ- যুক্ত না হইলে পুনঃ পুনঃ স্বাদ গ্রহণ করিতে হয় এবং তাতে টক রসই অবধারিত হইলে তাকে বলা যায় ‘টকটক’] বিণ, ঈষত্ অম্লা- স্বাদযুক্ত; যাতে অম্লরসের আমেজ আছে। প্রাদে◦ গ্রা◦ ভাষায় ট̆ক্সা বলে।

টকটক2 [অনু◦। রুক্ষ্মতা ও কাঠিন্য- ব্যঞ্জক। গাঢ়তা ও আধিক্যার্থে দ্বিত্ব] অ, এরূপ প্রখর বা ঘোর লাল যে চক্ষুতে আঘাত করে। প্র-লাল ট◦ কচ্চে। ট̆ক্ট̑কিয়া, ট̆কট̑কে-বিণ, চক্ষুতে আঘাত করে এরূপ প্রখর; কড়া লাল; গাঢ় বা ঘোর লাল। প্র-লাল টকটকে বা টক- টকে লাল [দ্রঃ-প্রত্যেক বর্ণ, দর্শনেন্দ্রিয়ের উপর আঘাত করে। বর্ণ গাঢ় ও তীব্র হইলে তা নিরেট কঠিন বস্ত্তর মত টক করিয়া আঘাত শব্দের কল্পনা জাগাইয়া দেয় বা টক্ এই শব্দ স্মরণ করায় এবং সেই বর্ণতরঙ্গ উপর্য্যুপরি চক্ষে আসিয়া আঘাত করিলে তা “টকটকে” পদবাচ্য হয় (তুল-গ্রা◦-কটকটে লাল, ক্যাঁটকেটে)। লালবর্ণ আমাদের দৃষ্টি স্বভাবতঃই অধিক আকর্ষণ করে এবং ইহা যতই ঘোরাল হয় ততই ইহার কাঠিন্য অনুভূত হয়। এই হেতু ঘোর লালকেই টকটকে বলে। টকটকে লাল, উগ্র বা তেজাল, সুতরাং চক্ষুর পীড়াদায়ক; ইংরেজিতে ইহাকে (warm colour) উষ্ণবর্ণ বলে। কিন্ত্ত টুকটুকে মৃদু ও চক্ষুর আরামদায়ক; টুকটুক দ্রঃ]।
ট̆ক̆ত̑ন্ত্রী [সং] বি, প্রাচীন হিন্দুদিগের বাদ্যযন্ত্রবিঃ।
ট̆কপাল̆ঙ্গ,-ঙ,-ম [সং চুক্র-পালঙ্ক্য ] বি, পালঙ শাকের মত পাতাযুক্ত। অম্ল- শাক-বিঃ; চুকাপালঙ্গ Rumex vesicarius.
ট̆কা [টক2 (দ্রঃ) + আ (ক্রিয়ায়)] ক্রি, টক হওয়া; অম্লাস্বাদে বিকৃত হওয়া। 2 অপ্রীতি- কর বা মাধুর্য্যহীন হওয়া। “নূতনেই প্রেম মিঠে থাকে, বাসি হলেই টকে”-দ্বি◦ রায়।
ট̆কাট̆ক [টক (শব্দ) + আ (ব্যাপ্তি, প্রতি অর্থে)। টক শব্দের পুনরাবৃত্তি ও ব্যাপ্তি অর্থে দ্বিত্ব। টক্ দ্রঃ] অ, উপর্য্যুপরি টক্ এই শব্দ ও তার প্রতিশব্দ বা প্রতিধ্বনির ভাব। 2 তত্ক্ষণাত্; তাড়াতাড়ি; তখনই তখনই; অবিলম্বে। “ঐ যে 5।7টী কমিশনের রিপোর্ট বেরিয়েছে সে সব দেখিবামাত্র টকাটক বলে দিবে।”-বি◦ কু◦ সরকার। বক্তার মুখের কথা বেরুতে না বেরুতে রিপোর্টার সর্টহ্যাণ্ডে টকাটক লিখে যেতে লাগ্লো। যেমন বলবে অমনি টকাটক আপনার নোটবুকে তুলে নেবে।”-ঐ।
ট̆কান [টক + আন (বাং-ক্রিয়া বিভক্তি)] ক্রি, টক করিয়া ফেলা; আমলাইতে দেওয়া।
ট̆কাস-ট̆কাস-টক1 দ্রঃ।
ট̑কুআ,-য়া [টক = অম্ল + উআ (বির্থে◦)। গ্রা◦-টোকো] বিণ, অম্লবিশিষ্ট; অম্লরসযুক্ত।
ট̑কুই [হি◦ টোকরী ]। প্রাদে◦ বি, ধুচুনী; চাউল ধোয়া পাত্রবিঃ।
ট̆ক্কর, ট̆ক্র1 [হি◦] বি, উছ্ট্; ঠোকর। “ঘোড়াসকল টক্কর খাইতে লাগিল।” (রাজসিংহ)। 2 পরস্পর আঘাত; সংঘর্ষণ; ধাক্কা। প্র-রেলের গাড়ীতে গাড়িতে টক্কর লাগা। 3 প্রতিযোগিতা। “আমাদের সঙ্গে এসে দিতে চায় সব কিনা টক্কর”-দ্বি◦ রায়। ক্রি, টকরান̑, টক্রান। [দ্রঃ-খাওয়া এবং দেওয়া যোগে টক্কর শব্দ ক্রিয়াপদ হয়। ট̆◦ খাওয়া-ঠোকর খাওয়া (= প্রাপ্ত হওয়া) । ট̆◦ দেওয়া-প্রতিযোগিতা করা়]।
