চন্দ্রবিন্দু
সংজ্ঞা
  1. চন্দ্রবিন্দু (ঁ) একটি পরাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্যপূ্র্ণ বা নাসিক্য ধ্বনিনির্দেশক চিহ্ন যা দেখতে একটি অর্ধচন্দ্র (অর্ধেক চাঁদ) আকারের উপর একটি বিন্দুর ন্যায়। এর উৎস সংস্কৃত ভাষা ও ব্রাহ্মী লিপি থেকে এবং এর ব্যবহার দেবনাগরী, বাংলা, গুজরাটি, ওড়িয়া, তেলুগু ও জাভানীয় লিপিতে। এই চিহ্নের অর্থ পূর্বের স্বরধ্বনিটি আনুনাসিক (“নাকা”) হবে।
অন্য ভাষায় চন্দ্রবিন্দু
  1. ওড়িয়া — (ଁ)
  2. গুজরাটি — (ઁ)
  3. জাভানীয় — (ꦀ)
  4. তেলুগু — (ఁ)
  5. দেবনাগরী — (ँ)
  6. বাংলা — (ঁ)
অন্য ভাষায় চন্দ্রবিন্দু
বাংলা বানান রীতিতে চন্দ্রবিন্দু ঠিক কোথায় ব্যবহৃত হবে, এ নিয়ে একটা সময় সংশয় ছিল। কারণ, পুরানো বই পত্রে দেখা গেছে, এই চিহ্নটি ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট বিধি অনুসৃত হয় নাই। ৯০ দশকের দিকে কম্পিউটারে যখন বাংলা ফন্ট উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গবেষণা শুরু করে, তখন প্রথিতযশা কোন ভাষাতাত্ত্বিকদের ছাড়াই তাঁরা এর নিষ্পত্তি করে ফেলেছিলেন। এক্ষেত্রে তাঁরা একেবারেই যে তাঁদের স্মরণাপন্ন হন নি, তা নয়। কিন্তু এক্ষেত্রে ভাষাতাত্ত্বিকরা অনেক সময়ই একমত হতে পারেন নি। শেষ পর্যন্ত বাংলা ফন্ট নির্মাতারা যাবতীয় বাংলা বর্ণবিন্যাসের প্রক্রিয়াটির ক্রমোন্নয়ন করেছিলেন সহজাত অনুভব থেকে এবং এখনো অনেকে এই কাজটি করে চলেছেন। এঁদের মাধ্যমে চন্দ্রবিন্দু কোথায় উপস্থাপিত হবে তা একরকম নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। পরবর্তী সময়ে ইউনিকোডে-এর মাধ্যমে তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। এই বিধিটি হলো–
  1. কারবিহীন ব্যঞ্জনধ্বনির উপরে চন্দ্রবিন্দু থাকবে। যেমন– কঁ।
  2. যে সকল ব্যঞ্জনবর্ণের ডানদিকে কার চিহ্ন থাকে, সে সকল ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত কার-চিহ্নের উপর চন্দ্রবিন্দু বসবে। যেমন– কাঁ, কীঁ।
  3. যে সকল বর্ণের কার-চিহ্ন ব্যঞ্জনবর্ণের আগে বা নিচে থাকবে, সে ক্ষেত্রে চন্দ্রবিন্দু ব্যঞ্জনবর্ণের উপরে বসবে। যেমন– কিঁ, কুঁ, কূঁ, কেঁ, কৈঁ।
  4. যে সকল কারধ্বনি ব্যঞ্জনবর্ণের উভয় দিকে বসে, সে সকল ব্যঞ্জনবর্ণের ডানদিকের কার-চিহ্নের উপরে চন্দ্রবিন্দু বসবে। যেমন– কোঁ, কৌঁ।
ঁ (চন্দ্রবিন্দু) : হিন্দু মত
  1. হিন্দু তন্ত্রমতে চন্দ্রবিন্দুকে বিন্দুরূপার প্রতিরূপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই কারণে শক্তিবিগ্রহের পূর্বে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয়। যেমন- শ্রীশ্রী ৺শারদীয়া পূজা।
  2. হিন্দু মৃত ব্যক্তির নামের আগে চন্দ্রবিন্দু ব্যবহার করা হয়। মৃতব্যক্তি স্বর্গগত হয়েছে বা ঈশ্বরপ্রাপ্ত হয়েছে এই বিচারে এই ঈশ্বরের প্রতীক হিসাবে চন্দ্র ব্যবহৃত হয়। যেমন – ৺কৃষ্ণধন মুখোপাধ্যায় (মৃত কৃষ্ণধন বন্দ্যোপাধ্যায়)।
তথ্যসূত্র
  1. পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী। শ্রীদেবেন্দ্র কুমার বিদ্যারত্ন সম্পাদিত। বলরাম প্রকাশনী। মহালয়া, ২০০৩।
  2. বঙ্গীয় শব্দকোষ। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাহিত্য অকাদেমি। পঞ্চম মুদ্রণ ২০০১।
সম্পর্কিত
প্রস্তাবিত