এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।

প্রকাশিত ভুক্তি 940 টি।

এ পাতায় আছে 16 টি।

(ইঁঅঁ) বাংলা ব্যঞ্জন বর্ণমালার দশম, চবর্গের পঞ্চম, অনুনাসিক বর্ণ। উচ্চারণস্থান তালু। অন্য বর্ণের সাথে যুক্ত হলে এর উচ্চারণ তালু ও নাসিকা সাহায্যে অনেকটা “ঙ্যঁ” মত হয়। কিন্তু চ বর্গের অন্য চারবর্ণের সাথে যুক্ত হলে ন্-বৎ হয়, যথা— ‘অঞ্চল, সঞ্চয়’ ইত্যাদি।
চলিত বাংলায় স্বতন্ত্র ব্যবহার নাই। কিন্তু প্রাচীন বাংলায় অনুনাসিক উচ্চারণ বা চন্দ্রবিন্দুস্থলে ভূরি ব্যবহার ছিল। ‘রাধাঞে’ (= রাধাএঁ = রাধায় = রাধাকে), কাহ্নাঞি, পাইঞাঁ’ ইত্যাদি। ‘নিশ্চয় জানিও মুঞি ভখিমু গরলে’, শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস; ‘পূর্ব্বে সুচিত্রা নাম ইঞির হব খ্যাতি’ (ইঞির = ইঁহার), সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা ১৩১৮ শকাব্দ। ‘তেঞি কিয়ে তেজবি কান’, গোবিন্দ দাস; আধুনিক বাংলা ‘আ, য়া, ইয়’ স্থলে প্রাচীন বাংলায় ‘ঞ’। ‘অমিঞা আগোরল’ গোবিন্দ দাস; এত বলি এক গ্রাস অন্ন হাতে লঞা; উঝালি ফেলিল আগে যেন ক্রুদ্ধ হঞা’ চৈতন্য চরিত; ‘দিঞাছিল’, উদ্ধবানন্দের রাধিকা মঙ্গল; একাক্ষর-কোষধৃত অর্থে প্রাচীন বাংলা পদ্যে ও গদ্যে এর স্বতন্ত্র কিন্তু বিরল ব্যবহার দৃষ্ট হয়।
বিশেষ্য অনুনাসিক বাদ্য বা কণ্ঠধ্বনি; তানপূরা আদি তত যন্ত্রের ঝঙ্কার। ইঞ্জিন আদির লৌহচক্রের ঘূর্ণন বা ঘর্ষণ শব্দ; ঘর্ঘর ধ্বনি; ঞকার গায়ন। শুক্রাচার্য্য। [সংস্কৃত অহম্ আমি আইঁ এঁ ঞ] এই আমি; এজনা। ‘ঞকার কারিণী, ঞ চরণে তোমার।’ বাসবদত্তা6 [সংস্কৃত] ক্রূর। ষণ্ড। স্বধর্মচ্যুত যোগী। 9 [তন্ত্রে] পরম কুণ্ডলী।
-ঞঁ [যেঁ = ত্রঁ = তে = হিন্দি নে (সকর্মক ক্রিয়ায় কর্তৃবাচক শব্দের প্রত্যয়) = হিন্দি সে = বাংলা হতে, দিয়ে। প্রাচীন বাংলায় প্রায় সকল বিভক্তির রূপ। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে) -মাঞঁ (মা), তোঞ (তুমি), রতীঞঁ (রতি-হেতু), সুরতীঞঁ (সুরত দ্বারা), যুগতীঞঁ (যুক্তিতে)। ‘রাহুঞঁ (= রাহু) গিলল যেন চাঁদ সুধাকর’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০; ‘এবেঁ দৈবকীঞঁ যত গবৃর্ভ ধরিব।‘ বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞকার (য়্যেঁকার) বিশেষ্য ঞ এই বর্ণ। ঘর্ঘর ধ্বনি। ‘ঞকার ঘর্ঘর ধ্বনি’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর গায়ন। ‘গায়ন ঞকার’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। ঘোর নাদ; হুঙ্কার। ‘ঞকার করিয়া এস’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। ধর্মে অনাসক্ত চিত্ত। ‘ঞকার করিয়া এস ঞকারে আমার’ অন্নদামঙ্গল, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর, ১৭৬০। রুদ্র। ‘রুদ্রও ঞকার’ বাসবদত্তা