ট̆ক্ক̑রাট̆ক্ক̑রি,-ট̑ক্কুরি, টক্রাট̑ক্রি [টক্কর + আ (প্রতি- যোগিতার্থে) টক্কর + ই। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগের বাং] বি, দুই পক্ষের মধ্যে পরস্পর প্রতিযোগিতা; পক্ষ এবং বিপক্ষের উত্কর্ষাপকর্ষ; প্রতিদ্বন্দ্বিতা; বিরুদ্ধাচরণ; প্রতিপক্ষতা; “প্রতিযোগী পরীক্ষার টক্করা- টক্করিতে প্রধানতঃ তিনটি দোষ দেখা যায়” -সাধনা 2য় বর্ষ। 2 তর্কাতর্কি। ট̆◦ ক̆রা [বাং-য় ‘করা’ যোগে নিষ্পন্ন ক্রিয়া- পদ] ক্রি, প্রতিযোগিতা করা; প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। ট◦ দেওয়া-পাল্লা দেওয়া। 2 তর্কাতর্কি করা। “শিবশঙ্কর দাস একদিন শীরখাঁ নাজিরের সহিত টক্রাটক্রি দেওয়ার জন্য রেশমের কুঠীর 2000 হাজার তলবদারকে একেবারে দেখিতে পারিত না।”-কালীকমল সার্ব্বভৌম (বঙ্গ সাহিত্য পরিচয়, 2য় ভাগ)।
ট̆ক্র2, ট̑ক্রু [সং-তর্কু ] বি, সূত্র পাক দিবার যন্ত্রবিঃ; টাকুর spindle.
ট̆গব̆গ [অনু়◦] বি, ঐরূপ শব্দ। 2 ফুটন্ত জলের শব্দ; অত্যুষ্ণ জলে তণ্ডুলাদি ফুটিবার শব্দ। এই অর্থে প্রা◦-বাং-‘টকভক’ শব্দের প্রয়োগ। “বৈতরণীর জল ফুটি করএ টকভক।”-শূ◦ পু◦। 3 দ্রুতগামী অশ্বাদির পদশব্দ। এই অর্থে ‘টগাবগ’ শব্দেরও প্রাদেশিক ব্যবহার আছে।
ট̆গ̆র [সং-তগর ] বি, পুষ্পবিঃ tabernæmontana coronaria. 2 তগর পুষ্প; টগর ফুল। গ্রা◦-“টগ্গ̑র”। “তারা নামে টগ্গর ফুল।”-ছড়া।
ˋট̆গরা, ˋট̑গরে [সং-টগর (হাব, লীলা, বিভ্রম) ] বিণ, চালাক; সেয়ানা (শিশুর প্রতিই প্রযুক্ত হয়)।
ট̆গে-ট̆গে [তর্কেতর্কে দ্রঃ। গ্রা◦- তক্কে তক্কে তাকে তাকে , ত = ট, ক = গ] ক্রি-বিণ, সতর্কতার সহিত; সাবধানে। প্র- টগেটগে পা ফেলে যাওয়া। 2 সন্ধানে। প্র-সে টগেটগে থেকে একদিন তাকে ধরে ফেল্লে।
ট̆ঙ, ট̆ঙ্গ, টং [তুঙ্গ (উচ্চ) ] বি, মঞ্চাদির উপরিস্হিত ক্ষুদ্র কুটীর। 2 মাচা; মাচান। “দেখিবারে পাইল বোঁচা টঙ্গের উপর।”-কবিক◦। 3 বৃক্ষাবাস। “পারা- বতের দল যাহাতে সুখে-স্বচ্ছন্দে থাকিতে পারে এজন্য প্রায় প্রতি গৃহেই টঙ তৈয়ার করা আছে।”-ভারতী, 1333। 4 জলাশয় বক্ষে নির্ম্মিত অট্টালিকা।

টংকিত [সংস্কৃত টঙ্ক (পরিমাণ-বিশেষ)] বিশেষ্য ঠাউকো বা আনুমাণিক পরিমিত জমি।
টুঁইভুঁই [সংস্কৃত তুঙ্গ ও ভূমি] বিশেষ্য মটকা ও ভূমি; মটকাভূমি; ভূমি হতে চালের মটকা বা মটকা হতে ভূমি পর্যন্ত।
টৈটুম্বুর [টই (পরিপূর্ণ অর্থে) + টুম্বুর (তুম্ববৎ স্ফীত)] বিশেষ্য পরিপূর্ণ; ছাপাছাপি; কাণেকাণ। ‘পুকুর জলে টইটুম্বুর হয়েছে। জল খেয়ে পেট টইটুম্বুর করা।’ টায়টায় (= টাঁইটাঁই) দ্রষ্টব্য।
টোয়টুম্বুর [টই (পরিপূর্ণ অর্থে) + টুম্বুর (তুম্ববৎ স্ফীত)] বিশেষ্য পরিপূর্ণ; ছাপাছাপি; কাণেকাণ। ‘পুকুর জলে টইটুম্বুর হয়েছে। জল খেয়ে পেট টইটুম্বুর করা।’ টায়টায় (= টাঁইটাঁই) দ্রষ্টব্য।
Scroll Up