এযাবৎ 940 টি ভুক্তি প্রকাশিত হয়েছে।
ভুক্তি অকূল
আদ্যক্ষর
মূলশব্দ
প্রয়োগ
অকূল [সংস্কৃত ন = অ (নাই) কূল (তীর) যার – বহুব্রীহি সমাস] বিশেষণ যার তীর নাই; তীরহীন; কূলহীন; অপার। ‘নৌকা লয় অকূল সাগরে।‘ কৃষ্ণরাম দাস, ১৭২০। অনন্ত; অসীম; সীমাহীন। গাও রে আজি নিশীথ-রাতে অকুল-পাড়ির আনন্দগান।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯০৬; ‘তখন আছিলে তুমি একাকিনী অখণ্ড অকূল আত্মহারা,’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অতি বিস্তৃত; সুবিশাল। ‘অকূল সাগর জলে ভাসে একাকিনী।’ মেঘনাদবধ কাব্য, মাইকেল মধুসূদন দত্তবিশেষ্য সাগর; সমুদ্র; সিন্ধু। ‘ঢেউ দেখে যে ভয় পাবে না, অকূল পারে নেযাই তারে।’ গিরিশচন্দ্র ঘোষ, ১৮৮৭। [দ্রষ্টব্য — অপার অতল সাগরের সহিত তুলনীয় বলিয়া রূপকচ্ছলে জীবন সংসার, প্রেম, শোক ইত্যাদির সিন্ধু বুঝাইতে অকূল শব্দ ব্যবহৃত হয়।] যার কূল কিনারা নাই; যার ঠিক ঠিকানা নাই; যে বিষয়ের অন্ত বা তল পাওয়া যায় না। ‘অকূল মাঝে ভাসিয়ে তরী যাচ্ছি অজানায়।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিকানা; ঠাঁই; গৃহ বা সমাজের আশ্রয়শূন্যতা; ভরসা বা সহায়হীনতা; অশরণ; অনাশ্রয়। ‘বুঝি কালী অকূলেতে কুলাইল কূল।’ বাসবদত্তা; ‘কুল ত্যজে হে অকূলে ভাসি,’ গিরিশচন্দ্র ঘোষ, ১৮৮৭; ‘আমার দিন কি যাবে এই হালে আমি পড়ে আছি অকূলে।‘ লালন, ১৮৯০। নিরুপায়; যার কোনো আশ্রয় নেই। ‘সুখ দুঃখ মাঝে দোলে, নিবিড় আঁধারে, অকূলে না কুল পায়, দারুণ শৃঙ্খল পায়। নিরানন্দ নিরুপায়, পলাইতে নারে,’ গিরিশচন্দ্র ঘোষ, ১৮৮৭। সঙ্কট; বিপদ; শোকতাপ; দুঃখ; ভবযন্ত্রনা। ‘রাখ অকূলে তনয়ারে তারিণী।’ গিরিশচন্দ্র ঘোষ; ‘ছিল যারা অনুকূল, তারা হয়ে প্রতিকূল, যায় চলে অকূলে ফেলিয়া।’ বাসবদত্তা; ‘ফেলিয়া অকুলে, সে গেছে অকূলে’ গিরিশচন্দ্র ঘোষ [এইঅর্থে ‘অকুল’ শব্দও প্রাচীন বৈষ্ণব সাহিত্যে আছে]। অপার ভুবন। ‘চলবি ছুটে অকূল পানে।‘ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ১৯১৬। অপার শুন্য জগৎ। ‘আশমানে তারা চায় – চলে আয় এ অকৃল।‘ কাজী নজরুল ইসলাম, ১৯২৬। জানা নেই এমন স্থান। ‘সকালের রূঢ় রৌদ্রে ডুবে যেত কোন অকূলে।‘ জীবনানন্দ দাশ, ১৯৪২।
সম্পর্কিত ভুক্তি
আপনার জন্য প্রস্তাবিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll Up