ঞকারকারিণী বিশেষ্য, স্ত্রীলিঙ্গ ঘোর নিনাদিনী; মহা ভয়ঙ্কর হুঙ্কারকারিণী, চণ্ডী; কালিকা। ‘ঞকারকারিণী ঞ চরণে তোমার’ বাসবদত্তা
ঞন্দ্র [সংস্কৃত ইন্দ্র] বিশেষ্য ইন্দ্র। ‘ঞন্দ্রের আপদ হরো কৃপায় কেবল।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৭২০।
ঞশান [সংস্কৃত ঈশান] বিশেষ্য ঈশান। ‘ঞশান বনিতা তুমি ইন্দ্রিয় সকল।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৭২০।
ঞা, ঞাঁ [আধুনিক বাংলায় -য়া,-ইয়া] ধাতুর প্রত্যয়বিশেষ। য়া স্থলে ৪০০ বত্সর পূর্ব্বের প্রাচীন বাংলায় চালু ছিল। ‘রাধাক এড়িঞা জায়িতেঁ কাহ্ন কৈল মন’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন; ‘কান্দে ইন্দ্রদুম্ন্য বিষাদ ভাবিঞা। কোন কর্ম্ম করিল ব্রহ্ম পুরী গিঞা’ চৈতন্য মঙ্গল। (প্রাচীন বাংলা লঞাঁ, গিঞা, ভাবিঞা, করিঞা = আধুনিক বাংলায় লইয়া, গিয়া, ভাবিয়া করিয়া, ইত্যাদি)।
-ঞিঁ [হিন্দি হিঁ, হী] সপ্তমী বিভক্তি, আধুনিক বাংলায় য়, ই। ‘হেন মনে গুণী বড়ায়ি গেলান্তি তথাঞিঁ’ (= তথাহিঁ = তথাহীঁ = তথায়ই = সেইখানে)। বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞি বিশেষ্য প্রেরণার্থে ধাতুর প্রত্যয়বিশেষ; ণিচ্ প্রত্যয়ের রূপান্তর।
ঞিহ (ইঁহ) [প্রাচীন বাংলা ইঁহ, তুলনামূলক তিহঁ = তিনি] সর্বনাম ইহা; ইনি; তিনি। ‘তাঁর প্রিয়শিষ্য ঞিহো পণ্ডিত হরিদাস।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৫৮০; ‘ঞিহ আমাদিগের বেরাদরির মধ্যে।’ মহারাজ নন্দকুমারের পত্র, ১১৭৮ শকাব্দের খত, সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা।
ঞিহাকে সর্বনাম একে। ‘ঞিহাকে জিজ্ঞাসা কর।‘ সমাচার দর্পন, ১৮২১।
ঞিহার (ইঁহার) [প্রাচীন বাংলা] সর্বনাম ইঁহার; এর। ‘কাজী যবন কেহো ঞিহার না কর হিংসন।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৫৮০; ‘ঞিহার স্থানে বিস্তারিত জ্ঞাত হইয়া কার্য্য করিবে।’ মহারাজ নন্দকুমারের পত্র, ১১৭৮ সালের খত, সাহিত্য পরিষৎ পত্রিকা।
ঞিহাঁরে সর্বনাম এঁকে। ‘ঞিহাঁরে পূজিবে পুরন্দর আদি রাজা।‘ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, ১৬০০।
ঞেঁ [= এঁ] উত্তম পুরুষ বিভক্তি। মোঁঞে = মোএঁ = আমি। ‘এড় ঘর যাঞোঁ মোঞেঁ শকতি না কর।’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞোঁ [প্রাচীন বাংলা] উত্তম পুরুষ ক্রিয়া বিভক্তি। যাঞোঁ = যাই। ‘এড় ঘর যাঞোঁ মোঞেঁ শকতি না কর।’ শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন, বড়ু চণ্ডীদাস, ১৪৫০।
ঞ্যন্ত [ঞি + অন্ত] বিশেষণ ঞি এই প্রত্যয় যে শব্দের অন্তে আছে; ণিজন্ত প্রত্যয়। বিশেষ্য ঞি-প্রত্যয়ান্ত শব্দ।
Scroll Up